ভোটকেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট নাই, সত্য কিন্তু সেটা বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারণে: নানক | daily-sun.com

ভোটকেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট নাই, সত্য কিন্তু সেটা বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারণে: নানক

ডেইলি সান অনলাইন     ২৬ জুন, ২০১৮ ১৪:১২ টাprinter

ভোটকেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট নাই, সত্য কিন্তু সেটা বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারণে: নানক

 

দুই কারণে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচনের দলীয় প্রধান সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট নাই, সত্য। দুই কারণে ভোটকেন্দ্রে তাদের এজেন্ট নেই; প্রার্থীর দুর্বলতা আর দলীয় কোন্দলের কারণে অনেক জায়গায় তারা এজেন্ট উপস্থিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।  


মঙ্গলবার (২৬ জুন) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান জাহাঙ্গীর কবির নানক।  


এর আগে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেন, ভোট গ্রহণ শুরুর পর থেকে শতাধিক ভোট কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জাল ভোট, মারধর ও ভোট জালিয়াতির মহোৎসব চলছে। নজিরবিহীনভাবে বিএনপি এজেন্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে।


এর জবাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে উদরপিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টায় মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে।


আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ২০১৩ সালে গাজীপুরের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে বঞ্চিত হয়েছে। সেখানে কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় তারা দুর্নীতিবাজ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা আশা করছি, আমাদের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।


তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিভেজা সকাল থেকে গাজীপুরে শান্তিপূর্ণ ভোট চলছে। অথচ বিএনপি তাদের পুরনো অভ্যাস অনুযায়ী মিথ্যাচারের বাক্স খুলে বসেছে। তারা সরকারকে দোষারোপ করে আত্মপ্রবঞ্চনা বা স্ববিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। কারণ, এই সরকারের অধীনেই নির্বাচনে ২০১৩ সালে গাজীপুরে তারা জিতেছে।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিজ্ঞান সম্পাদক আব্দুস সবুর, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু, জিয়াউল কবির কাউছার প্রমুখ।


প্রসঙ্গত,  সকাল ৮টা থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে কনিষ্ঠতম এবং আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় এই সিটিতে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন গাজীপুর নগরবাসী।


ভোট শুরুর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সকাল ৮টা ১২ মিনিটের দিকে নিজ বাসভবন সংলগ্ন ৫৪ ওয়ার্ডের আউচপাড়ায় বছির উদ্দিন উদয়ন একাডেমী ভোট কেন্দ্রে যান বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকার। পরে ৮টা ২৪ মিনিটে তিনি ভোট প্রয়োগ করেন।


ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে বিএনপি মনোনিত এই মেয়র প্রার্থী বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব।


আর সকাল ৯টার দিকে কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এই কেন্দ্রটি থেকে কয়েক গজ দূরেই তার পৈতৃক বাড়ি। এটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩০নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। মূলত কেন্দ্রটি জাহাঙ্গীর আলমের নিজ কেন্দ্র।


ভোট কেন্দ্র থেকে বের হয়ে তিনি বলেন, জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। তারপরও জনগণ যে রায় দেবে তা মেনে নেব। সত্যকে গ্রহণ করার শক্তি আমার আছে।


এদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন নিশ্চিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আগের দিন থেকেই কেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন আছে। গাজীপুর পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রায় ১২ হাজার র‌্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


সকালে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ভোটারের সমাগম দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।


গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটানিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল জানান, ইতোমধ্যে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ৫৭টি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। তাই ৫৭টির মধ্যে ৫৬টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২৫৪জন ও সংরক্ষিত ১৯ মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৮৪জন এবং ১টি মেয়র পদের জন্য ৭ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। সর্বমোট ৩৪৫জন প্রার্থী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


উল্লেখ্য, গত ১৫ মে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় হাইকোর্টে রিট হলে আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে দুই মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ও জাহাঙ্গীর আলম এবং নির্বাচন কমিশন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ নির্বাচনের স্থগিতাদেশ তুলে দেন। ফলে নির্বাচন কমিশন ২৬ জুন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করে।


গাজীপুর সিটিতে মোট ভোটার ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ জন, নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন।

 


Top