সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুসহ অনলাইনে পেনশন দেয়ার প্রস্তাব | daily-sun.com

সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুসহ অনলাইনে পেনশন দেয়ার প্রস্তাব

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ জুন, ২০১৮ ১৬:১১ টাprinter

সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুসহ অনলাইনে পেনশন দেয়ার প্রস্তাব

 

প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি ও বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের অবসরকালীন সুবিধা দিতে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, আমরা অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে চাই, কমাতে চাই বৈষম্য।

তাই, বিদ্যমান সরকারি পেনশন কার্যক্রমের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত সব কর্মজীবী মানুষের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে চাই। বৃহস্পতিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনের সময় তিনি একথা জানান।


একই সঙ্গে উপকারভোগীদেরে দুর্ভোগ কমাতে অনলাইনে পেনশন দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্ভোগ কমাতে অনলাইনে পেনশন দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক ক্যাশ ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে পেনশনের টাকা সরাসরি উপকারভোগীদেরে অ্যাকাউন্টে চলে যাবে।


তিনি আরও বলেন, পেনশন প্রক্রিয়া ও পেনশনের আওতার ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে। অবসরকালে সরকারি কর্মচারীদের নিরবচ্ছিন্ন আয় প্রবাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান শতভাগ নগদায়ন প্রথা রহিত করা হয়েছে। একইভাবে এ আয়কে মূল্যস্ফীতির প্রভাব মুক্ত রাখার জন্য পেনশনের ক্ষেত্রেও ইনক্রিমেন্ট প্রথা চালু করা হয়েছে।


শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মৃত্যুর পর তাদের স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী সন্তানকে আজীবন এবং বিপত্নীক স্বামীকে সর্বাধিক ১৫ বছর মাসিক চিকিৎসা ভাতা ও বছরে দুটি উৎসব ভাতা দেয়ার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।

পেনশনভোগীদের হয়রানি কমাতে পেনশন দেয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে। ইএফটির মাধ্যমে সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে পেনশন দেয়া হবে। এ কার্যক্রম পাইলট আকারে চালু হয়েছে, যার পরিধি শিগগিরই সব মন্ত্রণালয়/ বিভাগে বিস্তৃত করা হবে। এর ফলে পেনশন উত্তোলনে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে বা ব্যাংকে যেতে হবে না। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট তারিখে পেনশনারের পছন্দ অনুযায়ী তার ব্যাংক হিসাবে সরাসরি পেনশনের টাকা স্থানান্তর করা হবে এবং এসএমএসের মাধ্যমে তা পেনশনারকে জানিয়ে দেয়া হবে।


অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের পেনশন বাবদ বাজেট ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহ বিক্ষিপ্তভাবে পেনশন বাবদ বরাদ্দ সংরক্ষণ করতো। বর্তমানে সরকারের সব মন্ত্রণালয়/বিভাগের পেনশন বাবদ বরাদ্দ অর্থ বিভাগের অনুকূলে রাখা হচ্ছে, যা এ তহবিল ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও ভবিষ্যৎ তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পৃথক পেনশন অফিস স্থাপন করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় কাজ করবে। ফলে ভোগান্তি স্থায়ীভাবে দূর হবে।


সার্বজনীন পেনশন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সর্বজনীন পেনশনের প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় সরকার পরিচালিত স্কিমে নিবন্ধন করে একজন কর্মজীবী মাসিকভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা জমা করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষও একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীর পেনশন হিসাবে জমা করবে। হতদরিদ্র শ্রমজীবীদের ক্ষেত্রে সরকার পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তাদের অংশের অতিরিক্ত হিসাবের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ওই হিসাবে জমা করবে।


তিনি বলেন, এ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গঠিত তহবিল বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত আয় সর্বজনীন পেনশন তহবিলে জমা হতে থাকবে। ক্রমপুঞ্জিভূত চাঁদা ও আয়ের পরিমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবসরকালে মাসিক পেনশন প্রাপ্ত হবেন। তবে, সর্বজনীন পেনশন প্রবর্তনের জন্য মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন হবে, যা সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার।


স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ নামে ১৬৬ পৃষ্ঠার বাজেট বই ১২ টা ৫০ এ পড়তে শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছে। এর আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।


বাংলাদেশের এটি ৪৭তম বাজেট এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯তম। আর অর্থমন্ত্রী হিসাবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের ১২তম বাজেট।


২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী। গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজেটের আকার বাড়ছে মাত্র ৬৮ হাজার কোটি টাকা। নির্বাচনী বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।


২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সংশোধন করে তা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকায় নামানো হয়।

 


Top