কাওসার চৌধুরী : জন্মদিনের শুভেচ্ছাঞ্জলি | daily-sun.com

কাওসার চৌধুরী : জন্মদিনের শুভেচ্ছাঞ্জলি

আবদুল্লাহ আল মোহন     ১২ জুন, ২০১৮ ১৭:১৮ টাprinter

কাওসার চৌধুরী : জন্মদিনের শুভেচ্ছাঞ্জলি



১.
মঞ্চের ছন্দ নাচে যার রক্তে তিনি আমার প্রিয় কাওসার ভাই, জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক কাওসার চৌধুরী (Kawsar Chowdhury)। প্রায় দুই শতাধিক টিভি নাটকে অভিনয় করলেও মঞ্চকেই আপন মনে করেন, বেশি উপভোগ করেন, ভালোবাসেন শিক্ষকতা।

আজন্মের গণমাধ্যম কর্মী কিংবা ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। প্রতিটি রক্তকণায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারণকারী কাওসার চৌধুরী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির ঘটনার পটভূমিতে ‘সেই রাতের কথা বলতে এসেছি’ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে বহুল প্রশংসিত হন। কাওসার চৌধুরী ১৯৫৮ সালের ১২ জুন জন্মগ্রহণ করেন। শুভ জন্মদিন প্রিয় স্বজন কাওসার ভাই। এই আনন্দক্ষণে কাওসার ভাই আপনাকে জানাই জন্মদিনের নিরন্তর শুভেচ্ছা। পরম শ্রদ্ধাভাজন, প্রিয়জন কাওসার ভাই, জন্মদিনে আপনার আনন্দময় সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যত জীবন কামনা করি। আমার বিবেচনায় এদেশে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের অনন্য শিল্পীর নাম কাওসার চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের প্রতি তাঁর প্রবল ঝোঁক, বিশেষ আগ্রহ গভীরভাবে পরিলক্ষিত হয়। আর সেটা তাঁর অকৃত্রিম দেশপ্রেম তথা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়াসের পাশাপাশি সকল প্রকার ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শিল্পসত্ত্বারই বহি:প্রকাশ। আমার অভিজ্ঞতায় নির্মাতা হিসেবে তিনি ভীষণই শিল্প সচেতন, নান্দনিকতার প্রতি সংবেদনশীল শিল্পী এবং অসম্ভব মানবিক জারকরসে প্লাবিত। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি; ১৯২১ সাল অর্থাৎ প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অব্দি তিনিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র সৌভাগ্যবান ছাত্র, যার পক্ষে 'ডাকসু সাংস্কৃতিক এবং সাহিত্য'- উভয় প্রতিযোগিতায় পরপর দু’বার ব্যক্তিগত-চ্যাম্পিয়নশীপ অর্জন সম্ভব হয়েছে।

 


২.
আমাদের মঞ্চ ও টেলিভিশনের স্বতন্ত্র শিল্পধারার নিরলস যোদ্ধার নামই কাওসার চৌধুরী। শিল্পের নানা মাধ্যমে বা শাখায় আত্মনিবেদনকালে তাঁকে মনে হয়েছে নিরন্তর নিজেকেই অতিক্রমেই সচেষ্টজন হিসেবে। প্রায় নিয়মিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, ফেসবুকেও লেখালেখি করেন মেধাবি মানুষ কাওসার ভাই। সচিত্র সেসব রচনায় পাওয়া যায় ভাষার গতিময়তা, কাব্য শব্দ গন্ধ, উদ্দেশ্যের সরল অভিমুখ। ফলে তিনি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অভিনেতা নন, হয়ে ওঠেন চেতনার স্রষ্টা, যাকে ‘নেতা’ বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না মোটেই। বিশেষত ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নিয়ে তাঁর একান্ত আবেগ ও অকৃত্রিম ভালোবাসার নিরন্তর র্কীতিগুলি তাঁকে এক্ষেত্রে ‘নেতা’র আসনেই অভিসিক্ত করে। আমি অন্তত: ‘মুক্তিযুদ্ধ’ প্রেক্ষিতে অবিরাম কাজ করে যাওয়া, ছুটে চলা তেমন আর কাউকেই খুঁজে পাই না আশেপাশে।

 


৩.
ইদানিং কাওসার ভাইয়ের সাথে আমার প্রায় নিয়মিতই আড্ডাবাজির সুযোগ হয়। কত বিষয়-প্রসঙ্গ নিয়েই না আমাদের আলোচনার তুমুল ঝড় আশেপাশের মানুষজনদের অস্থির করে তোলে। এক্ষেত্রে আমাদের আচরণে অশোভন কিংবা দৃষ্টিকটু কোনকিছুর যেন প্রকাশ না ঘটে সেদিকে তাঁর প্রখর সতর্ক দৃষ্টি তার নজর কখনো এড়ায় না। সভ্যতার সুরুচির আচার-আচরণের প্রতি রয়েছে তার প্রবল পক্ষপাত যেমন দৃশ্যমান সেইসাথে সংস্কৃতিমনা সুশিক্ষার প্রতি আমার আস্থার প্রতিও তার গভীর প্রত্যয়, সহমর্মিতা সম্মানের মাত্রাকে উচ্চমানে অবস্থান করে। ‘দেশ আমার দায়িত্ব আমার’ বাণীর সচেতনতার, আত্মবিকাশের জাগরণের বিষয়েও আমাদের প্রবল একাত্মতা রয়েছে। স্বীকার করছি এই চেতনার বিকাশে-প্রকাশে-জাগৃতিতে পাথর সময়ের স্থবিরতা নিরসনে তার একজন সহযোদ্ধা হয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণে মার্চপাস্ট কাল চলছে আমার।

 


