টয়লেট টিস্যু উপহার পেলে খুশি দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ | daily-sun.com

টয়লেট টিস্যু উপহার পেলে খুশি দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ

ডেইলি সান অনলাইন     ৫ জুন, ২০১৮ ১৬:১১ টাprinter

 টয়লেট টিস্যু উপহার পেলে খুশি দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ

দেশ-জাতিভেদে সামাজিক রীতি কিংবা সাংস্কৃতিক পার্থক্য চোখে পড়ে। এখানে এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে জানানো হচ্ছে যা দক্ষিণ কোরিয়াতে স্বাভাবিক বলে গণ্য হয়।

কিন্তু পৃথিবীর আরো কোথাও তা স্বাভাবিক বলে মনে হবে না।  অনেক দেশে এমন কিছু ঘটনা ঘটলেও তা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এতটা স্বাভাবিক নয়।   

 

১. গর্ভবতী নারীদের প্রতি রাষ্ট্রের মনোভাব সত্যিই সবাইকে অবাক করে দেয়। প্রতিমাসে তাদের ৫০০ মার্কিন ডলার করে দেয়া হয়। এটা সোজা কথা নয়। বাসে, রেলে, ট্রামে কিংবা পার্কিংয়ে গর্ভবতীদের জন্যে আলাদা সুবিধা আছে।

 

২. প্রায় প্রতিটি বাস স্টপেজে একটি করে তথ্য সম্বলিত ডিজিটাল প্যানেল রয়েছে। সেখানে ওই বাসের আসা-যাওয়ার সময়সহ অন্যান্য তথ্য রিয়েল টাইমে দেওয়া থাকে। বিশ্বের আর কোথাও এতটা আয়োজন রয়েছে বলে মনে হয় না।

 

৩. খাবারের দোকানে ক্রেতাদের জন্যে বিশেষ সুবিধা রয়েছে। ফল কিংবা খাবার কেনার আগে তা খেয়ে পরখ করার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি যাই কেনেন না কেন, তা সামনে অল্প পরিমাণে রেখে দেয়া থাকে। ওগুলো খেয়ে বুঝে কিনতে পারেন।  

 

৪. বাস্তবজীবনে কাজে লাগে এমন উপহার লেন-দেন করতে পছন্দ করে কোরিয়ানরা। কাজেই কেউ টয়লেট টিস্যু উপহার দিলেও অনেকে খুশি হয়ে যান।

 

৫. কিন্ডারগার্টেনগুলোতে বাচ্চাদের জন্যে কালার-কোডেড ইউনিফর্ম দেয়া হয়। এ পদ্ধতি অবশ্য অনেক দেশের অনেক স্কুলেই খুঁজে পাবেন। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সবখানেই তা চোখে মেলে।

 

৬. দেশের চার্চগুলো আগতদের জন্যে কিছু না কিছু উপহারের ব্যবস্থা রাখে। প্রার্থণার পর সবাই এই উপহার পান। চার্চে প্রার্থণা করতে আসলে অনেকেই দন্তচিকিৎসক এবং হেয়ার স্টাইলারের কাছ থেকে ফ্রি-তে সেবা নিয়ে আসতে পারেন। এমন উপহার প্রতিবছর ১০ লাখ মানুষ পেয়ে থাকেন।  

 

৭. আধুনিক ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার চাপ বেশি। তাই বলে যে আগে ছিল না তা নয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় হাইস্কুলপড়ুয়াদের নিয়মিতভাবে অন্তত মধ্যরাত পর্যন্ত লেখাপড়া করতেই হয়। এমনিতেই সবখানেই পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে রয়েছে। কিন্তু কোরিয়ায় মধ্যরাত পর্যন্ত পড়তেই হবে। এটা যেনো নিয়ম।



৮. প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা স্বামী-স্ত্রী একই পোশাক পরতে পছন্দ করেন। মানে ম্যাচিং করা পোশাক সেখানে দারুণ জনপ্রিয়। অন্য দেশেও জুটিরা এমন করেন। কিন্তু কোরিয়ানদের বিষয়টি নজরে পড়ার মতো। তাদের এ ধরনের পোশাকের জন্যে আলাদা ফ্যাশন হাউজ রয়েছে।   

 

৯. শিক্ষকদের কোনো উপহার দিতে চান। আপনি অনেক কিছুই ভেবে নিতে পারেন। কিন্তু কোরিয়ায় শিক্ষকদের জন্যে সেরা উপহার হলো- এককাপ কফি কিংবা কয়েকটা ক্যান্ডি। কফির কাপের পাশে কয়েকটি ক্যান্ডি থাকলে শিক্ষকরা বেজায় খুশি।

 

১০. তাদের সাবওয়ে কারগুলোতে ঢুকলে মনে হবে কোনো বিনোদন পার্কের কারে উঠে পড়েছেন। এগুলোই যাত্রীদের আনা-নেয়া করে। উঠেই দেখা যাবে সিটে কোনো সুপারহিরোর ডামি বসে রয়েছে। আপনি তার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন।  

 

১১. এমনিতে এই পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন দেশ বলতে উত্তর কোরিয়াকে বোঝানো হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ধারণার চেয়েও যথেষ্ট বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

  

১২. কোরিয়ায় ময়লা ফেলার বিন বা জায়গার অভাব আছে। কিন্তু মানুষের রেস্টরুমের কোনো অভাব নেই।  


১৩. দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ যথেষ্ট কাজপাগল। আর এই মানুষগুলোর জন্যে কাজের সীমা নির্ধারিত নেই।  

  
সূত্র: ইন্টারনেট

 


Top