ইয়াবা খেলে শরীরের কি কি ক্ষতি হতে পারে? | daily-sun.com

ইয়াবা খেলে শরীরের কি কি ক্ষতি হতে পারে?

ডেইলি সান অনলাইন     ৪ জুন, ২০১৮ ১৭:২১ টাprinter

ইয়াবা খেলে শরীরের কি কি ক্ষতি হতে পারে?

ইয়াবা খেলে প্রথমে সাময়িক শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হলেও শরীরে  স্থায়ী ক্ষতি শুরু হয় । খাওয়া মাত্রই শরীরের স্নায়ুতন্ত্রে গিয়ে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

তিন মাস পরই দৃশ্যমান অসুস্থতা ধরা পড়ে। মহিলারা মাথায় উকুন হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়ে। সন্তান ধারণ ক্ষমতা ও যৌন সম্পর্ক স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়।

 

 

 ব্রেনের ভেতরে ডোপামিন নিঃসরণ ঘটে। ফুসফুসে পানি জমে যায়, পরবর্তীতে ক্যান্সার হয়। হৃদযন্ত্র, লিভার, কিডনি থেকে শুরু করে শরীরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রয়েছে সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু তাই নয়, ইয়াবার আগ্রাসীতে রাগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। নিষ্ঠুর নির্মম হয়ে যায়। ইয়াবা আসক্তরা এমন পাষণ্ড হয়ে যায় যে, পিতা-মাতা সন্তানদেরও হত্যা করতে তাদের অনুশোচনা হয় না।

 

 

আমাদের ব্রেনের ফ্রন্টাল একটি লোপে যেখানে বিচার বিবেচনার বোধ তৈরি হয়, যেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেই, পরিকল্পনা করি সে জায়গাটা কাজ করতে পারে না। ফলে মানুষ পাষণ্ড হয়ে যায়, হিংসুটে হয়ে যায়। মায়ের গলায় ছুরি ধরে টাকার জন্য, মা বাবার বুকে বসে ছুরি চালাতে ইয়াবা আসক্তদের বুকও কাঁপে না।

 

 

আশেপাশের আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধবদের সাথেও সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে। মাংসপেশি শুকিয়ে গেলে একটু শুকনা মনে হয়, গাল ভেঙে যায়। ইয়াবায় শারীরিক, সামাজিক ও মানসিকসহ সবক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর ক্ষতি থাকলেও বাংলাদেশে এখনো ৭৭ লাখ মানুষ এই ক্রেজি ট্রাগে আসক্ত। তারা এখন মৃত্যুর ঝুঁকিতে। ইয়াবা আসক্তদের মধ্যে ৬০ ভাগ তরুণ। শিগগিরই ইয়াবা সেবন থেকে বিরত না থালে তাদের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াবা হচ্ছে এটম বোমার চেয়ে ক্ষতিকর। এটা মানুষের শরীরকে একেবারে শেষ করে দেয়।

 

 

তবে ইয়াবা খেলে কিছু সুবিধা মনে হতে পারে। যেমন  সাময়িকভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হয়। শরীরে উত্তেজনা আসে, ফলে ঠিকমতো ঘুম হয় না, এক নাগাড়ে দুই তিনদিনও না ঘুমিয়ে জেগে থাকা যায়। মনে করে ভীষণ কাজ কর্ম করা যাবে, কিন্তু আসলে কোন কাজই হয় না। প্রাথমিকভাবে যৌন উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করে। আসক্ত শিক্ষার্থীরা সারা রাত ধরে একটা পাতাও উল্টাতে পারে না, এক পাতাতেই বসে থাকে।

 

 

প্রচলিত ভুল তথ্য আছে যে, ইয়াবা খেয়ে শিক্ষার্থীরা রাতে বেশিক্ষণ জেগে থেকে পড়তে পারে। কিন্তু প্রকৃত তথ্য হলো, জেগে থাকলেও কোন লাভ হয় না। কারণ  ইয়াবায় আসক্ত শিক্ষার্থীর মনোযোগ থাকে না। মোটা মানুষকে ইয়াবা চিকনও করে না। এটা খেলে তার খিদে কমে যায়। তখন সে কম খায়। তার পেশীকে ক্ষয় করে ফেলে। মাংসপেশি শুকিয়ে গেলে একটু শুকনা মনে হয়, গাল ভেঙে যায়। কিন্তু চিকন হওয়ার তথ্য পুরোপুরি ভুল বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ইয়াবা আসক্ত নারীদের মুরগির মাংস দেখলে মনে হয় তার ভেতরে অনেক কেঁচো। মাথার চামড়াকে মনে হয় লাল রক্ত।

 

 

হেরোইনের মতো করেই খেতে হয় ইয়াবা। এলোমুনিয়ামের ফয়েলের উপর ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে নিচ থেকে তাপ দিয়ে ওটাকে গলাতে হয়। তখন সেখান থেকে যে ধোঁয়া বের হয় সেটা একটা নলের মাধ্যমে মুখ দিয়ে গ্রহণ করা হয়। তখন সেটা মুহূর্তের মধ্যেই সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রে গিয়ে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

 

 

 

 ইয়াবায় আসক্তদের যৌন সম্পর্ক স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এই ইয়াবার কারণে অনেক স্ত্রী স্বামীর ঘর করতে পারছে না। তিনি বলেন, অনেকে ইয়াবা গ্রহণ করে যৌন উদ্দীপক হিসেবে। প্রথম দিকে সেটা কাজ করে যেহেতু এটা খেলে শারীরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে তার যৌন ক্ষমতা একেবারেই ধ্বংস হয়ে যায়। শুক্রাণু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতাও কমে যায়। মেয়েদের মাসিকেও সমস্যা হয়। যত ধরনের মাদক আছে তার সবগুলোর সংমিশ্রণ হলো ইয়াবা। এটা একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।

 

 

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের কাছে ইয়াবা জনপ্রিয় হতে শুরু করে ২০০০ সালের পর থেকে যখন। টেকনাফ বর্ডার দিয়ে মিয়ানমার থেকে এই ট্যাবলেট আসতে শুরু করে। তারপর এটি খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, যেখানে যাকে যেভাবে মোটিভেশন করা দরকার তার কাছে সেভাবেই ইয়াবা তুলে দেওয়া হচ্ছে। যেমন শিক্ষার্থীদেরকে বলছে যে, এটা খেলে তুমি রাত জেগে পড়তে পারবে। কেউ মোটা হলে তাকে বলা হচ্ছে শরীর শুকিয়ে যাবে। গানের শিল্পীকে বলছে, ইয়াবা খেলে গলার কাজ ভালো হবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইয়াবার কোন উপকারই নেই।

 

 

 

 


Top