৪.
আমার মতোন অনেকেরই প্রিয় মানুষও তিনি। কাওসার ভাইয়ের সাথে পরিচয় ঘটে ১৯৮৯-৯০ সালের দিকে, কলেজ জীবনে ‘গ্যালিলিও গ্যালিলি’ নাটক দেখতে গিয়ে। এরপর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নানা আড্ডায় তাঁর সান্নিধ্য, আলাপন আমাকে ঋদ্ধ করে, মুগ্ধ করে। পরস্পরের প্রতি স্নেহ-শ্রদ্ধা- প্রেম ক্রমাগত বাড়ে একত্রে কাজ করতে গিয়ে, ১৯৯৬-৯৭ সালের দিকে। তখনও আজকের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল ‘চ্যানেল আই’-এর জন্ম হয়নি, চলছে ইমপ্রেস যুগের দাপট। সেই সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের সাথে ‘সোনালি দরোজা’ অনুষ্ঠানের নির্মাণকালে। কাওসার ভাই ‘সোনালি দরোজা’র অনেকগুলো অনুষ্ঠানের বিশেষ বিশেষ বিষয়ের চিত্রগ্রাহক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, আর আমি ছিলাম ‘প্রোডাকশন ম্যানেজার’। দিনে চিত্রগ্রহণ, ধারণ আর রাত্রভর সম্পাদনার টেবিলে চলে আমাদের আনন্দময় সৃষ্টি উদযাপন। আমাদের আহারে-বিহারে কত অজস্র যে আনন্দ-বেদনার স্মৃতি তা ‘কহতব্য নহে’। একসাথে কাজের ফলেই খুব দ্রুত আমরা আপনজন হয়ে উঠি, সেই স্বজনপ্রীতির ধারাবাহিকতা আমাদের মাঝে আজো চলমান। আমাদের বসবাস একই এলাকায় বলে আগের মতোই এখনো সুযোগ পেলেই আমরা দু’জনে উদ্দেশ্যবিহীনভাবে রিক্সায় ঘুরে বেড়াই, দুনিয়ার হেন বিষয় নাই, যা নিয়ে আলোচনায় মেতে না উঠি, রাস্তার পাশের যে কোন খাবারের দোকানে প্রাণে ‘স্ফূর্তি’ সমাহারে বসে পড়ি। তিনি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের প্রয়োজনে সারাদেশেই ‘ভবঘুরে’সম ভীষণ ব্যস্ত বলে মাঝে দেখা-সাক্ষাৎ কমে যায়, তাই বলে তিনি ঢাকায় তসরিফ আনলে, আমাদের মুখর পরিভ্রমণ, আলাপন সুদাসলে জমে ওঠে। আর ‘অস্থির’ আড্ডাবাজ দলের ‘উল্লাস’ময় উচ্চকণ্ঠের কাহিনি না-ইবা বলি।

 


৫.
আমি নিজেও একজন শিক্ষক বলেই বুঝি শিক্ষক হিসেবে কাওসার চৌধুরীর অভিজ্ঞতা লব্ধ প্রতিক্রিয়া,মতামত আমাকে ভীষণভাবেই আলোড়িত করে। কাওসার ভাই অকপটে স্বীকার করছেন, ‘আমি মনে করি, প্রতিটি প্রাণী-ই আসলে জন্মগতভাবে শিক্ষিত। সুতরাং, কেউ কাউকে আসলে কিছুই শেখাতে পারেনা; প্রকৃ্তির সাথে নিজের মিথষ্ক্রীয়ালব্ধ-অভিজ্ঞতা দেয়া-নেয়া করে মাত্র। আমিও সেটা-ই করার চেষ্টা করি। গত ২৯ বছরে আমার যে সামান্য অভিজ্ঞতাটুকু সঞ্চিত হয়েছে, আমি তা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা'র কয়েকটি ইন্সটিটিউটে আগ্রহী তরুণদের সাথে দেয়া নেয়ার চেষ্টা করি। আর সে কারণেই টাইটেল-এ বলেছি 'Not teaching but sharing'. আমি দেখেছি, আমাদের তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ যাঁরা 'জানতে' আগ্রহী, তাঁরা আসলে ভীষণ মেধাবী। একটু ধরিয়ে দিতে পারলে নিজেরাই অনেক কিছু সৃষ্টি করতে পারে। আমি তাঁদের শ্রদ্ধা জানাই। ’

 


৬.
বৈষয়িকভাবে সাফল্য লাভের সকল প্রকার মেধা, যোগ্যতা ও যোগাযোগ ক্ষমতা কাওসার ভাইয়ের থাকলেও গভীর দৃপ্ত প্রত্যয়ী দেশপ্রেমজাত মানসিক প্রবণতা সেদিকে ‘সুনজর’ দিতে দেয়নি বলেই ধারণা করি। তিনি আমাদের ভালোবাসার ধনে অবশ্যই ‘ধনী’ মানুষ, প্রীতির নীতিতে অবশ্যই একজন সম্মানিত ‘বড়লোক’। তার এই অর্জন একদিনের নয়, সারজীবনের নিরন্তর সংগ্রাম আর সাধনার ফল, ফসল এটা। তাকে চিনি, জানি প্রায় তিন দশক ধরে, সেইসাথে তার সাথে কাজ করবারও সুযোগ ঘটেছিলো, আবার ইদানিং নানান বিষয়ে আলাপন-মত মতান্তর বিনিময়ের সুস্থ পরিবেশ ও সুযোগ লাভের কারণেও তাকে আমি যতটা জানতে, বুঝতে পেরেছি, আমার নানান সীমাবদ্ধতার পরও, তিনি আমার কাছে সমকালের নিখাদ নয়, প্রয়োজনীয় খাদসহ ‘সোনার মানুষ’। কারণ তার সাথে মেলামেশার সুযোগে বাউল লালন সাঁইজীই ধরা দেন, ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। কাওসার ভাই মানুষকে ভালোবাসেন, মানুষের কল্যাণে নিরলস আপন জীবনাদর্শে কাজ করে যাচ্ছেন, আর সেখানে প্রাধান্য পাচ্ছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ।

 

লাল-সবুজ পতাকাকে তিনি ‘সংশপ্তক’-এর ন্যায় মাথার উপরে তুলে ধরে লড়াই করছেন, মানব কল্যাণে তার এই প্রত্যাশার জয় হবেই নিশ্চয়, সহস্র প্রতিকূলতার মাঝেও। ‘প্রতিকূলের যাত্রী’ তিনি ‘অল কোয়াইট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ চেনেন বলেই মহাত্মা গালিলিওর কাছ থেকে বাধার বিন্ধ্যাচল পেরুবার চরম দু:সাহস পেয়ে এগিয়ে চলেন, নহস্র বাঁধা-বিঘ্নতা এড়িয়ে নয় সাহসের সাথে মোকাবিলা করতে জানেন, ফলে থামেন না গণহত্যার সচিত্রকরণ ও সচেতনতামূলক কাজের নিমগ্নতায়, আরাধনায়। সুতরাং কাওসার ভায়ের কাজের ক্ষেত্র ও সাহসিকতা দেখার পরও এই পাথর সময়ে, লোভের-লোভের মহাদুর্যোগকালেও ‘সত্য কাজে কেউ নয় রাজি’র যুগেও ‘আপনাকে আপনি চেনা’য় অবিচল থাকায়, জনযুদ্ধের গণকবরের সন্ধানের সত্যান্বেষণে একনিষ্ঠতায় আমাকে তার প্রতি আরো শ্রদ্ধাশীল না করে পারে না। মনে রাখবার মতোন মানুষদের জীবনী নিয়ে কারবারী, কাজের মাঠের খোড়াখুরির এই আমি দৃঢ় প্রতয়ে কাওসার ভাইয়ের কাজের প্রতি নিবিড় একনিষ্ঠতা দেখে ও তার গভীর ধ্যান-ধারণা দৃশ্যমানতা আমাকে তার প্রতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে নিত্য বিনয়ী না করে পারে না।

