চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ৭.৪ শতাংশ, হয়েছে ৭.৬৫ শতাংশ: অর্থমন্ত্রী | daily-sun.com

চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ৭.৪ শতাংশ, হয়েছে ৭.৬৫ শতাংশ: অর্থমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ জুন, ২০১৮ ১৩:৫৩ টাprinter

চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ৭.৪ শতাংশ, হয়েছে ৭.৬৫ শতাংশ: অর্থমন্ত্রী

 

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭.৪ শতাংশ। তবে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে এরই মধ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.৬৫ শতাংশ।

অতএব চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি প্রাথমিক হিসাবে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে অর্থবছর এখনও শেষ হয়নি। আরও একটি মাস বাকি আছে। আর অর্থবছর শেষে পরিসংখ্যান ব্যুরো চূড়ান্ত হিসাব দেবে।  


আজ বৃহস্পতিবার (৭ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই তথ্য জানান তিনি।


২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের সময়ও প্রবৃদ্ধির হার ৭ এর কিছু বেশি বলে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। তবে চূড়ান্ত হিসাবে তা ৭.২৪ শতাংশ হয়। অর্থমন্ত্রী জানান গত এক দশকে প্রবৃদ্ধির গড় হার ৬.৪ শতাংশ। এটি এখন সাত শতাংশ ছাড়িয়ে ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলেও আশাবাদী মুহিত।

 


‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ নামে ১৬৬ পৃষ্ঠার বাজেট বই ১২ টা ৫০ এ পড়তে শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


অর্থমন্ত্রী তার প্রস্তাবিত বাজেটে প্রথমে গত অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট দেন। আর শুরুতে দেয়া ভূমিকায় বাজেট পেশের আগে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে পরামর্শ, বাংলাদেশের অর্থনীতির এগিয়ে চলার নানা ধাপ বর্ণনা করেন।


২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে বাড়ছে ৬৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সকালে সংসদে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এই বাজেট অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।


বাজেট প্রস্তাবনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য মোট ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে এনবিআরকে ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ককর থেকে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা, এনবিআর-বহির্ভূত কর ব্যবস্থা থেকে ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা এবং কর ছাড়া প্রাপ্তি— যেমন টোল, সরকারি হাসপাতালের ফিসহ অন্যান্য উৎস থেকে ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা আদায়ের ছক তৈরি করেছেন।


এদিকে, এনবিআরকে দেওয়া ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় ধরা হয়েছে ভ্যাট থেকে। এ খাত থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বাজেটে আয়ের দ্বিতীয় খাত হিসেবে আয়কর আদায়ের জন্য ৯৭ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটে সবচেয়ে কম চাপ রেখেছেন আমদানি শুল্ক খাতে। এ খাত থেকে আয়ের জন্য ৮৪ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।


এদিকে বাজেট পাসের মাত্র কয়েক মাস পরেই দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনী বছর হওয়ায় এবারের বাজেট সরকার ও সব শ্রেণির মানুষের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একদিকে ভোট, অন্যদিকে নানা প্রতিশ্রুতিসমৃদ্ধ এই বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের বিষয়টি মাথায় রেখেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।


বাজেট-পূর্ব আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নিজেও বলেছেন, এবারের বাজেটে মৌলিক কোনো পরিবর্তন থাকবে না। এ বছরের বাজেট হবে গতানুগতিক বাজেট।


ভোটের বছরে বিশালাকারের বাজেটে ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। সে কারণে আসন্ন বাজেটকে ঘাটতি নির্ভর ভোটের বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা।


এদিকে বিশ্বব্যাংক ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৭ থাকবে বলে অনুমান করছে। সেখানে অর্থমন্ত্রী আজ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ ধরে বাজেট উপস্থাপন করছেন।

 


Top