গ্যাটকো ও খনি দুর্নীতি মামলায় খালেদার প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার | daily-sun.com

গ্যাটকো ও খনি দুর্নীতি মামলায় খালেদার প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার

ডেইলি সান অনলাইন     ১৪ জুন, ২০১৮ ১৫:৪১ টাprinter

গ্যাটকো ও খনি দুর্নীতি মামলায় খালেদার প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির করতে যে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি ছিল, তা প্রত্যাহার করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) ঢাকার পৃথক দুই বিশেষ জজ আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরোয়ানা প্রত্যাহারের এ আদেশ দেন।


গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এবং বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় বিশেষ জজ আদালত-২ এর বিচারক কেএসএম শাহ ইমরান প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহারের আদেশ দেন।


খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহারের আবেদন করে শুনানি করেন হান্নান ভূঁইয়া। দুদকের পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল ও ফাতিমা খানম নীলা এর বিরোধিতা করেন।


প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. গোলাম শাহরিয়ার ১৩ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০০৮ সালের ১৩ মে জোট সরকারের প্রভাবশালী ৯ প্রাক্তন মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জহিরুল হুদা অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


আর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগ থানায় বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম।


দুদকের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাসেম ওই বছরের ৫ অক্টোবর খালেদা জিয়াসহ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।


কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনকে (সিএমসি) বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অনুমোদন দিয়ে রাষ্ট্রের কয়লা উত্তোলনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা সিএমসির সঙ্গে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করায় সরকারের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ করা হয় মামলাটিতে।


উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত।

এরপর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে তাকে সেখানেই রাখা হয়েছে। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ১২৭দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


ইতোমধ্যে আপিলের পর সর্বোচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে এই মামলায় জামিন দিয়েছেন। তবে আরও বেশ কয়েকটি মামলা চলমান থাকায় এখনই তিনি জামিন পাচ্ছেন না।


দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এর আগে একবার কারাগারে যেতে হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাবজেল ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছিল তাকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর তিনি দুর্নীতি মামলায় দ্বিতীয় বার জেলে যান।

 


Top