১২ জেলার দেড়শতাধিক গ্রামে ঈদ উদযাপন | daily-sun.com

১২ জেলার দেড়শতাধিক গ্রামে ঈদ উদযাপন

ডেইলি সান অনলাইন     ১৫ জুন, ২০১৮ ১৫:৪১ টাprinter

১২ জেলার দেড়শতাধিক গ্রামে ঈদ উদযাপন

- ফরিদপুরের কাটাগড় গ্রামের ঈদের জামাত

 

সৌদি আরবের মক্কা-মদিনার সাথে মিল রেখে দেশের চার জেলার ৬৩টি গ্রামে কয়েক হাজার পরিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুরের ১১ গ্রামে, ফরিদপুরের দশ গ্রামে, চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে এবং ভোলার দুই গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে।

 


ভোলা: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুলাইপত্তন গ্রামের চৌকিদার বাড়ি দরজা জামে মসজিদে আজ শুক্রবার (১৫ জুন) সকাল ১০টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে একই গ্রামে মজনু মিয়া বাড়ির ঈদ গাঁ ময়দানে ঈদের দ্বিতীয় বৃহত্তর ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও পর্যায়ক্রমে ভোলার সাত উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।  


উল্লেখ্য, প্রতিবারের মতো সৌদি আরবের মক্কা মদিনার সাথে মিল রেখে ভোলায় শুরেশ্বরি ভাণ্ডারি পীর অনুসারি ধর্মালম্বীরা ঈদ পালন করে।  


লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বারো ঘরিয়া, হোটাটিয়া, শরশোই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার কলাকোপাসহ ১১টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি ঈদ পালন করছেন। আজ শুক্রবার (১৫ জুন) সকাল ৯টায় রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও বাজারের তালিমুন কোরান নূরানী মাদ্রাসা মাঠে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি পৃথকভাবে বিভিন্ন সময়ে স্ব স্ব ঈদগাঁ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন।  


মাওলানা ইসহাক (রা.) অনুসারী হিসেবে এসব এলাকার মানুষ পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনার সাথে সঙ্গতি রেখে ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। এসব গ্রামের মুসল্লিরা গত ৩৮ বছর যাবত সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।


ফরিদপুর: ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার দশটি গ্রামে আজ শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। রূপাপাত ইউনিয়নের কাটাগড়, কলিমাঝি, সুর্যোগ, সহস্রাইল, মাইটকুমড়া, গঙ্গানন্দপুর, রাখালতলীসহ দশটি গ্রামের কয়েক শো মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন।
 

বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের কাটাগড় গ্রামের বাসিন্দা ও আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহিদুল হক জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ আমরাও ঈদের নামাজ আদায় করেছি।  


তিনি বলেন,দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এসব এলাকার বহু মানুষ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখিল শরিফের অনুসারি হিসেবে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আমরা রোজাও শুরু করেছি একদিন আগে।


চাঁদপুর: চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামে উদযাপিত হয়েছে ঈদুল ফিতর। ঈদকে ঘিরে এসব গ্রামে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এসব গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, শবে বরাত, শবে কদরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালিত হয়ে আসছে।  


আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বদরপুর এলাকায় ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ আবু হানিফ।


বদরপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল আহাদ, মোহাম্মদ শামীম বলেন, আজ আমাদের আনন্দের দিন। ঈদের নামাজ পড়ে আমরা আত্মীয় স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াবো।

 

চাঁদপুরে ঈদ মেলা


চাঁদপুরে যেসব গ্রামে আজ ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে: হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, জাকনী, প্রতাবপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার: লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়াসহ শাহরাস্তি উপজেলার অরো কয়েকটি গ্রামের অংশ বিশেষ।


জেলার হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মরহুম মাওলানা ইসহাক (রহ.) অনুসারীরা মধ্যপ্রাচ্য এবং চন্দ্র মাস হিসেব করে এইভাবে গত প্রায় ৮ দশক ধরে ঈদ উৎসব পালন করছেন।

 

দিনাজপুর: দিনাজপুর সদরসহ ৪টি উপজেলায় বিভিন্নস্থানে শুক্রবার উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। দিনাজপুর সদর, বিরল, কাহারোল ও চিরিরবন্দর উপজেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কয়েক হাজার পরিবার এই ঈদুল ফিতর উদযাপন করে।

 
সকাল ৮টায় দিনাজপুর শহরে পার্টি সেন্টার নামে একটি কমিউনিটি সেন্টারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ঈমামতি করেন মাওলানা সাইফুল্লাহ। দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বেশকিছু মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেন।


এদিকে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার ভাড়াডাঙ্গী বাজারে, চিরিরবন্দর উপজেলার রাবার ড্যাম ও সাইতাড়া, কাহারোল উপজেলার রসুলপুর ও গড়েয়া বাজার এলাকায় সৌদি আরবের সাথে সঙ্গতি রেখে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শরীয়তপুর: হযরত সুরেশ্বরী পীরের অনুসারীরা শরীয়তপুর জেলার ৪ উপজেলার ৩০টি গ্রামে শুক্রবার ঈদুল ফিতর পালন করেছেন। অন্তত ১০ হাজার ভক্ত এ ঈদে অংশগ্রহণ করেন।