 


৭.
কাওসার ভাই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, বলে থাকেন, লিখেছেনও,‘নিজের ওপরেই আস্থা প্রয়োজন......। । ’ ‘পাখী কখনো ডাল ভেঙ্গে পড়ে যাওয়ার ভয় করেনা! কারণ, তার আস্থা ডালের ওপরে নয়, নিজের ডানার ওপরে। তাই চলার পথে নিজের ওপরেই আস্থা রাখো- অন্যের ওপরে নয়’! অসাধারণ এই কোটেশনটি ফেসবুক থেকেই সংগ্রহ করেছি। ” আবার তার রচনার সমাপনী ভাবনাটি আমাকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। একটা উদাহরণ তুলে ধরছি। তিনি লিখছেন, ‘আসলে আমরা আমাদের ‘চাওয়া’গুলোর সাথে ‘পাওয়া’র অমিল দেখে ক্ষিপ্ত হই, হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ি দ্রুত! জীবনের হিসাব মেলাতে পারিনা! দোষারোপ করি তথাকথিত ‘ভাগ্য’কে, নিয়তিকে, সরকার কিংবা সমাজকে! হয়তো সবই সত্য, সকলই সত্য। এই চর্ম-চক্ষুতে দেখা ‘সত্যে’র বাইরেও কি কোন ‘প্রকৃ্ত-সত্য’ বিরাজমান? কে যেন বলেছিলেন- 'মানুষের হাতে ঠিক এই মুহুর্তে যা আছে সেটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারার-ই নাম সুখ'। আমি অবশ্য মানি- এ কথা! এতকিছুর পরেও মানুষ জীবনযাপন করবে, সুখী হবে। হাসি-কান্না-সুখ-দুঃখের ধারায় জীবনকে প্রবাহিত করবে। এই-ইতো মানুষের জীবন! সবাই আনন্দে থাকুন, সুখী হোন। ভালো থাকুন সবাই। 'জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক'।

 


৮.
তবে তার অনেক অভিযানের সহযাত্রী হতে না পারলেও একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে অনেককিছুই আমার দৃষ্টিগোচরে আসে। ফলে প্রশ্নোত্তরের তীরে তাকে বিদ্ধ করে প্রয়োজনীয় তথ্য-মতামত খুঁজে পেতে সচেষ্ট থাকার প্রক্রিয়ায় তিনি বিরক্ত না হয়ে সহযোগিতাই করে যাচ্ছেন। এটাও আমার পরম পাওয়া। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি বিনা বিচারে সবসময় মেনে নেওয়া সম্ভব হয় না বলে সেসবের যাচাই-বাছাই করে সঠিকতা মূল্যায়ন করে সংশয়ী মন আমার। এই প্রক্রিয়ায়ও কাওসার ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা আরো বেড়ে যায় আমার।
৯.
কাওসার ভাইকে নিয়ে লিখতে গিয়ে আমার কাছে গ্যালিলিও গ্যালিলি নাটকের স্মৃতিচিত্র, শব্দবাণ মনের আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে, উচ্চারিত হচ্ছে। গ্যালিলিও গ্যালিলি বলেছিলেন, ‘All truths are easy to understand once they are discovered; the point is to discover them.’ আমার আজ খুব মনে পড়ছে ধানমণ্ডির ২ নম্বর রোডে গ্যেটে ইনস্টিটিউটের মঞ্চে দেখা বিখ্যাত জার্মান নাট্যকার ব্রেখটের লেখা ও আতাউর রহমানের নির্দেশনায় নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের অসাধারণ নাটক ‘গ্যালিলিও গ্যালিলি’র স্মৃতি। গ্যালিলিও-এর ভুমিকায় শক্তিমান অভিনেতা আলী যাকের-এর অভিনয় ও উচ্চারণ আমার চোখে ভাসছে, কানে বাজছে। সেই দৃশ্যটি - অত্যাচারের পর গির্জাই ঠিক, আমি ভুল; বলে ধুঁকতে ধুঁকতে ক্লান্ত শরীরে বেরোচ্ছেন গ্যালিলিও, তখনকার সেই অবিস্মরণীয় সংলাপ। তাঁর ছাত্র আন্দ্রেয়া বলছেন ‘দুর্ভাগা সে দেশ, যেখানে বীর নেই। ’ গ্যালিলিওর পাল্টা উত্তর, ‘দুর্ভাগা সে দেশ, যেখানে শুধু বীরেরই প্রয়োজন হয়। ’ ব্রেখটের নাটক এতটুকু না বদলে প্রতিটি যুগ তার নিজের মতো মর্মোদ্ধার করে নিতে পারে, গ্যালিলিও-র মতোনও এখানে তিনিও ক্লাসিক।

 


১০.
আগেই বলেছি কাওসার ভাইয়ের নানা রচনা, অনুভবের বচন আমাকে আলোড়িত করে। কোনটা রেখে কোনটার কথা বলি! কালজয়ী অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদিকে নিয়ে তাঁর স্মৃতিময় লেখা আমাকে কাঁদায়, শিল্পসহযোদ্ধা শক্তিমান অভিনেতা খালেদ খানের প্রতি তাঁর প্রীতিশক্তিও আমাকে আবেগ তাড়িত করে। প্রবাদপ্রতিম চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব আলমগীর কবিরকে নিয়ে নির্মিত ‘প্রতিকূলের যাত্রী’ প্রামাণ্যচিত্রটির কথাও উল্লেখ না করে পারি না। নানা বিষয়ে আমাদের কথা হয়। স্মৃতি থেকে তারই কয়েক ছত্র তুলে ধরার লোভ সামলাতে পারছি না। অভিনেতা ও নির্দেশক কাওসার চৌধুরী মনে করেন, আগের ফটো সংবাদিকতার চেয়ে এখন ফটো সাংবাদিকতা অনেক সহজ হয়েছে। আগে ফটো সাংবাদিকতা করতে হলে অনেক কষ্ট করতে হতো। এখন ঘটনার অনেক দূর থেকেই অনেক ভাল ছবি তোলা যায়। শুধু তাই নয় তোলা ছবিটি সাথে সাথে ক্যামেরায় দেখা যায়। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি অনেক মানুষকে ফটোগ্রাফার বানিয়েছে। ছবি তোলার সরঞ্জাম হাতে থাকলেই ফটোগ্রাফার হওয়া যায় না। শুধু ক্যামেরায় ক্লিক করলেই ছবি হয় না। ফটোগ্রাফার হতে হলে অনেক কিছু জেনে বুঝে ছবি তুলতে হবে।

