ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ: চীনকে নিয়ে এল ভারতের কাছাকাছি | daily-sun.com

ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ: চীনকে নিয়ে এল ভারতের কাছাকাছি

ডেইলি সান অনলাইন     ১ জুলাই, ২০১৮ ১৮:৩৩ টাprinter

ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ: চীনকে নিয়ে এল ভারতের কাছাকাছি

 

মার্কিন বাণিজ্য স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা এশিয়ার দুই বড় দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত আর চীন।

১৯৬২ সালে দুই দেশের মধ্যে সঙ্ঘটিত যুদ্ধের পর গত বছরই সীমান্ত সঙ্কট নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বড় সঙ্কট তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনার মাত্র এক বছরের মাথায় দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হতে শুরু করেছে।


মে মাস থেকে চীন ভারতের বাসমতি ছাড়া অন্য ধরণের চাল রফতানি সহজ করে দিয়েছে, ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধের উপর থেকে আমদানি শুল্ক তুলে নিয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমে অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহের তথ্য সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে।


এপ্রিল মাসে দুই দফা বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেন তারা।


দুই দেশের এই ঘনিষ্ঠতাকে সম্ভব করে তুলেছে যেটা, সেটা হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অননুমেয় বাণিজ্য নীতি।


চীন, কানাডা, মেক্সিকো এবং ইউরোপিয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে শুল্ক হুমকি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অনেকে এরইমধ্যে পাল্টা পদক্ষেপও নিয়েছে।


গত সপ্তাহে ভারতও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

বেশ কিছু মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করেছে তারাও।


ভারত-ভিত্তিক একটি বাণিজ্যিক থিঙ্ক ট্যাঙ্কের নির্বাহী প্রধান বিপুল চ্যাটার্জি বলেন, “চীন এটা বুঝতে পেরেছে যে, বাণিজ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি খুব অল্প দিনে বা মাসের মধ্যে শেষ হবে না। ”


“একসাথে একাধিক ফ্রন্টে লড়তে চায় না তারা। তাদের মনোযোগ এখন মার্কিনীদের মোকাবেলার দিকে। ”


অনেক পর্যবেক্ষণ যে প্রশ্নতা তুলছেন, সেটা হলো ভারতের সাথে চীনের এই দহরম মহরম সম্পর্ক স্থায়ী হবে কি না।


পৃথিবীর সবচেয়ে অধিক জনসংখ্যার এই দেশ দুটের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে উত্তেজনা চলে আসছে। সীমান্ত সঙ্ঘাত এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা বেড়েছে।


লণ্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. হার্শ প্যান্ট বলেন, “আমার মনে হয় না সম্পর্কের মূল নীতিগুলো বদলাবে। তবে ট্রাম্পের নীতি তাদেরকে নিজেদের স্বার্থের অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। ”


যে সব কারণ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী হতে বাধা হতে পারে, সেগুলো হলো:


১. বাণিজ্য ঘাটতি: চীনের সাথে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৯০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর ভারত চীনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ হিসেবে আবীর্ভূত হয়েছে।


দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৬৩ বিলিয়ন ডলার, যেটা ভারতের জন্য বিশাল বোঝা। চীনের কাছ থেকে ভারি যন্ত্রপাতি, টেলিকম সরঞ্জাম এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্স আমদানি করার কারণে এই বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে।


২. সীমান্ত সঙ্ঘাত: গত বছর দোকলাম এলাকায় দুই পারমানবিক শক্তিধর প্রতিবেশী একে অন্যের মুখোমুখি হয়েছিল। চীন সেখানে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করলে ভুটানের অনুরোধে ভারত সেখানে বাধা দেয়। এতে করে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরপর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাস পায় এবং দুই দেশ দোকলাম এলাকা থেকে সেনাবাহিনীকে সরিয়ে নেয়। পরে দুই দেশের নেতা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মতভেদের বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ব্যাপারে সম্মত হন।


৩. বেল্ট অ্যাণ্ড রোড: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা হলো চীনের বেল্ট অ্যন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প। এই প্রকল্পটিকে ভারত নিজেদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বিবেচনা করে।


- সূত্র: ব্লুমবার্গ অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top