 
নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর, চন্ডিপুর, ইছাপাশা, থিরাপাড়া, ঘড়িষার, কদমতলী, নিথিরা, মানাখানা, নশাসন, ভুমখারা, ভোজেশ্বর, জাজিরা উপজেলার কালাইখার কান্দি, মাদবর কান্দি, সদর উপজেলার বাঘিয়া, কোটাপাড়া, বালাখানা, প্রেমতলা, ডোমসার, শৌলপাড়া, ভেদরগঞ্জ উপজেলার লাকার্তা, পাপরাইল ও চরাঞ্চলের ১০টি গ্রামসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের অন্তত এক হাজার পরিবারে ১০ হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ ঈদুল ফিতর পালন করে  নামাজ আদায় করেছেন।


শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদুল ফিতরের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সুরেশ্বর দরবার শরীফে।


সেখানে ঈদ জামাতে ঈমামতি করেন গদিনীশীন মুত্তাওয়ালী সৈয়দ মো. বেলাল নূরী। নামাজ শেষে সবাই কোলাকুলি করে সেমাই পোলাও খেয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়।


এ ব্যাপারে গদিনীশীন মুত্তাওয়ালী শাহ সৈয়দ কামাল নুরী বলেন, সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে প্রায় শত বছর ধরে বাংলাদেশের একদিন পূর্বে চাঁদ দেখার দিন সুরেশ্বর পীরের সকল ভক্ত ও তাদের মুরিদানেরা একই নিয়মে ঈদ উৎসব পালন করে আসছি।


মাদারীপুর: হযরত সুরেশ্বরী (রাঃ) এর ভক্ত অনুসারী মাদারীপুরের ৩০ গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ আজ শুক্রবার ঈদ উদযাপন করছেন। সুরেশ্বর দরবার শরীফের পীর খাজা শাহ সূফী সৈয়দ নূরে আক্তার হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সুরেশ্ব দ্বায়রা শরীফের প্রধান গদীনশীল পীর ও চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব খাজা শাহ্ সূফী সৈয়্যেদ নূরে আক্তার হোসাইন জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ বিভিন্ন দেশে ঈদ উল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। তাই তাদের সঙ্গে মিল রেখে শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রাঃ) এর মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলাসহ বাংলাদেশের প্রায় দেড় কোটি অনুসারী আজ ১৫ জুন শুক্রবার ঈদ উদযাপন করছেন।

 

মাদারীপুরের আগাম ঈদ জামাত


ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চরকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ও কালকিনির আন্ডারচর খানকায় শরীফ মাঠে সকাল ১০টায় ঈদের বৃহৎ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। চরকালিকাপুর ঈদের জামায়াতে ঈমামতি করেন মৌলভী আবুল হাসেম মাস্টার ও আন্ডারচর খানকায় শরীফ মাঠের ঈদের জামায়াতে ঈমামতি করেন হাফেজ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।


সুরেশ্বর পীরের ভক্তদের মতে, ইসলাম ধর্মের সবকিছুই মক্কা শরীফ হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। তাছাড়া মক্কা শরীফ থেকে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র ৩ ঘণ্টা। তাই মক্কাবাসীসহ মধ্য প্রাচ্যের মুসলমানরা যেদিন রোজা রাখেন তারাও সেদিন থেকে রোজা করে থাকেন।  


উল্লেখ্য, সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রাঃ) এর অনুসারীরা ১৪৬ বছর আগে থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ উল আযহা পালন করে আসছেন।


সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাওকোলা পূর্ব-পাড়া জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় এ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী।


এ সময় মাওলানা মহব্বত আলী বলেন, পৃথিবীর কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে ঈদ উদযাপন করা যায়।


এছাড়া সদর উপজেলার চাঁদপুর ও তালা উপজেলার ইসলামকাটিতে পৃথক পৃথক ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাতক্ষীরায় পৃথক এই ঈদের জামাতে পাঁচ শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।


ঝিনাইদহ: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ১৫ গ্রামের অর্ধ-শতাধিক মুসল্লি শুক্রবার সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। সকাল ৯টায় উপজেলা মোড়ের গোলাম হযরতের মিল চত্বরে এই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতের ঈমামতি করেন মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।


জানা গেছে, হরিণাকুন্ডু শহর ছাড়াও উপজেলার কুলবাড়ীয়া, বৈঠাপাড়া, বোয়ালিয়া, চটকাবাড়ীয়া, ফলসী, শিংগা, পায়রাডাঙ্গা, ভালকী, শিতলী, নিত্যানন্দপুর, চরপাড়া, তৈলটুপী, রামচন্দ্রপুর ও দখলপুর গ্রামের প্রায় অর্ধ-শতাধিক মানুষ এই ঈদ জামাতে নামাজ আদায় করেন।


মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে তারা পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করলেন। প্রতি বছরই তারা সৌদি আরবকে অনুসরণ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করে থাকেন।

 


Top