 


১১.
একাধারে অভিনেতা, নির্মাতা, আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক কাওসার চৌধুরী মিডিয়া জগতের পরিচিত মুখ। তিনি মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন ১৯৭৯ সাল থেকে ‘পদাতিক নাট্য সংসদ’-এর হয়ে। তিনি ঐতিহ্যবাহী নাট্যসংগঠন ‘ঢাকা পদাতিক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ১৯৮৬ সালে কাওসার চৌধুরী ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’-এ যোগ দেন এবং ১৯৯৪ সালে তিনি এই সংগঠনের নির্বাহী সদস্য হন। মঞ্চের পাশাপাশি তিনি টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন। তাছাড়া কাজ করেছেন ক্যামেরার পেছনেও। ১৯৮১ সালে তিনি প্রথম টিভি নাটকে অভিনয় করেন। কাওসার চৌধুরী ১৯৮৩ সালে নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকটি প্রামাণ্যচলচ্চিত্র নির্মাণ করে কুশলী শিল্পস্রষ্টা হিসেবে নিজস্ব স্বাক্ষর সৃষ্টি করেছেন। তাঁর পরিচালনায় নির্মিত কয়েকটি বিখ্যাত প্রামাণ্যচলচ্চিত্র হলো: ‘সে রাতের কথা বলতে এসেছি’ ‘প্রতিকূলের যাত্রী’, ‘অপারেশন ভৈরবী’, ‘অপারেশন পাঁচদোনা’, ‘বৈশাখী পার্বণ’ অন্যতম।

 


১২.
তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্রামাণ্যচিত্র 'গণআদালত’। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ একাত্তরের নরঘাতক গোলাম আজমের প্রতীকী বিচার হিসেবে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যে গণআদালত অনুষ্ঠিত হয়েছিলো, তার ধারণকৃত ফুটেজ নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র 'গণআদালত’ নির্মাণ শুরু করেন কাওসার ভাই। আলাপনকালে তিনি জানান, ‘১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচারকাজ শুরু করেছিলেন, সেটা ২০১৬ সালে এসে পূর্ণতা লাভ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। ১৯৯২ সালের গণআদালত ছিলো মূলত ১৯৭২ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্যের সময়োপযোগী সাহসী প্রতিবাদ। তাই বাহাত্তর থেকে বিরানব্বই পর্যন্ত বিস্তৃত পটভূমিতে তৈরি হয়েছে প্রামাণ্যচিত্রটি। ’ উল্লেখ্য যে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর 'গণআদালত’ প্রামাণ্যচিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়।

 


১৩.
গুণী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাওসার ভাইয়ের জীবনী লিখতে গিয়ে অসম্ভব বিপদে পড়েছি। কারণ ২০১৬ সালে তিনি (‘বালাই’) ষাট বছরে পদার্পণ উপলক্ষে নিজের জীবন নিয়ে এত সুন্দর ও সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন যে, সেটি পাঠের পর আমার আর তার জীবনী রচনা প্রচেষ্টা ‘অপরাধ’ বলে বিবেচনা করি। সুতরাং অকৃপণ ঋণভারে জর্জরিত হয়ে কাওসার ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে সেখান থেকেই সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরছি, তাঁর নিজের ভাব ও ভাষাকে অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করে।

 


১৪.
২০১৬ সালের জন্মদিনের আত্মকথায়, ‘এ যাত্রায় ৬০ বছর ......’ শিরোনামের রচনায় কাওসার ভাই অকপটে তুলে ধরেছেন নিজেকে, জানাচ্ছেন, ‘মেঘে মেঘে এত বেলা হয়ে গেল বুঝতে পারিনি। বুঝতে অবশ্য আরো অনেক কিছুইতো পারিনি! তবে বুঝতে না পারার তালিকায় এটা শীর্ষে! অবশ্য এখন আর হা-পিত্যেশ করে লাভ কী! যা হবার সেতো হয়েই গিয়েছে; জীবন থেকে ৫৯-টি বছর হাওয়া। লে ওয়াওয়া (লে বাবা)! সৃষ্টিকর্তা বেশ এক হাত দেখালো বটে! কোন নোটিশ ছাড়াই ৫৯ বছর পার! … তারাশংকর অবশ্য বলেছিলেন- “জীবন এত ছোট কেনে”! আহা রে জীবন, তুমি যে এত ছোট সেটা যদি সময়মত বুঝতে পারতাম, তাহলে কি আর জীবনটারে হেলায় হারাই! কবি রুদ্রের মত বলতে ইচ্ছে করে- “এই জীবনডারে এখন কোন জীবনে থুই”!

 


১৪.২
এইতো সেদিন-
মহেশখালির মাতারবাড়ি নামে একটি ক্ষুদ্র দ্বীপে জন্ম নিলাম, মাটির ঘরে। ক্লাস ফাইভ অব্দি ওখানেই পড়েছি (অবশ্য সেই ‘৬৫ সালে ওখানে কোন হাই-স্কুল ছিলনা)। ক্লাস সিক্স-এ চকরিয়া হাই স্কুল, ক্লাস সেভেন-এ পেকুয়া হাই স্কুল; ক্লাস এইটে গিয়ে পড়লাম চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ কলোনী ইশকুলে! তখন ১৯৬৮ সাল। কিছু না বুঝেই ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি নিলাম (ছাত্রলীগ)। একাত্তরে যুদ্ধে সামান্য অংশ নিলাম। যুদ্ধশেষে বাহাত্তরে হারালাম বাবাকে। মাকে হারালাম চুয়াত্তরে। পঁচাত্তরে হারালাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে। এরপরেও ভেঙ্গে পড়িনি কোনদিন। আমি তখন কক্সবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক (’৭৪-’৭৫)। আমাদের সভাপতি শাহনেওয়াজ চৌধুরীকে কোন আগপাছ না ভেবেই বললাম- আসুন প্রতিরোধ করি, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই! শাহনেওয়াজ চৌধুরী এবং তৎকালীণ আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলাম চৌধুরীরা ‘বুঝিয়ে’ নিবৃত্ত করলেন আমাকে। আসলে, বয়সটাইতো ছিল ওরকম। ‘যৌবন’ থাকলেই ‘যুদ্ধে’ যেতে ইচ্ছে করে। এরপরে ছিয়াত্তরে এসে ইন্টারমেডিয়েটে ভর্তি হলাম চট্টগ্রাম কলেজে। ‘নিয়মিত’ ছাত্রছাত্রীদের চাইতে বয়সে ‘একটু বড়ো’ ছিলাম বলে বন্ধু পারভীন হক (Parvin Hoq), মিতা বড়ুয়াসহ আরো অনেক বন্ধুরা ডাকতো- ‘বড়োভাই’ বলে (ভাগ্যিস আদুভাই বলতোনা)!

