ইতিহাস গড়তে সালমা বাহিনীর প্রয়োজন ১১৩ | daily-sun.com

ইতিহাস গড়তে সালমা বাহিনীর প্রয়োজন ১১৩

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ জুন, ২০১৮ ১৪:০০ টাprinter

ইতিহাস গড়তে সালমা বাহিনীর প্রয়োজন ১১৩

এশিয়া কাপ ফাইনালে শিরোপা জিততে সালমা বাহিনীর প্রয়োজন ১১৩ রান। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের কিনরারা একাডেমিতে এশিয়া কাপের ফাইনালে টসে জিতে ভারতীয় মেয়েদের ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক সালমা খাতুন।

বাংলাদেশি মেয়েদের বোলিং তোপে পড়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান করে ভারত।


টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে চাপে পড়ে যায় ভারত। ইনিংসের ৪র্থ ওভারে রানআউটের মাধ্যমে প্রথম ব্রেকথ্রু পায় বাংলাদেশ। নাহিদা আকতারের দুর্দান্ত থ্রো’তে ৭ রান করে ফেরেন স্মৃতি মান্ধানা। রানের চাকা থামিয়ে দেন সালমা-নাহিদারা।  


এরপর বোলিং আক্রমনের মুখে প্রথম ৭ ওভারে ২৮ রান সংগ্রহ করতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বেকফুটে চলে যায় ভারত। ১৫ ওভার শেষে ভারতের মেয়েদের স্কোর ছিল ৭ উইকেটে ৭৪ রান। সেখান থেকে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে দলটির সংগ্রহ ৯ উইকেটের বিনিময়ে ১১২ রান। যেখানে স্কোর ১০০ রান পেরোবে কিনা তা নিয়েই সন্দেহ ছিল সেখানে এই সংগ্রহের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান দলটির অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌরের।

তার অপরাজিত হাফসেঞ্চুরিতেই একশ ছাড়ায় ভারতের ইনিংস।

ইনিংসের ৭ম ওভারে দীপ্তি শর্মাকে (৪) সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান জাহানারা আলম। পরের ওভারেই মিথালি রাজকে (১১) ফারজানা হকের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন খাদিজা তুল কুবরা। তার এক ওভার পরে উইকেটরক্ষক শামীমা সুলতানার থ্রো ইচ্ছাকৃতভাবে থামিয়ে আউট হন অনুজা পাতিল।


পঞ্চম উইকেটে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন অধিনায়ক হারমানপ্রিত এবং ভেদা কৃষ্ণামুর্থি। ১৩তম ওভারে কৃষ্ণামুর্থিকে (১১) সরাসরি সরাসরি বোল্ড করে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সালমা খাতুন। অপর প্রান্তে বাংলাদেশের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে খেলতে থাকেন হারমানপ্রিত।


অষ্টম উইকেটে অভিজ্ঞ ঝুলান গোস্বামিকে নিয়ে ৩৩ রানের জুটি গড়েন হারমানপ্রিত। আউট হওয়ার আগে ১১ রান করেন ঝুলান। ইনিংসের শেষ বলে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন হারমানপ্রিত। ক্যারিয়ারের ৫ম হাফসেঞ্চুরিতে ৫৬ রান করেন তিনি। ভারতের ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ১১২ রানে।


বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে ২টি করে উইকেট নেন রোমানা আহমেদ এবং খাদিজা তুল কুবরা। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন সালমা খাতুন এবং জাহানারা আলম।


আজ বাংলাদেশ জিতলে ইতিহাস হবে। প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টের কাপ ঘরে তুলবে তারা। বাংলার কোটি সমর্থক আজ অবশ্য সেটাই চাইবে।


২০০৪ সালে প্রথমবার এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের আয়োজনে মেয়েদের এশিয়া কাপ ক্রিকেট শুরু হয়। সেবার ভেন্যু ছিল শ্যীলঙ্কা। প্রথম চ্যাম্পিয়ন ছিল ভারতই। শুধু তাই নয়, ২০১৬ পর্যন্ত মোট ৬বার মেয়েদের এশিয়া কাপ হয়েছে। প্রত্যেকবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। ২০০৮ পর্যন্ত এই আসর ছিল ওয়ানডে ফরম্যাটের। এই ২০১৮ নিয়ে টানা তিনবার টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে হচ্ছে এশিয়া কাপ। বাংলাদেশের মেয়েরা আক্ষরিক অর্থেই সবাইকে চমকে দিয়ে ফাইনালে উঠে এসেছে।


বাংলাদেশ একাদশ: সালমা খাতুন, রোমানা আহমেদ, জাহানারা আলম, ফারজানা হক পিংকি, নিগার সুলতানা জোত্যি, খাদিজা তুল কুবরা, ফাহিমা খাতুন, শামীমা সুলতানা, নাহিদা আকতার, সানজিদা আলম এবং আয়েশা রহমান।


ভারত একাদশ: হারমানপ্রিত কৌর, ঝুলান গোস্বামি, স্মৃতি মান্ধানা, একতা বিশ্ত, মিথালি রাজ, শিখা পান্ডে, ভেদা কৃষ্ণামুর্থি, পুনাম, তানিয়া ভাটিয়া, দীপ্তি শর্মা এবং অনুজা পাতিল।

 


Top