রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার প্রস্তুত: জানালেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী | daily-sun.com

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার প্রস্তুত: জানালেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ৩০ জুন, ২০১৮ ১৬:১৩ টাprinter

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার প্রস্তুত: জানালেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে মনে করছে চীন। আর এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতাও করবে দেশটি।

শুক্রবার (২৯ জুন) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাতে চীনের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এ মতামত জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।


গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ওয়াং ই জানান, বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর দফতরের মন্ত্রী কিয়াও টিন্ট সোয়ে’র সঙ্গে বেইজিংয়ে সাক্ষাৎ করেন। এসময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়ার ব্যাপারে তাদের কথা হয়। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার এরইমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা সত্যিই প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া দেখতে চাই। বিশেষ করে প্রথম পর্যায়ের প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব দেখতে চাই।


তিনি বলেন, চীন এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে এবং যৌক্তিক ভূমিকা রাখবে। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য চীন আবাসন নির্মাণ করেছে।

বাংলাদেশেও তাবু নির্মাণ ও মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে চীন। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্য দিয়ে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শুরু হবে বলে মনে করি।


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রোহিঙ্গা নিয়ে ওয়াং ই-এর সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়েছে। সেই অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য চীনের সহযোগিতা চেয়েছি। চীন এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

 


প্রসঙ্গত, গত বছর আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বাস করছে। সম্প্রতি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্র্রেশন সম্পূর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭১ জন রোহিঙ্গার। এদের মধ্যে পুরুষ হচ্ছে ৪৮ শতাংশ এবং মহিলা ৫২ শতাংশ। এছাড়া শিশু রয়েছে ৫৫ শতাংশ, এতিমের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন, এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৭১ জন তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলেছে। ১৮ হাজার মহিলা রয়েছেন গর্ভবতী, এরই মধ্যে শিশুর জন্ম হয়েছে ২৯ হাজার ২৮৯টি। এতে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের কারণে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় হাজারও কৃষক তাদের জমির ধান থেকে কোনো ফসল পাননি। অনেকেই তাদের জমি হারিয়েছেন।


এছাড়া ইতিমধ্যেই প্রায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন কেটে তৈরি হয়েছে রোহিঙ্গাদের ঘর। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জ্বালানির চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়ত বনের গাছ কাটা হচ্ছে।


সাড়ে ৪ হাজার একর জায়গার মধ্যে ৩৫ হাজার পায়খানা এবং ৭ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। ফলে উখিয়ার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। এ কারণে পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও করিডরে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তাদের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

 


Top