 


১৪.৩
আটাত্তরের শেষের দিকে এলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথমে শুরু করলাম ‘আঈন’ বিষয়ে। বছরখানেক পরে আসলাম ‘ইসলামের ইতিহাসে’। ওখানেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি- ১৯৮৪ সালে। পরে অবশ্য ৫২ বছর বয়সে এসে ব্রাক-বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম Executive MBA করতে। বছর দেড়েক পড়াশোনা করে একুশে টেলিভিশনে যোগ দিলাম ‘জেনারেল ম্যানেজার এডমিন এন্ড কমুনিকেশন্স’ হিসেবে। সেখানেও স্থির থাকতে পারিনি! বছরখানেকের মাথায় ‘বরখাস্ত’ হয়ে গেলাম ‘অজ্ঞাত কারণে’! এর আগে অবশ্য ‘ডেভেলপমেন্ট কমুনিকেশন’-এ পড়বার জন্য গিয়েছিলাম গুজরাটের আহমেদাবাদে (১৯৯২)। ওটাই একমাত্র সফল কোর্স, যেটা নির্ধারিত মেয়াদে সম্পন্ন করেছি। এর আগে মালয়েশিয়ায় চলচ্চিত্র, আর শ্রীলংকায় কমুনিকেশন বিষয়ে ছোটখাটো ডিপ্লোমা করেছি। অসংখ্য ছোটখাটো ট্রেনিংকোর্স-এ অংশ নিয়েছি। এমন কি SME (small and medium entrepreneur) বিষয়েও! পাগলামী আর কি! মাঝখানে এলেক্ট্রনিক ফটো-জার্নালিষ্ট হিসেবে কাজ করেছি কয়েকটি নামকরা টেলিভিশনে। গ্রানাডা টেলিভিশন, UPTN((বর্তমানে যেটা APTN), WTN এবং বিবিসি টেলিভিশনে (ওয়ার্ল্ড সার্ভিস-এ)। ওখানেও অস্থিরতা ছিল! এরপরে অবশ্য independent film maker হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। প্রামাণ্যচিত্র এবং তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছি প্রায় শ’দেড়েক। তারমাঝে গোটা পঞ্চাশেক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক। এগুলোতে আপনাদের অনুপ্রেরণা, সহযোগিতা এবং প্রশংসাও পেয়েছি প্রচুর। আপনাদের কাছে আমি আজীবন ঋণী এবং কৃ্তজ্ঞ। ।

 


১৪.৪
অভিনয়তো শুরু করেছিলাম ক্লাস ওয়ানে পড়াকালেই! তখন ১৯৬১ সাল। পরে একটু বুঝেশুনে অভিনয় শুরু করেছিলাম ঢাকায় গ্রুপ-থিয়েটারে কাজ করতে গিয়ে। ’৭৮-এ শুরু করলাম পদাতিক নাট্য সংসদে। এরপরে গুরু সোলায়মান ভাইয়ের সাথে নতুন দল গড়লাম ঢাকা পদাতিক। সেখানেও থাকলাম না! ’৮৪ সালে চলে গেলাম নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়-এ। ২০০৪ সাল পর্যন্ত সক্রীয় ছিলাম নাগরিক-এ। এখন অবশ্য কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। ’৭৭ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা দিয়ে টিভি-ক্যারিয়ার শুরু করি- গুরু বেলাল বেগ এবং আলী ইমামের প্রযোজনায়। অনুষ্ঠানের নাম ছিল ‘প্রাণ তরঙ্গ’- মোস্তফা মনোয়ারের পরিকল্পনা। আর তালিকাভূক্ত শিল্পী হিসেবে বিটিভিতে নাটক শুরু করলাম গুরু নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর প্রযোজনায় ’৮১ সালে। এরপরে টিভিতে দীর্ঘ পথচলা। কিন্তু ছেড়ে দিয়েছি এক সময়ে। ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করেছি প্রায় শ’দুয়েক টিভি নাটকে। একটি নিয়মিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানেও চিত্রগ্রাহকের কাজ করেছিলাম- ‘ঘটনার আড়ালে’! কিন্তু নিজে টিভি-নাটক তৈ্রী করেছি মাত্র দু’খানা! নাটকঃ ‘পৌ্নঃপুণিক’ এবং টেলিনাটকঃ ‘এবং তারপর’। অতঃপর আর ভালো লাগেনি, ছেড়ে দিয়েছি!

 


১৪.৫
মাঝখানে শিক্ষকতাও করেছি বছরখানেক Stamford University-তে। এরপরে Rtv-তে কাজ করেছি- company coordinator হিসেবে। বছর দেড়েক পরে ওটা ছেড়ে দিয়ে গিয়েছিলাম বেষ্ট-এয়ারে Head of marketing communication হিসেবে। এর বছরখানেক পরে যমুনা টেলিভিশনের শুরুতে Head of infotainment হিসেবেও কাজ করেছি প্রায় এক বছর।

 


১৪.৬
আসলে কারো কাছ থেকে সঠিক কোন ‘নির্দেশনা’ আর ‘অনুপ্রেরণা’ না পাওয়ায় সারাজীবন একটা ‘অস্থিরতার’ মাঝেই কেটে গেলো! কোথাও কোনদিন স্থির হতে পারলাম না! এমন কি আমার পারিবারিক জীবনেও প্রচন্ড অস্থিরতা সবকিছু ‘ওলটপালট’ করে দিল। আমার প্রয়াত স্ত্রী শাকিলা খান বেবী অবশ্য সাধ্যমত চেষ্টা করেছিলেন আমাকে একটা ‘শৃংখলা’য় ফিরিয়ে আনতে। সফলও হয়েছিলেন বেশ খানিকটা। কিন্তু বেবী চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এরপরে অবশ্য আমার ইচ্ছায় এবং আমার মেয়ের ইচ্ছায় বিয়ে করেছিলাম আবারো। টেকেনি!
ধরে নেবো- আমার কারনেই টেকেনি! যদিও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- আমার মত compromise করতে পারার এবং well communicate করতে পারার মত মানুষ এ জগতে খুব কমই আছে (এ জগতে অবশ্য সবাই ওরকমই ভেবে থাকে :-))! তবুও হয়নি বোঝাপড়া, টেকেনি! আমায় ক্ষমা করবেন ‘তিনি’ এবং আপনারা সবাই মিলে! আমার অবশ্য অনেক দোষ আছে। প্রচন্ড উন্মাসিকতা আছে, জেদ আছে, বদ-রাগ আছে, উদাসীনতা, বোকামী আর ভীষন অলসতা আছে আমার। তবে, পারতপক্ষে মিথ্যা বলিনা, অন্যায় করিনা, জেনেশুনে কারো ক্ষতি করিনি এবং করিনা।

