মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ ও ভুয়া জন্মদিন পালন মামলায় হাইকোর্টের আদেশ চেম্বারে বহাল | daily-sun.com

মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ ও ভুয়া জন্মদিন পালন মামলায় হাইকোর্টের আদেশ চেম্বারে বহাল

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ জুন, ২০১৮ ১৩:৩৫ টাprinter

মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ ও ভুয়া জন্মদিন পালন মামলায় হাইকোর্টের আদেশ চেম্বারে বহাল

 

মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভুয়া জন্মদিন পালন এবং জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ঢাকার দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন বিচারিক আদালতে (নিম্ন আদালত) নিষ্পত্তি সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন চেম্বার জজ আদালত। সোমবার (১১ জুন) বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বর জজ আদালত এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন।


শুনানিতে সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল পদে মাহবুবে আলম এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।


গত ৩১ মে ওই দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। খালেদা জিয়ার জামিন সংক্রান্ত দুটি পৃথক আবেদন নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।


মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে দায়ের মামলায় বলা হয় ‘২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি ও গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন’।


২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। আদালত ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।


২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান (তদন্ত) অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলার অপর আসামি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যু হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।


২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবী।


অন্যদিকে ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর ম্যাট্রিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট। তার বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট। সর্বশেষ ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী তার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট।


বিভিন্ন মাধ্যমে তার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীর দিন জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ-উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্নের জন্য তিনি জন্মদিন পালন করেন।


২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে খালেদাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন।


২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।


উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। এরপর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে তাকে সেখানেই রাখা হয়েছে। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ১২৪দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


ইতোমধ্যে আপিলের পর সর্বোচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে এই মামলায় জামিন দিয়েছেন। তবে আরও বেশ কয়েকটি মামলা চলমান থাকায় এখনই তিনি জামিন পাচ্ছেন না।


দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এর আগে একবার কারাগারে যেতে হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাবজেল ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছিল তাকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর তিনি দুর্নীতি মামলায় দ্বিতীয় বার জেলে যান।

 

আরও পড়ুন:

 

কুমিল্লার নাশকতা ও হত্যা মামলায় খালেদার জামিনাদেশ ২৪ জুন পর্যন্ত স্থগিত

 

কুমিল্লার নাশকতা ও হত্যা মামলায় খালেদার জামিন চেম্বারে স্থগিত

 

কুমিল্লার দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন

 

জাতীয় পতাকা অবমাননা ও ভুয়া জন্মদিন পালন মামলায় খালেদার জামিন শুনানি আজ

 

জামিন পেলেও এখনি মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা: মওদুদ

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে খালেদার জামিন বহাল

 


জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় এখতিয়ারবিহীন বিচার হচ্ছে: যুক্তিতর্কে আইনজীবী


জিয়া চ্যারিটেবল মামলায়ও খালেদার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

 

কুমিল্লায় বাসে পেট্রলবোমা মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ

 

উচ্চ আদালতের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা: মওদুদ

 

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের আদেশ নজিরবিহীন: জয়নুল আবেদীন

 

খালেদার জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত

 

খালেদার জামিনের বিরুদ্ধে দুদকের লিভ টু আপিল

 

খালেদা জিয়ার জামিন রবিবার পর্যন্ত স্থগিত

 

চেম্বারেও খালেদার জামিন বহাল, পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি কাল

 

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের আবেদন


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেন খালেদা জিয়া


তারেকসহ ৫ আসামির ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

 

 


Top