বিমানে গুপ্ত কক্ষ কেন রাখা হয়? | daily-sun.com

বিমানে গুপ্ত কক্ষ কেন রাখা হয়?

ডেইলি সান অনলাইন     ৩১ মে, ২০১৮ ১৬:১৩ টাprinter

বিমানে গুপ্ত কক্ষ কেন রাখা হয়?

এরোপ্লেনে যাত্রী পরিবহনের চমৎকার বন্দোবস্ত থাকে। কিন্তু যাত্রী পরিবহনের সুবিধা থাকার পাশাপাশি কিছু গুপ্ত কক্ষের বন্দোবস্তও প্লেনের ভেতরে থাকে, যার কথা অনেকেই হয়তো জানেন না।

একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, বড় প্লেনগুলোতে প্লেনের ক্রুদের বিশ্রামের জন্য থাকে একটি বিশেষ গুপ্ত কক্ষ।

 

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বোয়িং ৭৭৭ এবং ৭৮৭ প্লেন-এ বিমানকর্মীদের বিশ্রামের জন্য রীতিমতো বিলাসবহুল বন্দোবস্ত থাকে। এর জন্য তৈরি করা হয় একটি গোপন বিশ্রামাগার। গুপ্ত সিঁড়ির মাধ্যমে পৌঁছতে হয় সেই ঘরে। এক এক প্লেনে এক এক জায়গায় তৈরি করা হয় এই ঘর। তবে অধিকাংশ প্লেনেরই উপরের অংশে যেভাবে লাগেজ বিন তৈরি করা হয়, সেই কায়দাতেই তৈরি হয় এই গুপ্ত বিশ্রামকক্ষ।

 

বিমানের পরিভাষায় একে বলা হয় সিআরসি বা ক্রু রেস্ট কম্পার্টমেন্টস। এক এক প্লেনে সিআরসির আয়তন হয় এক এক রকম। তবে ককপিট এবং ফার্স্ট ক্লাসের যাত্রীদের মাথার উপরেই সাধারণত এই সিআরসি গড়ে তোলা হয়।

 

কী থাকে এই সিআরসির ভেতরে? সাধারণত বোয়িং ৭৭৭-এর সিআরসি-তে থাকে ছয় থেকে ১০টি বিছানা। বিছানাগুলোতে লাগানো থাকে বেল্ট। ঝড়ঝঞ্ঝার সময়ে বিশ্রামরত বিমানকর্মীরা বিছানা থেকে যাতে পড়ে না যান, তার জন্যই করা হয় এই বন্দোবস্ত। বিছানার সঙ্গেই থাকে লাগেজ রাখার জায়গাও। এ ছাড়া কোনো কোনো প্লেনে আবার টিভির ব্যবস্থাও থাকে।

 

বোয়িং ৭৭৭-এ আবার পাইলটের জন্য একটি আলাদা ঘর রেখে দেয়া হয়। এই ঘরে দুটো বিছানা থাকে, থাকে দুটো বিজনেস সিট। কোনো কোনো প্লেনে সেই সঙ্গেই একটি টয়লেটও থাকে।  

 

দীর্ঘক্ষণ উড়ার কাজ করতে করতে বিমানকর্মীরা যাতে ক্লান্তিবোধ না করেন এবং প্রয়োজনমতো রিল্যাক্স করে নিতে পারেন, সেই জন্যই এতসব ব্যবস্থা। কিন্তু ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এক পাইলট সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সিআরসিতে বিশ্রাম নেয়ার অভিজ্ঞতা নাকি মোটেই সুখকর নয়।

 

তার ভাষ্য, বিছানা-টিছানা খুব নরম আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে ঠিকই, কিন্তু ঘরগুলোতে কোনো জানালা থাকে না। একেবারে জানালাহীন একটা ঘরে শুয়ে থাকতে কেমন লাগে বলুন তো? ঠিক মনে হয়, একটি কফিনের ভেতরে শুয়ে আছি।

 


Top