প্রবৃদ্ধির ধারা বৈষম্য বিলোপে ভূমিকা রাখতে পারছে না: সিপিডি | daily-sun.com

প্রবৃদ্ধির ধারা বৈষম্য বিলোপে ভূমিকা রাখতে পারছে না: সিপিডি

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ জুন, ২০১৮ ১৭:০৯ টাprinter

প্রবৃদ্ধির ধারা বৈষম্য বিলোপে ভূমিকা রাখতে পারছে না: সিপিডি

 

বিগত সময়কাল ধরে বাংলাদেশ একটি শোভন প্রবৃদ্ধির ধারার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং এই শোভন প্রবৃদ্ধির ধারা যথোপযুক্ত আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং বৈষম্য বিলোপের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ- সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এর পেছনে বড় কারণ হচ্ছে- যতখানি প্রবৃদ্ধি মাত্রা নিয়ে আলোচনা, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রবৃদ্ধির চরিত্র নিয়ে আলোচনা।

অর্থাৎ এক্ষেত্রে আমরা ফল দেখতে পাচ্ছি না।


রবিবার (৩ জুন) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বাধীন পর্যালোচনা নিয়ে এক আলোচনায় এসব কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে যতখানি না সমস্যা আছে, তার চেয়ে অনেক বেশি সমস্যা রাষ্ট্রের সঙ্গে বা বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেটা বিদ্যমান।


দেবপ্রিয় বলেন, তুলনীয় দেশের চেয়ে বাংলাদেশের আয়-ব্যয় এখনও অনেক কম। কিন্তু বাজেট ঘাটতি বা আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। কারণ এটা ৫ শতাংশের নিচে থাকছে।


দেবপ্রিয় বলেন, সিপিডির মূল আশঙ্কার জায়গাটি হলো- এটার অর্থায়নের ক্ষেত্রে অতি পরিমাণে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে করা হচ্ছে। জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর এই যে নির্ভরশীলতা এ বছর হয়েছে, যখন কিনা বিদেশি ঋণ গত বছরের চেয়ে বেশি এসেছে। অর্থাৎ অর্থায়নের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ নির্ভরশীলতা কিন্তু সেই অর্থে যাচ্ছে না।


‘কিন্তু তারপরও আর্থিক খাত নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ আছে এমনটার চেয়ে বেশি উদ্বেগ আছে বৈদেশিক খাত নিয়ে। ’


দেবপ্রিয় বলেন, ইদানিং আমাদের সামগ্রিক বাণিজ্যিক লেনদেনের ঘাটতি বেড়েছে। একইসঙ্গে চলতি হিসাবেও বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি বেড়েছে। রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক সাহায্য বেড়েছে কিন্তু তারপরও ঘাটতি বেড়েছে। এরপর বড় কারণ হলো আমদানি। রেমিট্যান্স, রপ্তানি ১৭ দশমিক ৪ ও ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে সেখানে আমদানি ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এটা এক প্রকার ছাদ ফুড়ে চলে যাওয়ার মতো।


‘আমরা আগেই বলেছি, এই আমদানি নিয়ন্ত্রণ যদি পর্যবেক্ষণ না করা হয়, তাহলে বাংলাদেশে শুধু যে অর্থনীতি সম্পর্কে বিকৃত চিত্র হবে, তা না। লেনদেন ঘাটতি হবে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস- টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে- এই আমদানির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকারের মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে। নির্বাচনের আগে এটা বাড়ে।


তিনি বলেন, আমাদের আর্থিক খাতের উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কিন্তু বৈদেশিক লেনেদের পরিস্থিতি খুব আশঙ্কাজনক পর্যায়ে গেছে। এটার ফলে টাকার মূল্যমান বাড়তে থাকবে। এতে কিছু রপ্তানিকারক হয়তো সাময়িক খুশি হবে। তবে অবধারিতভাবে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি করে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দেবে।


‘ফলে মজুরি বাজারে চাপ সৃষ্টি হবে। সরকার আগামীতে গার্মেন্টস খাতের মজুরি পুনর্বিবেচনা করবে। এগুলোর ওপর আরও চাপ বাড়বে। টাকার মূল্য হ্রাসের ফলে যদি মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকে, তবে অবধারিতভাবে সুদের হারও বাড়বে। কারণ প্রকৃত সুদের হার নির্ভর করে দেশের মূল্যস্ফীতির হার কত তার ওপর। ফলে এক ধরনের দুষ্টচক্রের মধ্যে ঢুকে গেছে বৈদেশিক খাত।


তিনি বলেন, বৈদেশিক খাতের সঙ্গে আরও বড় দুশ্চিন্তার বিষয়- এখন যে প্রভূত প্রয়োজনীয় ঋণ আমরা নিচ্ছি, তা হয়তো এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। এটা আগামী ৪ বা ৫ বছরে এটি একইরকম নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলা যাবে না।


বেশকিছু দেশে আমরা দেখেছি- বড় বড় অবকাঠামো করতে গিয়ে তারা যে ঋণ নিয়েছে তা পরিশোধ করতে গিয়ে ওই দেশ এক ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে।


তিনি বলেন, আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতিতে আর্থিক খাত নিয়ে উদ্বেগ আছে। কিন্তু আতঙ্ক আছে বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি নিয়ে।


কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এসময় বৈদেশিক সাহায্য বেড়েছে, তারপরে অন্যান্য, রেমিট্যান্স বেড়েছে, রপ্তানি বেড়েছে। কিন্তু তারপরও অনিয়ন্ত্রিত আমদানি। সহজ কথা- আমদানি প্রবাহের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। প্রয়োজনে আগামী বাজেটে যেসব পণ্য শূন্য শুল্কে আসে, যার মাধ্যমে টাকা পাচারের আশঙ্কা বেশি তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি রাস্তা নির্মাণে যে ব্যয় করা হয়। তার চেয়ে বেশি ব্যয় হয় বাংলাদেশের রাস্তা নির্মাণে। প্রকল্পের ব্যয় অতি মূল্যায়নের কারণেই এটি হচ্ছে কিনা তা সরকারকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করে দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে কত টাকা ব্যয় হয়, সেটা আমাদের জানা আছে; যা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের চেয়ে অনেক বেশি। বাংলাদেশে আরও বড় বড় ৩-৪টা মেগাপ্রকল্প চলছে, তার ব্যয় বিশ্লেষণ করলেও একই তথ্য পাওয়া যাবে।


তিনি বলেন, আমরা যতটা না উন্নয়ন ব্যয় নিয়ে চিন্তিত থাকি, তার চেয়ে বেশি চিন্তার বিষয়- এর গুণমান সম্পর্কিত। এটা এখন প্রকাশ্য যে, যে ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেটি দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তবায়নের ফলে তার প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু প্রকল্পগুলো অতি মূল্যায়িত হয়েছে কিনা সেটা কিন্তু বড় বিষয়।


একটা হচ্ছে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতিকে সামনে বিবেচনায় নিয়ে মূল্য বৃদ্ধি হয়। আরেকটি বিষয় হচ্ছে- প্রথমে আপনি এক টাকা তিন টাকা ধরে ব্যয় বাড়ালেন কিনা?


তবে উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনও প্রকল্পের কথা বলেননি।

 


Top