যারা নির্বোধ, তারাই বলে ভুয়া বাজেট: অর্থমন্ত্রী | daily-sun.com

যারা নির্বোধ, তারাই বলে ভুয়া বাজেট: অর্থমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ জুন, ২০১৮ ১৬:৪৪ টাprinter

যারা নির্বোধ, তারাই বলে ভুয়া বাজেট: অর্থমন্ত্রী

 

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, যারা নির্বোধ ও যাদের দেশপ্রেম নেই, তারাই বলে ভুয়া বাজেট। তিনি বলেন, ভুয়া বাজেট বলে কিছু নেই।

বাজেট যখন দেই, সেটা ভেবেই দেই। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা যা নির্ধারণ করেছি তা বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করি। শুক্রবার (৮ জুন) বিকেল পৌনে ৩টায় ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।


তিনি আরও বলেন, বাজেট কী করে ভুয়া হয়? যারা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ভুয়া বলছেন তাদের দেশপ্রেম জিরো (শূন্য)।


বাজেটকে ‘নির্বাচনী বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার সব বাজেটই নির্বাচনী বাজেট। আমি একটি দলের সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সে হিসেবে আমার বাজেট নির্বাচনী বাজেটই হবে। আমি এমন বাজেট দিই যেটা মানুষ পছন্দ করবে।


এবারের বাজেট তেলা মাথায় তেল দেয়া এবং গরীব ও মধ্যবিত্তদের আরও বিপদে ফেলার বাজেট এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশে দারিদ্র্যতা বাড়ছে না। এসব মিথ্যা। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতেও লজ্জা হয়। ইট'স এ সিম্পল স্টেটম্যান্ট অব ফলসহুড। আপনারা দেশের পরিবর্তন স্বীকার করছেন না। দেশে বর্তমানে ২২.৪ শতাংশ লোক গরীব। একসময় এটি ছিল ৭০ শতাংশ।


এবারের বাজেটে প্রসাধনী পণ্যের ওপর কর বসানো হয়েছে। এটা ভোটব্যাংকে কোনো প্রভাব ফেলবে কী না জানতে চাইলে উত্তর দেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। একটি কবিতার কয়েক লাইন আবৃত্তি করে তিনি বলেন, একটু কম প্রসাধনী ব্যবহার করলে দেখতে যে খারাপ লাগবে বিষয়টি সেরকম নয়।


সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বিরক্ত হয়ে উত্তর দেয়া বন্ধ করে দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনারা মুখে বলছেন না, কিন্তু বোঝাতে চেয়েছেন কিছুই হয়নি। আপনারা বাজেটটাকে গ্রহণই করতে চাইছেন না। কতগুলো প্রশ্ন নিয়ে এসেছেন এবং সেগুলোই বলছেন।  


সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, প্রধান হুইপ আসম ফিরোজ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম।


উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

 
বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের এটিই শেষ বাজেট। গত অর্থবছরের বাজেট ছিল চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকা।

 


Top