এমপিপুত্রের ‘গাড়িচাপায় হত্যা’ ২০ লাখ টাকায় মীমাংসা! | daily-sun.com

এমপিপুত্রের ‘গাড়িচাপায় হত্যা’ ২০ লাখ টাকায় মীমাংসা!

ডেইলি সান অনলাইন     ২৪ জুন, ২০১৮ ১৯:১০ টাprinter

এমপিপুত্রের ‘গাড়িচাপায় হত্যা’ ২০ লাখ টাকায় মীমাংসা!

- এমপি একরাম চৌধুরীর ছেলে শাবাব (ছবি- ফেসবুক থেকে নেয়া)

 

এমপিপুত্র শাবাব চৌধুরীর গাড়িচাপায় রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারে সেলিম ব্যাপারীকে হত্যার ঘটনা ২০ লাখ টাকায় মীমাংসার খবর পাওয়া গেছে। নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করীম চৌধুরীর পক্ষ থেকে সেলিম ব্যাপারীর স্ত্রীকে ২০ লাখ টাকার অনুদান দেয়া হয়েছে। সেলিমের ভগ্নিপতি আবদুল আলিম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  


তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (২১ জুন) রাতে মহাখালীর ডিওএইচএসের অফিসে সবার উপস্থিতিতে আলোচনা হয়। এমপির পক্ষে যারা এসেছিলেন, তারা আমাদের ২০ লাখ টাকা দিবেন বলেছেন। এরপর আজ রবিবার সেলিমের স্ত্রী জায়না বেগমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। মামলাটি তুলে নেয়া হবে।


মঙ্গলবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে দশটার দিকে মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপরে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি প্রাইভেট কার সেলিম ব্যাপারীকে চাপা দিয়ে দ্রুত বিজয় সরণির দিকে পালিয়ে যায়। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ ১৩-৭৬৫৫। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) তথ্যমতে, গাড়িটির মালিক  কামরুন্নাহার শিউলি। তিনি নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করীম চৌধুরীর স্ত্রী ও নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চেয়ারম্যান।

শাবাব চৌধুরী তাদেরই এক মাত্র ছেলে।   

 

গাড়ি চাপায় নিহত সেলিম ব্যাপারী (৪৫)

 

নিহত সেলিম ব্যাপারীর গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তিনি মহাখালী ডিওএইচএসে এক ব্যক্তির গাড়ি চালাতেন আর পরিবার নিয়ে উত্তরখান এলাকায় থাকতেন। ওই দিন রাতে তিনি মহাখালী ফ্লাইওভারে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ওই সময় এমপিপুত্র শাবাবের বেপরোয়া গাড়ির চাপায় নিহত হন তিনি।


ঘটনার তিন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সেলিমের পায়ের ওপর গাড়ি তুলে দেয়ার পর তিনি বাম্পার ধরে ফেলেন। এর পর গাড়িটির চালক শাবাব ব্যাক গিয়ারে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গতি বাড়িয়ে তিনি আবারও সামনের দিকে এগিয়ে যান। এতে সেলিম ছিটকে ফ্লাইওভারের গার্ডারে গিয়ে পড়েন। মুহূর্তেই মাথা ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় তার। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।


এদিকে ওই দুর্ঘটনার পর গাড়িটি যখন দ্রুত এসে সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ফ্ল্যাটে ঢোকে তখন সেটিকে অনুসরণ করেন একজন মোটরসাইকেল আরোহী ও আরেকজন প্রাইভেট কার আরোহী। ভবনটির আনসার ও প্রহরীদের বরাত দিয়ে তারা জানান, ওই তরুণের নাম শাবাব চৌধুরী। তিনি কামরুন্নাহার শিউলি ও সংসদ সদস্য একরাম চৌধুরীর একমাত্র ছেলে। গাড়িটি তিনিই চালাচ্ছিলেন।    


এ ঘটনায় কাফরুল থানায় ‘অজ্ঞাত’ আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। তবে ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের অভাবে’ একরামুলের ছেলে শাবাব চৌধুরীকে অভিযুক্ত করেনি পুলিশ।

 

- এমপি একরাম চৌধুরীর ছেলে শাবাব (ছবি- ফেসবুক থেকে নেয়া)

 


প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে প্রাডো গাড়ি থেকে তার পিস্তল দিয়ে চার-পাঁচটি গুলি ছোড়ে। এতে রিকশাচালক আবদুল হাকিম ও দৈনিক জনকণ্ঠের অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী আহত হন। হাকিম ১৫ এপ্রিল ও ইয়াকুব ২৩ এপ্রিল মারা যান। এ ঘটনায় হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম ১৫ এপ্রিল রমনা থানায় মামলা করেন। সূত্রবিহীন এই মামলায় তথ্যপ্রযুক্তি ও জাতিয় দৈনিক পত্রিকার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) সহায়তায় এমপিপুত্রের প্রাডো গাড়ি এবং তার ছেলে রনির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গাড়ির সূত্র ধরে একই বছরের ৩০ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে রনিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।


এরপর ২০১৬ সালের ৬ মার্চ রনির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। গত ১০ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল মামুন যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ৮ মে ২০১৮ রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। কিন্তু ওই দিন রায় ঘোষণা করেন নি আদালত। আদালত মনে করছেন মামলাটির বিষয়ে অধিকতর যুক্তিতর্কের প্রয়োজন আছে। ফলে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার বিষয়ে অধিকতর যুক্ততর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

 

আরও পড়ুন:

 

এমপিপুত্রের গাড়িচাপায় মৃত্যু: ৩৬ ঘণ্টায়ও অভিযুক্ত শাবাবকে গ্রেফতারে অগ্রগতি নেই

 

এমপি একরাম চৌধুরীর ছেলে শাবাবই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন


এমপি পুত্রের বেপরোয়া গাড়ি কেড়ে নিল সেলিমের প্রাণ

 

এলোপাতাড়ি গুলিতে জোড়া খুন মামলায় এমপিপুত্র রনির রায় হচ্ছে না আজ

 


Top