নির্বাচনে নাশকতার ষড়যন্ত্রের অডিও ক্লিপ প্রকাশ, বিএনপি নেতা মেজর মিজান গ্রেফতার | daily-sun.com

নির্বাচনে নাশকতার ষড়যন্ত্রের অডিও ক্লিপ প্রকাশ, বিএনপি নেতা মেজর মিজান গ্রেফতার

ডেইলি সান অনলাইন     ২৬ জুন, ২০১৮ ১৭:৫২ টাprinter

নির্বাচনে নাশকতার ষড়যন্ত্রের অডিও ক্লিপ প্রকাশ, বিএনপি নেতা মেজর মিজান গ্রেফতার

 

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নাশকতার ছক তৈরির অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মিজানুর রহমান মিজানসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার (২৬ জুন) রাত ৩টার দিকে গুলশান ১ নম্বরের ৮ নম্বর সড়কের ১০ নম্বর বাসা থেকে মেজর মিজানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে রাত ১টা থেকে সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ তার বাসা ঘিরে রাখে।


নির্বাচনে নাশকতার ষড়যন্ত্র করার প্রমাণ হিসেবে দুইটি অডিও ক্লিপ সংগ্রহ করেছে ডিবি পুলিশ। ক্লিপ দুইটি জব্দ করার পরই মিজানকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে Conspiracy Leaks TV নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে সেই দুইটি অডিও ক্লিপের একটি প্রকাশ করা হয়েছে।


জানা গেছে, ফাঁস হওয়া ওই অডিও ক্লিপটিতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের যুবদলের স্থানীয় নেতা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে কথা বলছিলেন বিএনপির এই নেতা। কথোপকথনের সময় সাইফুলকে তিনজন ছেলে প্রস্তুত রাখতে বলেন মিজান, যারা আওয়ামী লীগের ব্যাজ লাগিয়ে ভোট কেন্দ্রে ঘুরতে পারবে।  


নাশকতার ছক কষার দুইটি অডিও ক্লিপ সংগ্রহ করার পর তা বিএনপি নেতা মেজর মিজানের বলে স্পষ্ট হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তবে বাকি চারজনের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।


এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, গাজীপুরে নির্বাচন কেন্দ্রিক নাশকতার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এমন অডিও ক্লিপ পাবার পর নিশ্চিত হয়েই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে মামলা হচ্ছে। এছাড়া মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় একাধিক মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।


অডিও ক্লিপ-১ এ যা আছে:

 

 


-স্লামালাইকুম।


মেজর (অব.) মিজানুর রহমান: ওয়ালাইকুম সালাম। কেমন আছো?


-আছি মোটামুটি।


মেজর মিজান: আচ্ছা, তোমাদের এখান থেকে যে কাশিমপুর ইউনিয়নের যে ভোটকেন্দ্র, কতটুক দূর?


-মানে আমাদের পাশেরডা হইলো এক নম্বর ওয়ার্ড।


মেজর মিজান: হ্যাঁ, এটা তোমাদের এখান থেকে কতটুকু দূর, ভোটকেন্দ্রটা?


-এই ১৮ কিলো হইবো। এক নম্বর ওয়ার্ডে কেন্দ্র হইলো তিনটা।


মেজর মিজান: আচ্ছা, ওখানে তোমাদের ক্লোজ বন্ধু-বান্ধব আছে?


-হ্যাঁ।


মেজর মিজান: আচ্ছা, এখানে আমাকে একটা ছেলে, পারলে দুইটা ছেলে দাও। যারা আওয়ামী লীগের ব্যাচ লাগিয়ে ঘুরতে পারবে। এরকম কিছু ছেলে ম্যানেজ করতে পারবা?


-হ্যাঁ, এরকম আছে।


মেজর মিজান: আছে? প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের লোক নাও, যারা মনে মনে বিএনপি। আছে এমন?