 

১৪.৭
অটল আছিঃ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাইরে জীবনে কোনদিন কিছু করিনি, করবোনা; প্রশ্নই আসেনা।
এতকিছুর পরেও, আজকাল যে দু’একজন একটু ‘টোকা’ দিয়ে দেখেন না- তেমনটি অবশ্য নয়। আমার এত ব্যর্থতার পরেও কেউ আমার প্রতি আগ্রহী হতে পারেন, এটা ভাবতেই কেমন যেন লাগে! তাঁদের ভালোবাসা, মহানুভবতা, বুদ্ধিমত্তা, এবং সহানুভূতির প্রতি আমার যথাযথ শ্রদ্ধা রইলো। উনাদের প্রতি আমার কথা একটাই- আমি আর ‘ওই যুদ্ধে যাবোনা’ ভাই ! যথেষ্ট হয়েছে। এবারে মাফ চাই!

 


১৪.৮
আসলে এটাওতো সত্যি; এ জগতে সবাই ‘সংসার করতে’ আসেনা, পারেও না! আমি সেই ‘ব্যর্থ-সংসারীদের’ একজন! আমায় মার্জনা করুন! আমার মেয়েটি বড়ো হয়েছে। নিজের যোগ্যতায় সে একটি ইংরেজী দৈনিকে সাব-এডিটরের কাজ করছে। আমার শেষ দিন পর্যন্ত সন্তানের জন্য যতটা পারি- করে যাবো। বাকী যে ক’দিন আছি- একদম ভালো হয়ে যাবো; ভালো হয়ে চলবো। “সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি”- ছড়াটি আওড়াবো প্রতিদিন। হাতে আসলে অনেকগুলো ‘কাজ’ অসমাপ্ত পড়ে আছে। ওগুলো যতটা পারি ‘সমাপ্ত’ করতে হবে।

 


১৪.৯
১) আমার একটি audio-visual archive আছে। ১৯৮১ সাল থেকে বহু কষ্টে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি, একা! বাংলাদেশে যত উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে ২০০১ সাল পর্যন্ত (১৯৮১ সাল থেকে); তার প্রায় সবটুকুরই কিছু না কিছু আমি রেকর্ড করে রেখেছি। বাচ্চার জন্য দুধ না কিনেও আবেগে-বশে ফিল্ম কিনেছি, ক্যাসেট কিনেছি! তাতে কি লাভ হয়েছে জানিনা! বউ-বাচ্চার ‘অভিশাপ’ ছাড়া আর কিছুই পেলাম না তেমন! সেই আর্কাইভটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। ওটাকে digitally on-line করে দিতে হবে, যাতে পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে যে কেউ আর্কাইভের সব ফুটেজ দেখতে পারে। প্রয়োজনে সংগ্রহ করতে পারে।

 

২) ঠিক এই মুহুর্তে গোটা তিনেক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণাধীন আছে হাতে। ওগুলো আগামী বছর মার্চ মাসের মধ্যেই রিলিজ করতে হবে। এরমাঝে আবার চলতি বছরে ডিসেম্বরেই একটি রিলিজ করার পরিকল্পনা আছে।


৩) এরপরেও যদি হাতে সময় থাকে, তাহলে বিভিন্ন ফিল্ম-ইনস্টিটিউটগুলোতে ‘অভিজ্ঞতা শেয়ার’ করবো সাধ্যমত। শিক্ষার্থীদের যদি কোন কাজে আসতে পারি, খুশী হবো।

 


১৪.১০
তারপর?
“তার আর পর নেই ......”!
এরমাঝেই ‘ডাক’ এসে যাবে। কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই আমার, কোন অনুযোগ নেই, অভিমান নেই। তবে দুঃখ আছে, কষ্ট আছে আর আফসোস আছে! ৪৫ বছর পরে স্বাধীনতার শত্রুরা এমন মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, ভাবিনি। কার ভুলে, কার পাপে ওদের উত্থান- সেটা অবশ্যই খুঁজে বার করার প্রয়োজন আছে। প্রয়োজন আছে যথাযথ চিকিৎসার! বঙ্গবন্ধু-কন্যা আমাদের প্রত্যাশার চাইতেও অনেক বেশী এগিয়ে আছেন। কিন্তু দেশপ্রেমিকরা যথাযথভাবে উনার সাথে এগিয়ে না গেলে কি প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাবে?নতুন প্রজন্মের কাছে বলি- প্রয়োজনে ডাকবেন; অবশ্যই যাবো। কারন, “বাড়িতে যখন ডাকাত পড়ে, তখন শিল্পীকেও বেহালা ফেলে হাতে বন্দুক তুলে নিতে হয়”! আমরা অস্ত্র জমা দিয়েছি, ট্রেনিং জমা দেইনি কিন্তু! সবাই ভালো থাকুন, অনেক ভালো। অনেক সুন্দর থাকুন। গীতিময় এবং ছন্দোময় হোক আপনাদের জীবন। ’

 


১৫.
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেমন তাঁর হৃদয়ে সদা জাগ্রত, তেমনই মননে সততই জ্বলে আলোর মশাল, সেটা আলোকিত মানুষ গড়ার ভাবনা-চিন্তা কেন্দ্রিক। আর তারই প্রকাশ দেখি কাওসার ভাইয়ের নানা লেখায়। ‘GPA- 5; তারুণ্যের জয় হোক ...’ শিরোনামের রচনায় তিনি বলছেন, ‘আমি কোনদিনই ভালো ছাত্র ছিলাম না! পড়াশোনায় অমনযোগিতা এবং অকৃতকার্যতার জন্য স্কুল এবং বাড়িতে ‘মার খাইনি’ এমন কোন দিনের কথা আজো মনে করতে পারিনা! শুধুমাত্র ‘দুই ঈদের’ দিন বাদে অন্যকোনদিন ‘মার’ না খেলে মনে হত- আজ কিছু একটা ‘খাইনি’ বোধহয়! আমি হলাম ‘সেই রকম’ রদ্দি মার্কা একজন ছাত্র! যদিওবা ‘তৃ্তীয় বিভাগের’ কলংক কোনদিন মাথায় নিতে হয়নি। তাই বলে আবার কম্বাইন্ড লিষ্টে স্ট্যান্ড করা ছাত্রও আমি নই।
কিন্তু এটা কি দেখলাম!


