বিএসএমএমইউতে খালেদার জন্য ৫১২ নম্বর কেবিন প্রস্তুত | daily-sun.com

বিএসএমএমইউতে খালেদার জন্য ৫১২ নম্বর কেবিন প্রস্তুত

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ জুন, ২০১৮ ১১:১৬ টাprinter

বিএসএমএমইউতে খালেদার জন্য ৫১২ নম্বর কেবিন প্রস্তুত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১২ জুন) সকালে বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন গণমাধ্যমকে জানান, কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেলা ১১টার দিকে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য এখানে আনা হতে পারে।

তাই তার চিকিৎসার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তার জন্য ৫১২ নম্বর কেবিন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তার চিকিৎসায় যেসব বিভাগের প্রয়োজন হবে, সেসব বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।


লালবাগ ডিভিশনের উপ-কমিশনার মো. ইব্রাহিম খান জানান, কারাগারের বাইরে সব সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকে। কারা কর্তৃপক্ষ যদি খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যায়, তাহলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে।


এর আগে গত  শনিবার (৯ জুন) বিকেলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে তার চার ব্যক্তিগত চিকিৎসক কারাগারে যান। সাক্ষাৎ শেষে পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে কারা ফটকের সামনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ করেছিলেন।

 
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত ৫ জুন দুপুর ১টার দিকে খালেদা জিয়া হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। ৫-৭ মিনিট পর তার জ্ঞান ফিরলেও ওই সময়ের কথা কিছুই মনে করতে পারছেন না তিনি।

আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যতটুকু বুঝতে পেরেছি তার মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে। আগামীতে বড় ধরনের স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ’

 
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চার পাতার একটি মেডিকেল প্রতিবেদন দিয়ে এসেছি কারা কর্তৃপক্ষকে। ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার সুপারিশ করেছি। কারণ সেখানে বিশেষ এমআরআই করার ব্যবস্থা রয়েছে। অন্য হাসপাতালে যা সম্ভব নয়। হাসপাতালে না নেয়া হলে তার বড় ধরনের স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ’

 
বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে কারাগারে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চার চিকিৎসক। তারা বেরিয়ে আসেন বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে। অন্য তিন চিকিৎসক হলেন-নিউরো সার্জন ওয়াহিদুর রহমান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. আবদুল কুদ্দুস ও ডা. মামুন রহমান।


উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। এরপর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে তাকে সেখানেই রাখা হয়েছে। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ১২৫দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


ইতোমধ্যে আপিলের পর সর্বোচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে এই মামলায় জামিন দিয়েছেন। তবে আরও বেশ কয়েকটি মামলা চলমান থাকায় এখনই তিনি জামিন পাচ্ছেন না।


দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এর আগে একবার কারাগারে যেতে হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাবজেল ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছিল তাকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর তিনি দুর্নীতি মামলায় দ্বিতীয় বার জেলে যান।


এদিকে তার চিকিৎসায় সরকার একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শামসুজ্জামান। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন ডা. মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)।


আরও পড়ুন:


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেই খালেদার অসুস্থতা নিয়ে অবহেলা স্পষ্ট: রিজভী


খালেদা জিয়ার পড়ে যাওয়ার কথা কারা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


৫ জুন ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছিল খালেদা জিয়ার: চিকিৎসক

 


Top