আজ ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট | daily-sun.com

আজ ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট

ডেইলি সান অনলাইন     ৩০ জুন, ২০১৮ ১০:৪৫ টাprinter

আজ ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট

 

মিয়ামারের রাখাইনে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বাস্তব দুর্দশা দেখতে বাংলাদেশ সফরে আসছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। শনিবার (৩০ জুন) দিবাগত রাতে ২ দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন এই দুই সংস্থার প্রধানরা।


ঢাকায় আসার পর অ্যান্টোনিও গুতেরেস ও জিম ইয়ং কিম কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিস ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, ১ জুলাই বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন আন্তেনিও গুতেরেস ও জিম ইয়ং কিম। সাক্ষাৎ শেষে জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু স্মতি জাদুঘর ঘুরে দেখবেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আন্তেনিও গুতেরেস ও জিম ইয়ং-এর সৌজন্যে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


২ জুলাই তারা কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখবেন এবং সেখানে ত্রাণ বিতরণের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন। এই সঙ্কট নিরসনে আর কী কী করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করবেন তারা।


জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) নির্বাহী পরিচালক নাটালিয়া কানেমও এই সফরে তাদের সঙ্গে থাকছেন বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সফর শেষে ৩ জুলাই তারা বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন।


সূত্র জানায়, অ্যান্টোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআরের প্রধান থাকাকালে ২০০৮ সালে একবার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে এসেছিলেন। কিন্তু জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে এটাই তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের এটি দ্বিতীয় সফর। গত বছর বিশ্ব দারিদ্র্য নিরসন দিবস পালনের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।


এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষনা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ অর্থ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও পয়ঃনিস্কাশন, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অর্থ ব্যয় হবে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সহায়তার কথা জানানো হয়।


বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরদের এক বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এ কারণে স্বাস্থ্যখাতে সহায়তা প্রকল্পে অতিরিক্ত ৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করে।


প্রসঙ্গত, গত বছর আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বাস করছে। সম্প্রতি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্র্রেশন সম্পূর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭১ জন রোহিঙ্গার। এদের মধ্যে পুরুষ হচ্ছে ৪৮ শতাংশ এবং মহিলা ৫২ শতাংশ। এছাড়া শিশু রয়েছে ৫৫ শতাংশ, এতিমের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন, এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৭১ জন তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলেছে। ১৮ হাজার মহিলা রয়েছেন গর্ভবতী, এরই মধ্যে শিশুর জন্ম হয়েছে ২৯ হাজার ২৮৯টি। এতে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের কারণে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় হাজারও কৃষক তাদের জমির ধান থেকে কোনো ফসল পাননি। অনেকেই তাদের জমি হারিয়েছেন।


এছাড়া ইতিমধ্যেই প্রায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন কেটে তৈরি হয়েছে রোহিঙ্গাদের ঘর। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জ্বালানির চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়ত বনের গাছ কাটা হচ্ছে।


সাড়ে ৪ হাজার একর জায়গার মধ্যে ৩৫ হাজার পায়খানা এবং ৭ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। ফলে উখিয়ার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। এ কারণে পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও করিডরে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তাদের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

 


Top