GPA-5 পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে একটি টিভি-রিপোর্ট দেখলাম ফেসবুক-এ। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছিনা ঘটনাটি! ঘটনা যদি সত্য হয়েই থাকে, তাহলে আমরা কাদের হাতে আমাদের পতাকা তুলে দিয়ে যাচ্ছি? দেশ দিয়ে যাচ্ছি কাদের হাতে? তৃ্তীয় বিভাগে (আজকাল এদের রেটিং-এর কোডটি জানিনা) পাশ করা কোন ছাত্রছাত্রী হলে কথা ছিল নাহয়। কিন্তু এ যে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের কাহিনী!

 


১৫.২
ভাবা যায়-
GPA-5 পাওয়া ছাত্রছাত্রীরা বলছে- পীথাগোরাস একজন ঔপান্যাসিক, বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনা করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম, আমি জিপিএ-৫ পেয়েছির ইংরেজী- I am GPA 5, ভাষা দিবস কবে- তা জানেনা, অপারেশনের সময় যে লাইট জ্বালিয়ে রাখে, তার নাম- অপারেশন সার্চলাইট !
কী ভয়ানক এবং মারাত্মক পরিস্থিতি!
এগুলো দেখবার আগে আমার মরণ হলে ভালো ছিল!
আমাদের গোটা ‘শিক্ষা ব্যবস্থার মান’ কি তাহলে এই রকমই (নিশ্চই নয়)? এ লজ্জার দায় নেবে কে? শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো, আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকেরা, শিক্ষার্থীগণ, অভিভাবকগণ, নাকি গোটা দেশ এবং জাতি?


আমরা কি নিজ নিজ অবস্থান থেকে কোন না কোনভাবে এ অবস্থার জন্য একটু হলেও দায়ী নই? আমরা কি আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার এবং চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে থাকি? অভিভাবক হয়েও আমরা কি পরীক্ষার হলের জানালা দিয়ে সন্তানদের কাছে নিজের হাতে নকল সাপ্লাই করিনা- কাঙ্ক্ষিত ফল লাভের আশায়? ‘শিক্ষার’ চাইতে ওজনদার একটি ‘সার্টিফিকেট’ কি অনেক বেশী বড়ো নয় আমাদের কারো কারো কাছে?

 


১৫.৩
তবে যত যাইই বলুন, আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেনা কিছুতেই! যে ছেলে কিংবা মেয়েটি “আমি জিপিএ-৫ পেয়েছির ইংরেজী translate করে বলে- I am GPA 5”; তার পরীক্ষার খাতা কে দেখেছেন? ওইসব ছেলে মেয়েরা কোনমতে ‘পাশ’ করতে পারে বটে; কিন্তু তারা GPA- 5 পেলো কীভাবে? ‘গলদ’ কোথায়? কোন বিশেষ ‘পরীক্ষা-পদ্ধতি’ কি এটার জন্য দায়ী? সেটা মন্ত্রণালয়কেই খুঁজে বার করতে হবে।


আমাদের মাঝে আবার কারো কারো অভ্যেস আছে- কোথাও কোন দূর্বলতা পেলেই সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে একচোট দেখিয়ে দেয়া। আমার এই লেখার প্রেক্ষিতে যাঁরা মন্তব্য করবেন তাঁদের কাছে বিনীত অনুরোধ- বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ‘দায়িত্বশীল’ মন্তব্য করবেন প্লিজ। সমালোচনা অবশ্যই থাকবে, তবে সেটা তথাকথিত ‘সরকার পতনের’ শ্লোগান নয়।
অল্প ক’জন (১৩ জন, তারমাঝে ছয় জন GPA 5 পাওয়া; রিপোর্টে উল্লেখিত) ‘এই রকম’ শিক্ষার্থীদের জন্য গোটা শিক্ষা-ব্যবস্থাকে হেয় করা উচিৎ হবে কি? এই 'এদের' পার্সেন্টেজ কত হবে?

 


১৫.৪
যারা এতদিন ধরে ‘সত্যিকারের GPA- 5’ পেয়ে এসেছে তাদেরকে ‘এদের’ সাথে গুলিয়ে ফেলা কতখানি সমীচীন হবে? এই রিপোর্টের কোথাও কি সত্যিকারের ‘মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের’ প্রতি ‘যথাযথ শ্রদ্ধা’ প্রদর্শন করা হয়েছে? ‘প্রকৃ্ত মেধাবী’ শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং অন্যান্যদের কথা একবার ভাবুন! এই রিপোর্টের ফলে তাঁদের ‘মনের অবস্থা’ কি হতে পারে সেটা কি আমরা ভেবে দেখেছি?
তাই বলে ওই ‘I am GPA-5’গুলোকে ছাড় দিতে হবে এমন কথা বলছিনা!

 

যথাযথ কর্তৃপক্ষকেও অহেতুক ছাড় দেবার কোন প্রয়োজন নাই। সত্যিকারভাবে যাদের ‘দায়’ আছে- তাদেরকে অবশ্যই কলংকের ভার মাথায় নিতেই হবে। এই ‘ত্রুটি’ সারাবার বন্দোবস্ত যথাযথ কর্তপক্ষকেই করতে হবে। এরমাঝে অবশ্য আমাদের নিজেদের কোন ‘দায়’ আছে কীনা সেটাও দ্বিতীয়বার ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়!
আমি মনে করিনা “I am GPA- 5”ওয়ালাদের সংখ্যা খুব বেশী!
মাত্র ১৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এই জরীপ চালানো হয়েছে। ‘শিক্ষা-মেধা-মনন’ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে চেয়ার টেবিল কিংবা হাড়ি-পাতিলের ‘মান যাচাইয়ের পদ্ধতি’ কতখানি বিজ্ঞানসম্মত তা কি আমরা ভেবেছি?

