প্রকাশ্যে চুমু দিয়ে বিতর্কে দুতার্তে | daily-sun.com

প্রকাশ্যে চুমু দিয়ে বিতর্কে দুতার্তে

ডেইলি সান অনলাইন     ৫ জুন, ২০১৮ ১৫:৩৬ টাprinter

প্রকাশ্যে চুমু দিয়ে বিতর্কে দুতার্তে

দক্ষিণ কোরিয়া সফরে এসে আরেক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ফিলিপাইনের আলোচিত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রকাশ্যে হাজারো মানুষের সামনে এক নারীর ঠোঁটে উষ্ণ চুম্বন দেন তিনি।

মঞ্চের ওপর চুমু খাওয়ায় রাজনীতিবিদ ও নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট। সরাসরি সম্প্রচারে ওই নারী কর্মীর ঠোঁটে চুমু খেতে দেখে দুতার্তের সমর্থকরাও তার এই আচরণের কড়া সমালোচনা করছেন।

 

বিরোধী দলীয় সিনেটর রিসা হন্টিভেরস সোমবার বলেছেন, দুতার্তে সিউলে সফরের সময় যা করেছেন, তা পুরুষরা নারীর চেয়ে উন্নত এমন মনোভাবের ঘৃণ্য বহিঃপ্রকাশ এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহার।

 

‘এতে উভয়েরই সম্মতি থাকলেও এটা শুরু করেছিলেন ভয়ঙ্কর, আতঙ্কজনক রকম ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট,’ আলজাজিরাকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন হন্টিভেরস। তিনি মনে করেন, প্রেসিডেন্ট দুতার্তে একজন সামন্ত শাসকের মত কাজ করেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হলেই তিনি যা খুশি তাই করতে পারবেন।

 

রোববার দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত ফিলিপাইনি শ্রমিকদের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রদ্রিগো দুতার্তে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়া শেষে তিনি এক নারীকে মঞ্চে ডেকে নেন। এরপর তাকে চুমু দেয়ার জন্য প্রভাবিত করেন।

এই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয় দুতার্তের কর্মকাণ্ড নিয়ে।

 

সিউলে প্রবাসী ফিলিপিনো শ্রমিকদের সংগঠন ওএফডব্লিউ ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের বিতর্কিত ঘটনাকে ‘একজন নারীবিদ্বেষী প্রেসিডেন্টের বিরক্তিকর নাটক’ বলেও বর্ণনা করেছেন ফিলিপাইনের অধিকার আন্দোলনকারী নারীরা।

 

অনুষ্ঠানে একটি বইয়ের ফ্রি কপি নেয়ার জন্য দুই ফিলিপাইনি নারীকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান দুতার্তে। ওই দুই নারী মঞ্চে দুতার্তের পাশে দাঁড়াতে পারায় তাদের অত্যন্ত আনন্দিত দেখাচ্ছিল।

এদের মধ্যে প্রথমজনকে জড়িয়ে ধরে তার গালে চুমু দেন দুতার্তে। এরপর দ্বিতীয় নারীর ঠোঁটে চুমু দেয়ার জন্য ইঙ্গিত করেন। প্রেসিডেন্টের এমন ইশারায় ওই নারী নার্ভাস ভঙ্গিতে হাসতে থাকেন এবং অস্বস্তিতে পড়ে যান।

 

এ সময় প্রেসিডেন্ট তাকে আবারও একই ইঙ্গিত করেন এবং শেষে কিছুটা সামনে ঝুঁকে ওই নারীর ঠোঁটে চুমু এঁকে দেন। সরাসরি প্রচারিত হওয়ায় রদ্রিগো দুতার্তের এই কর্মকাণ্ডে ইন্টারনেটে অনেকেই নানা সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন।

 

এর আগেও নারীদের সঙ্গে অসঙ্গত আচরণের কারণে অভিযোগের মুখে পড়েছিলেন দুতার্তে। প্রায় ৬৫ হাজার ফিলিপাইনি নাগরিক দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজ করেন। অন্যদিকে প্রায় এক লাখেরও বেশি দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক ফিলিপাইনে বসবাস করেন।

 

সমালোচকরা দুতার্তের এই আচরণকে ‘নারীসহ সবার বিরুদ্ধে অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার একটি নমুনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রাজনৈতিক দল আকবায়ানের মুখপাত্র আলজাজিরাকে বলেন, ‘নারীদের দুর্বল এবং ভোগ্যপণ্য মনে করা হয়। পুরুষদের শেখানো হয় আগ্রাসী হয়ে নারীর জোরাজুরি করাটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা বিষাক্ত, কাপুরুষোচিত এবং বিপজ্জনক। ’

 

নারী সংগঠন গাব্রিয়েলা একটি বিবৃতিতে বলেছে, নৈতিক আচরণবিধি অনুযায়ী দুতার্তের উচিত তার বিধিবহির্ভূত আচরণের ব্যাখ্যা দেয়া। গ্যাব্রিয়েলার সেক্রেটারি জেনারেল জমস সালভাদর বলেন, ‘দুতার্তে যে দ্রুত জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন, তা লুকাতেই তিনি বারবার এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি করছেন। ’

 

সম্প্রতি দুতার্তে ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ডের প্রধান কর্মকর্তা ক্রিস্টিন লাগার্ড, জাতিসংঘের দু’জন মানবাধিকার কর্মী এবং ফিলিপাইনের নারী বিদ্রোহীদের সম্পর্কে লিঙ্গ বৈষম্যমূলক মন্তব্য করে সমালোচিত হন।

মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার বিজয়ীকে নিয়ে একটি ধর্ষণের কৌতুক বলেও নিন্দিত হন তিনি।

 


Top