বাজেট পরবর্তী সময়ে যেসব পণ্যের দাম কমছে | daily-sun.com

বাজেট পরবর্তী সময়ে যেসব পণ্যের দাম কমছে

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ জুন, ২০১৮ ১৫:৫৬ টাprinter

বাজেট পরবর্তী সময়ে যেসব পণ্যের দাম কমছে

 

প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে কর কমায় বাজেট পরবর্তী সময়ে দাম কমবে বেশ কিছু পণ্যে। এগুলো হলো- কৃষিজমির রেজিস্ট্রেশন ফি, দেশি মোটর সাইকেল, গুঁড়ো দুধ, ক্যানসারের ওষুধ, পাউরুটি, রড, সিমেন্ট, হাইব্রিড মোটরকার, টায়ার-টিউব তৈরির কাচামাল, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ, ডে কেয়ার হোম সার্ভিস, আমদানি পোল্ট্রি খাদ্য, দেশীয় রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার, বিমা পলিসি, অভ্যান্তরীণ বিমান ভাড়া।


বৃহস্পতিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনের সময় তিনি একথা জানান।


বাজেট প্রস্তাবনার লিখিত বক্তব্য মন্ত্রী বলেন, কৃষি জমিসহ সকল প্রকার ভূমি রেজিষ্ট্রেশনের উপর মূল্য সংযোজন কর বহাল ছিলো। কিন্তু তা আদায় করা সম্ভব ছিলো না। সব দিক বিবেচনায় কৃষি জমির উপর মূসক অব্যাহতি প্রদান করে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর দ্বিতীয় তফসিলে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।


নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে ক্যান্সার ও কিডনী জাতীয় রোগের প্রতিষেধক হিসাবে Erythropoietin নামীয় ঔষধকে আমদানি পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করেন অর্থমন্ত্রী।


দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষেরা প্রতি কেজি ১০০ (একশত) টাকা মূল্যমান পর্যন্ত পাউরুটি ও বনরুটি, হাতে তৈরী বিস্কুট ও হাতে তৈরী কেক (পার্টিকেক ব্যতীত) খেয়ে থাকেন। তাই প্রতি কেজি ১০০ (একশত) টাকা মূল্যমান পর্যন্ত পাউরুটি, বনরুটি, হাতে তৈরী বিস্কুট এবং ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) টাকা পর্যন্ত হাতে তৈরী কেক (পার্টিকেক ব্যতীত) এর উৎপাদন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।


দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী প্লাস্টিক ও রাবারের তৈরি হাওয়াই চপ্পল ব্যবহার করেন। এ পণ্যটি দরিদ্র মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা ও প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে প্লাস্টিক ও রাবারের তৈরি হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকার উপর (১৫০ টাকা মূল্য পর্যন্ত অনপনীয় কালিতে মুদ্রিত/খোদাইকৃত থাকার শর্তে) এর উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।


কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক-কর প্রণোদনা প্রদান আমরা সব সময়েই করে থাকি। কৃষিপণ্য হিসাবে Coriander seed এবং Melon seed কে বীজ হিসাবে রপ্তানিকারক দেশের প্রত্যয়ন প্রদানের শর্তে আমদানি পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করছি।


প্রাণিসম্পদ রক্ষা ও প্রাণিসম্পদের বৃদ্ধি দেশের জন্য অপরিহার্য বিবেচনা করে গবাদি পশুর গো-খাদ্য ফসলবীজ (Fodder Crop Seed) হিসাবে Millet seed কে বীজ হিসাবে রপ্তানিকারক দেশের প্রত্যয়ন প্রদানের শর্তে আমদানি পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।


তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে মোবাইল ফোনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদন কার্যক্রমকে প্রণোদনা প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘মোবাইল টেলিফোন সেট’কে উৎপাদন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করে একটি আলাদা প্রজ্ঞাপন জারীর প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনের উপর সারচার্জ অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করে আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।


বিদেশি মোটর সাইকেলের উপর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও আমদানি বিকল্প হিসেবে এ পণ্যকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোটর সাইকেল উৎপাদনকে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।


জাতিসংঘের আওতাধীন আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন সংস্থার রীতি-নীতি ও শিকাগো কনভেনশন অনুযায়ী ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো স্থানীয় পণ্য বা সেবা গ্রহণের নিমিত্তে প্রযোজ্য অভ্যন্তরীণ শুল্ক-কর অব্যাহতি সুবিধা ভোগ করে থাকে। সে বিবেচনায় দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স অপারেটর কর্তৃক শুধুমাত্র ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বন্দর সেবার বিপরীতে প্রযোজ্য ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।


বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো ইন্সুরেন্স পলিসির উপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক প্রদান করে থাকে। এ পলিসির বিপরীতে প্রযোজ্য সেবা প্রদানের জন্য একজন বীমা এজেন্ট নিয়োজিত থাকেন। এ বীমা এজেন্টের কমিশন মোট পলিসি মূল্য থেকেই প্রদান করা হয়। তাই সর্বমোট পলিসিমূল্য থেকে পূর্বেই মূসক পরিশোধ করায় বীমা এজেন্ট কমিশন বাবদ প্রদেয় মূসক দ্বৈতকর হয়। এ দ্বৈতকর পরিহারের উদ্দেশ্যে বীমা এজেন্ট কমিশনের উপর প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।


স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ নামে ১৬৬ পৃষ্ঠার বাজেট বই ১২ টা ৫০ এ পড়তে শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছে। এর আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।


বাংলাদেশের এটি ৪৭তম বাজেট এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯তম। আর অর্থমন্ত্রী হিসাবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের ১২তম বাজেট।


২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী। গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজেটের আকার বাড়ছে মাত্র ৬৮ হাজার কোটি টাকা। নির্বাচনী বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।


২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সংশোধন করে তা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকায় নামানো হয়।

 


Top