মিয়ানমার-জাতিসংঘ চুক্তিতে নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ না থাকায় হতাশ রোহিঙ্গারা | daily-sun.com

মিয়ানমার-জাতিসংঘ চুক্তিতে নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ না থাকায় হতাশ রোহিঙ্গারা

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ জুন, ২০১৮ ১৬:৩৩ টাprinter

মিয়ানমার-জাতিসংঘ চুক্তিতে নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ না থাকায় হতাশ রোহিঙ্গারা

 

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযানের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলমানরা বলেছেন, গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সঙ্গে যে চুক্তি সই হয়েছে তাতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি: নাগরিকত্ব সম্পর্কে কোন কথা না বলায় তারা হতাশ হয়েছেন। বেশিরভাগ শরণার্থী বলেন, তারা বাড়ি ফিরে যেতে ব্যাকুল, তবে সুরক্ষা ও নাগরিককত্ব ছাড়া তারা ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন।


গত বুধবার মিয়ানমার ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলো একটি চুক্তি সই করে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গার ফিরে যেতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গা বাংলাশেদের শরণার্থী শিবিরগুলোতে গাদাগাদি করে বসবাস করছে।


শরণার্থীরা আলোচনাকে স্বাগত জানালেও তারা বহু বছর ধরেই মিয়ানমার সরকারের কাছ থেকে ফাঁকা বুলি শুনে আসছে।


গত বছর মিয়ানমার সেনবাহিনীর নৃশংস অভিযান শুরুর পর লাখ লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মোহাম্মদ তইলেব আলী বলেন, মিয়ানমারে এখনো যারা রয়ে গেছে তাদেরকে প্রথম নাগরিকত্ব দিতে পারতো দেশটির সরকার।


কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের কাছে একটি বাজারে গত শুক্রবার আলী বলেন, ‘যখন আমরা দেখবো ও জানবো যে তাদেরকে নাগরিত্ব দেয়া হয়েছে তখন আমরা আশ্বস্ত হবো এবং ফিরে যাবো। ’


রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব এবং হারানো সম্পত্তি ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোন চুক্তি নিয়েই তারা সত্যিকারের খুশি হবে না।


আরেক শরণার্থী মোহাম্মদ সৈয়দ বলেন, যখন পুরো বিশ্ব এবং আমরা এই অগ্রগতি দেখতে পাবো তখন আমরা ফিরে যাবো।


তবে জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জটিল আলোচনার মধ্যে এই চুক্তিকে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।


গত বুধবার সই হওয়া এই চুক্তি রোহিঙ্গাদের ‘স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য একটি ‘সহযোগিতা কাঠামো’ তৈরি করবে।


মিয়ানমার কর্মকর্তারা আশা করছেন যে এই চুক্তি প্রত্যাবাসন দ্রুততর করবে কিন্তু মিয়ানমার সরকার অনেক রোহিঙ্গাকেই ফিরে যেতে দিবে না অথবা যারা ফিরে যাবে তাদেরকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিবে না বলে অধিকার সংস্থাগুলো সন্দেহ করছে।


মিয়ানমারের বিবৃতিতে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। এর মধ্য দিয়ে সরকার ও সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী বুঝাতে চায় যে এ ধরনের কোন জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্বই আসলে নেই।


মিয়ানমারের বেশিরভাগ মানুষ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী বলে মনে করে। যদিও বর্তমান আধুনিক সীমান্ত তৈরির আগে থেকেই তারা শত শত বছর ধরে মিয়ানমারে বসবাস করছে। চুক্তিতে শরণার্থীদের ‘স্থানচ্যুত লোকজন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে মূলত রোহিঙ্গাদের বাস। গত বছর নিরাপত্তা বাহিনী সেখানকার বহু রোহিঙ্গা গ্রাম বিরাণভূমিতে পরিণত করে। কয়েকটি পুলিশ চৌকিতে কথিত একটি রোহিঙ্গা জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলার জের ধরে সেনাবাহিনী স্বঘোষিত ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করে।


এই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখ করে।


জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জানান যে বুধবারের চুক্তির পর এর সংস্থাগুলো রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে।


- সূত্র: সংবাদ সংস্থা এপি’র অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top