 


১৫.৫
রিপোর্টারের প্রতি হাজারো শ্রদ্ধা জানিয়েই বলছি- এই রিপোর্ট অত্যন্ত জ্বালাময়ী! একই সঙ্গে ইতিবাচক এবং নেতিবাচকও বটে! ইতিবাচক এই কারনে যে, “I am GPA- 5”ওয়ালাদের সংখ্যা যত কমই হোকনা কেন- ‘সত্য, চিরকালই সত্য’! কথায় বলে- “একজনে করে নষ্ট সবে দুঃখ পায়”! ‘এতকিছু’ দেখেশুনেও মুখ বুঁজে থাকাটাও কিন্তু অপরাধ! সুতরাং, রিপোর্টার ভাই সঠিক কাজটিই করেছেন! সমালোচনা না থাকলে শুধরাবো কিভাবে? যদিও আমাদের ‘সমালোচনা’ সহ্য করার অভ্যেস একেবারেই কম! সেদিক থেকে এই রিপোর্টের জন্য আমি রিপোর্টার ভাইকে অভিনন্দন জানাই।

 


কিন্তু, পাশাপাশি- এই রিপোর্টে মেধাবী শিক্ষার্থী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং অভিভাবকদের প্রতি কোন ‘সম্মান্সূচক স্বীকৃ্তি’ না থাকার ফলে জাতির সত্যিকারের মেধাবী-প্রজন্ম প্রচণ্ড আহত এবং হতাশ হয়ে পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, সত্যিকারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মহলে ‘অনাকাংখিত’ কটাক্ষ আর তিরষ্কারের স্বীকার হয়ে ‘হীনমন্যতায়’ ভূগতে পারে! এটা জাতির জন্য মোটেও কাম্য হতে পারেনা।

 


১৫.৬
ভবিষ্যতে এই তথাকথিত “অযোগ্য-শিক্ষার্থীদের” সামাজিক অবস্থানই বা কি হবে? কোন একটি পর্যায়ে তারাতো সংকট কাটিয়ে আপন প্রতিভায় একদিন উদ্ভাসিত হতেও পারেন। তখন কি এই ‘গনগনে রিপোর্টটি’ তাদের জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়াবে না? সাক্ষাতকার প্রচারের পূর্বে সম্পাদনার সময় শিক্ষার্থীদের চেহারা কি ‘মাস্ক’ কিংবা ‘ব্লার’ করে দেয়া যেতো না? সে ক্ষেত্রে ‘আম আর ছালা’ দু’টোই রক্ষা পেতো বোধহয়!
এই ‘ছয়জন GPA- 5’ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘অযোগ্যতা’ অবশ্যই আছে, তবে তারা কিন্তু 'ঋণ-খেলাপি' কিংবা 'জঙ্গী' নয়! চোর বদমাশ কিংবা মাদকসেবী নয়! আমাদের মনে রাখতে হবে- ‘অযোগ্য’ আর ‘অপরাধী’ কিন্তু এক নয়!


আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের নতুন প্রজন্ম অত্যন্ত মেধাবী এবং সৃজনশীল। নইলে ‘গণিত অলিম্পিয়াড’ কিংবা ‘বিজ্ঞানমেলায়’ অথবা বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে এত ভালো ফললাভ করতে পারতোনা। আমি প্রায় প্রতিনিয়ত নতুন প্রজন্মের সাথে মিথষ্ক্রীয়ায় লিপ্ত হয়ে থাকি। তাদের মেধার পরিধি এবং বিস্তার দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। আমি ভীষন আশাবাদী- নতুনদের নিয়ে। এরাই একদিন আমাদের দেশ এবং জাতিকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যাবে। আমি নিশ্চিত।
অল্পক’জন ‘এ রকম’ শিক্ষার্থীদের দিয়ে গোটা নতুন প্রজন্মের মেধার স্তরকে কলংকিত করা ঠিক হবে কীনা আরো একবার ভেবে দেখা প্রয়োজন।


১৫.৭
পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই- অত্যন্ত বিনীতভাবে।
এই যে “I am GPA- 5”-এর দল কিংবা যাদেরকে আমরা এত তিরষ্কার করছি- তারাওতো 'আমারই সন্তান'। ‘আমার এই সন্তান’দের কলংক আমি কোথায় লুকিয়ে রাখি বলুন! ওদেরওতো একটি পরিবার আছে, প্রতিবেশ আছে, পরিচয় আছে। এই যে আমরা সবাই ‘ওদের’ ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছি ‘খড়গ’ নিয়ে; ওদের কি তাতে এতটুকু ‘হীনমন্যতা’ দেখা দিতে পারে না?
জানি, আমার ওই সন্তানদের মাঝে অনেক ত্রুটি আছে, বিচ্যুতি আছে, অযোগ্যতা আছে। কিন্তু তাই বলে টেলিভিশনে তুলোধুনোর পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবে ‘তিরষ্কার’, ‘কটাক্ষ’ ওদেরকে যদি ‘ভিন্নপথে’ ঠেলে দেয় তখন আমরা কি সেটার দায়িত্ব নেবো? ওদের বয়সটাতো বিবেচনায় রাখতে হবে।

 


আমি, আমার ওই ‘I am GPA- 5’ সন্তানগুলোকে বিনীতভাবে আহবান জানাবো- ‘ভুল থেকে’ শিক্ষা নিয়ে নতুন দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার শক্তি অর্জন করতে। তাছাড়া টিভি-ক্যামেরার সামনে কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ কোন একটি বিষয়ে যে কেউ ‘ব্লাংক’ হয়ে যেতেই পারে। এইতো সেদিন, একটি ‘টক-শো’তে আমি নিজেও আমাদের দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বরের নাম মনে আনতে না পেরে প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মত ব্লাংক ছিলাম। অতএব, ‘এটা’ নিয়ে একেবারে ভেঙ্গে পড়ার কিছু নেই। তবে ‘বগল বাজানোর’ও কোন কারন নেই। সাবধান হতে হবে।


১৫.৮
আমার বা’জানেরা, অধ্যবসায়ের কোন বিকল্প নাই কিন্তু! এটা আমার কথা নয়, ‘মহাজন বাক্য’। আমি নিশ্চিত, যে ক’জন ছাত্রছাত্রী আজ ‘ভুলের’ শিকার হয়েছে তারা আগামীতে অনেক মেধাবী হয়ে বেড়ে উঠবে। ‘ওদের’ জয় হোক। আমাদের দেশটি আগামীতে এই নতুন প্রজন্মরাই পরিচালনা করবে। এবং সেটা অনেক দক্ষতা এবং মেধার সমন্বয়েই। নতুন প্রজন্মের জয় অবশ্যম্ভাবী।


১৬.
প্রিয় সৎসঙ্গী কাওসার ভাই, জীবন শিক্ষক কাওসার ভাই, আবারো জানাই জন্মদিনের নিরন্তর শুভেচ্ছা, কামনা করি আপনার সকল শুভ ইচ্ছা-চিন্তার নিরন্তর জয় হোক।

 

 

 

 লেখকঃ  আবদুল্লাহ আল মোহন


Top