-জ্বি আছে।


মেজর মিজান: তিনটা ছেলে সিলেক্ট করো। তিনটা ছেলে সিলেক্ট করো, হ্যাঁ? ওরা নৌকার ব্যানার নিয়ে ঘুরবে। ওদের আমি বলে দেবো। ওদের টাকা-পয়সা দিয়ে দেবোনে। আমি ইলেকশনের দিন যন্ত্রপাতি দিয়ে দেবোনে। তুমি ছেলে তিনটা আগে সিলেক্ট করো। তিন সেন্টারের জন্য তিনজন। ওকে?


-ওকে?


মেজর মিজান: ওকে। শোনও, শোনও, শোনও, শোনও। যে পোলিং সেন্টারটা, মানে যেকোনো তিনটা পোলিং সেন্টারের যেকোনো একটা সেন্টারের পাশে আমাদের লোকের বাড়ি থাকতে হবে। যে বাড়ির জানালার পাশে বসে... দোতলা কিংবা তিনতলা বাড়ি থাকলে ভালো হয়।


-আমি রেডি করবোনে।


মেজর মিজান: হ, হ, রেডি করো, আর তিনটা ছেলেকে রাখবা, অন্য কাজে। ওই তিনটা ছেলে আওয়ামী লীগের ব্যাচ লাগিয়ে ঘুরবে।


-আচ্ছা, ঠিক আছে।


মেজর মিজান: আচ্ছা, ঠিক আছে।


অডিও ক্লিপ-২তেএ যা আছে:

 

 


-স্লামালাইকুম।


মেজর (অব.) মিজানুর রহমান: ওয়ালাইকুম সালাম। আচ্ছা, তোমার খবরের বার্তা কী? কদ্দুর কী করতে পারতেছো?


-ওই লোক ঠিক করছি। বাসাডা ঠিক করতে পারি নাই এখনও।


মেজর মিজান: একটা বাসা ঠিক করো। ২/৪/৫ হাজার যদি দিতেও হয়, দিয়ে দাও।


-মানে একটা বাসা ঠিক করে দেবো?


মেজর মিজান: মানে সেন্টারের পাশে। কথাটা বুঝছো?


-হ্যাঁ।


মেজর মিজান: এই লোকগুলিকে তোমাকে আনতে হবে...এই... তুমি রেডি থাকো। কয়জন লোক দিবা? একজন নাকি দুইজন?


-চারজন দেয়া যাবে, চার কেন্দ্রে চারজন। এক নম্বর ওয়ার্ডে চার-পাঁচজন দেয়া যাবে।

মেজর মিজান: আচ্ছা, তোমার কথাটাই থাক। চার কেন্দ্রে চারজন। সাহসী ছেলে রেডি রাইখো। সাহসী যেন হয়। হাত-পা যেন না কাঁপে।


-এটা কোনো সমস্যা না।


মেজর মিজান: হ্যাঁ। এগুলারে একটা গাড়ি নিয়া ঢাকায় চলে আসবা। ওদের আমি শিখাইয়া, ট্রেনিং দিয়ে ছেড়ে দেবো। বুঝতে পারছো?


-হ্যাঁ।


মেজর মিজান: নাকি বুঝো নাই?


-না বুঝছি।


মেজর মিজান: ওদের নিয়া ওইখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে আসবা। ওদের আলাদা টাকা দিয়ে দেবো। কোনো সমস্যা নাই।


-হ্যাঁ।


মেজর মিজান: ওদের শিখাইয়া দিতে হবে। একবার শিখাইয়া ওদের একবার- দুইবার ট্রেনিং দিতে হবে। বুঝতে পারছো?


-আচ্ছা।


মেজর মিজান: তুমি চারটা লোক রেডি করো। খাবার-দাবার খাও। আমি আমার জিনিসপত্র রেডি করি। তুমি নিয়া আসবা। আমি বলবোনে কোথায় আসবা। গুলশানে, উত্তরায়, যেকোনো জায়গায়, বুঝ নাই?


-হ্যাঁ।


মেজর মিজান: তুমি ওদের নাম্বার-টাম্বার নিয়া রেডি করো। হাত খরচ দিয়া দিবনে। একবার-দুইবার ট্রেনিং দিয়া দিলে ঠিক হয়ে যাবে।


-ওকে।


মেজর মিজান: ওকে।

 


Top