৫ জুন ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছিল খালেদা জিয়ার: চিকিৎসক | daily-sun.com

৫ জুন ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছিল খালেদা জিয়ার: চিকিৎসক

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ জুন, ২০১৮ ১৯:৪১ টাprinter

৫ জুন ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছিল খালেদা জিয়ার: চিকিৎসক

শনিবার বিকেলে রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক। কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী।

 

 

 

ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘দাঁড়ানো অবস্থা থেকে গত ৫ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলেন। তখন কী হয়েছিল, তা তিনি বুঝতে পারেননি। সে সময়ে প্রায় ৫-৭ মিনিট অজ্ঞান ছিলেন বিএনপি নেত্রী। আমাদের ধারণা, তার মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল। ’

 

 

তিনি বলেন, ‘কারাগারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও যথাযথ চিকিৎসা সেবার অভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন খালেদা জিয়া। মাইল্ড স্ট্রোক সাধারণত মেজর স্ট্রোকের লক্ষণ। সুচিকিৎসা না পেলে আগামীতে যে কোনো সময় তিনি মেজর স্ট্রোকের শিকার হতে পারেন। ’

 

 

ডা. এফএম সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘আমরা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ৪ পৃষ্ঠার একটি মেডিকেল রিপোর্ট দিয়েছি। খালেদা জিয়ার অনেকগুলো মেডিকেল টেস্ট করা দরকার, যেগুলো কারাগার কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত হাসপাতালে নেই।

এজন্য আমরা তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে টেস্ট করার জন্য অনুরোধ করেছি। একইসঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়ার জন্যও দাবি জানিয়েছি। ’

 

 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- নিউরো সার্জন ওয়াহিদুর রহমান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবদুল কুদ্দুস ও ডা. মামুন রহমান। এর আগে বিকেল সোয়া চারটার দিকে খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত এই চার চিকিৎসক কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

 

 

গতকাল শুক্রবার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, বেগম খালেদা জিয়া দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি তিন সপ্তাহ যাবৎ ভীষণ জ্বরে ভুগছেন, যা কোনোভাবেই থামছে না।

 

 

তিনি আরও দাবি করেন, বেগম জিয়ার পা এখনো ফুলে আছে এবং তিনি তার শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছেন না। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে আমি যে কথাগুলো বললাম, তা সম্পূর্ণরুপে সত্য। তার অসুস্থতা নিয়ে ইতোপূর্বেও যে কথাগুলো বলা হয়েছে তা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হতো না।

 

 

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরোনো ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকে তাকে নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে রাখা হয়েছে।

 

 

ইতোমধ্যে আপিলের পর সর্বোচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে এই মামলায় জামিন দিয়েছেন। তবে আরও বেশ কয়েকটি মামলা চলমান থাকায় এখনই তিনি জামিন পাচ্ছেন না।

 


Top