একরাম নির্দোষ হলে তাকে যারা দোষী সাব্যস্ত করেছে তারাই এবার দোষী সাব্যস্ত হবে: কাদের | daily-sun.com

একরাম নির্দোষ হলে তাকে যারা দোষী সাব্যস্ত করেছে তারাই এবার দোষী সাব্যস্ত হবে: কাদের

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ জুন, ২০১৮ ১৭:৩১ টাprinter

একরাম নির্দোষ হলে তাকে যারা দোষী সাব্যস্ত করেছে তারাই এবার দোষী সাব্যস্ত হবে: কাদের

 

মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন। তাহলে তাঁকে যারা দোষী সাব্যস্ত করেছে।

তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রবিবার (৩ জুন) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।


ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যদি এটা তদন্তে প্রমাণিত হয় যে একরাম নির্দোষ, তাহলে তাঁকে যারা দোষী সাব্যস্ত করেছে, তারাই দোষী হিসেবে সাব্যস্ত হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে। ’


এ সময় বিএনপিতেও কোনো মাদকের গডফাদার আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে হবে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।


সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘বদির মতো আরো কত বদি এ দেশে আছে। বদি মাদকের গডফাদার, আপনি কি সরাসরি এভাবে কথা বলতে পারেন? প্রমাণ কী? প্রমাণিত হলে বদিকেও ছাড় দেওয়া হবে না। ’


প্রসঙ্গত, গত ২৬ মে দিবাগত রাত ১টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের নোয়াখালিয়াপাড়ায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার তিনবার নির্বাচিত কাউন্সিলর একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে। এছাড়াও তিনি টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের ১৩ বছর দায়িত্বপালনকারী সাবেক সভাপতি, টেকনাফ বাস স্টেশন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও টেকনাফ মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ছিলেন।


অপরদিকে, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হবার ঘটনায় র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে ই-মেইলে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে মোজাহার মিয়া ওরফে আবদুস সাত্তার। বাড়ি টেকনাফ পৌরসভার নাজিরপাড়া। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, শীর্ষ গডফাদার, তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক আইনে মামলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।


এ ঘটনার ৬ দিনের মাথায় ১ জুন নিহত একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম ও দুই কন্যা তাহিয়াত এবং নাহিয়ান কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আসেন। লিখিত বক্তব্যে আয়েশা বলেন, ২৬ মে রাতে একটি গোয়েন্দা সংস্থার মেজর পরিচয় দিয়ে একরামকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আমার স্বামী মোবাইলে আমার মেয়ে ও আমার সঙ্গে কথা বলেন। তখন তার কণ্ঠে আতঙ্ক ছিল। এর পর থেকে আমার মোবাইলটি সারাক্ষণ খোলা ছিল। এতে রেকর্ড হচ্ছিল। ওই দিন রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চিৎকার ও গুলির শব্দ শুনেই আমি ও আমার পরিবার আঁতকে উঠি। তখনই বুঝতে পারি আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে গুলি করে হত্যা করেছে র‌্যাব।

 
একরামকে ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন স্ত্রী আয়েশা বেগম। পাশাপাশি স্বামীর হত্যার সুবিচার প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছেও।


পরে সাংবাদিকদের কাছে চারটি অডিও ক্লিপ তুলে দেন আয়েশা বেগম। এই অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে একরাম হত্যা নিয়ে আরও বেশি প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে তার রাজনৈতিক সহকর্মী, পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধবসহ সর্বস্তরের মানুষ।


এরই প্রেক্ষিতে আজ রবিবার (৩ জুন) একরামুল হত্যার অডিও ক্লিপ নিয়ে তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো হত্যা বা দুর্ঘটনা আমাদের তদন্তের বাইরে নয়। সব হত্যার বিষয়ে তদন্ত হবে। যেখানে যেটা দরকার সেটা করা হবে এবং কমিটি গঠন করা হবে। কেউ নিহত হোক এটি আমাদের কাম্য নয়।

 

আরও পড়ুন:

 

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য মানবাধিকারকে ঠাট্টার সামিল: রিজভী

 

একরামুল হত্যার অডিও ক্লিপ তদন্ত শুরুর কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

বাবা কন্যার অডিও আমাকে সারারাত ঘুমাতে দেয়নি: প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন

 

একরামুলের নিহতের ঘটনা একজন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

বৃহৎ মহৎ কাজ করতে গেলে দু-একটি ভুল হতে পারে: কাদের

 

কাউন্সিলর একরাম 'হত্যার' অডিও প্রকাশ, অভিযোগের তীর ডিজিএফআই ও র‍্যাবের দুই কর্মকর্তার দিকে

 

মাদকবিরোধী অভিযানে 'বন্দুক যুদ্ধে' টেকনাফের কাউন্সিলর একরাম নিহত

 

 


Top