সুপারিশমালায় অটল রাখাইন পরামর্শক কমিশন | daily-sun.com

সুপারিশমালায় অটল রাখাইন পরামর্শক কমিশন

ডেইলি সান অনলাইন     ২১ জুন, ২০১৮ ১৫:০৬ টাprinter

সুপারিশমালায় অটল রাখাইন পরামর্শক কমিশন

- রাখাইন পরামর্শক কমিশনের প্রধান জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আনান, ছবি: রয়টার্স

 

মিয়ানমার সরকারের রাখাইন রাজ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিশন দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, উত্তেজনাপূর্ণ রাজ্যটির সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রশমনে ১০ মাস আগে তারা যে সুপারিশমালা পেশ করেছিল, নতুন করে সহিংসতা সত্ত্বেও তা এখনো প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে।


সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানের সভাপতিত্বে কোপেনহেগেনে এক সভার পর কমিশন এই মন্তব্য করে। ৮ জুন জানায়, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট আরসার হামলার পর নাটকীয়ভাবে রাখাইন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলেও কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে।


কমিশনের সিনিয়র সদস্য ও মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনঃবসতিবিষয়ক মন্ত্রী ও কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা উ উইন মিয়ত আয়ে বলেন, কোপেনহেগেনে সুপারিশমালার প্রাসঙ্গিকতা ও বাস্তবায়নে অগ্রগতি উভয় বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।


সভায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থাঙ তুন, সাবেক জাতিসংঘ কর্মকর্তা ও ইতিহাসবিদ থান্ড মিয়ন্ত-ইউ, রাখাইন তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য উ কিয়াও ইয়িন হ্লাইঙ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, সুইডেনসহ সরকারি দাতাদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।


এনএলডি সরকার ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে পরামর্শক কমিশনটি গঠন করেছিল। এর ছয়জন সদস্য ছিলেন মিয়ানমারের, তিনজন আন্তর্জাতিক। তাদের দায়িত্ব ছিল মুসলিম ও বৌদ্ধ আরাকানিদের মধ্যকার চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিরসনের উপায় ও অবকাঠামোগতভাবে দুর্বল অবস্থা কাটানোর উপায় নিয়ে পরামর্শ প্রদান করা।


কমিশন প্রায় এক বছর কাজ করে ২০১৭ সালের আগস্টে তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করে। এতে মোট ৮৮টি সুপারিশ ছিল।


এসবের মধ্যে রয়েছে, সঙ্ঘাত এলাকায় মিডিয়া ও মানবিক সহায়তা দলকে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন পর্যালোচনা করা, লোকজনের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া, আইডিপি ক্যাম্পগুলো ভেঙ্গে দেয়া, বাংলাদেশের সাথে আরো বেশি সহযোগিতা করা।


সুপারিশমালা প্রকাশের পরপরই সরকার তা বাস্তবায়নে সংকল্প ব্যক্ত করে। এ জন্য মন্ত্রী পর্যায়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়।


সুপারিমশালা পেশ করার পর পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য এবার কমিশন বৈঠক করল।


কমিশন তার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার মাত্র আট ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট আরসার সন্ত্রাসীরা রাখাইনে ৩০টি পুলিশ চৌকিতে হামলা চালায়।


এরপরপরই মিয়ানমার সেনাবাহিনী শুদ্ধি অভিযান শুরু করলে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। আন্তর্জাতিক মহল এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই একে জাতি নির্মূল হিসেবে অভিহিত করে।


উ উইন জানিয়েছেন, সরকার ৮৮টি সুপারিশের মধ্যে ৮০টি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।


- সূত্র: দি ইরাবতী অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top