ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি: বাবুল চিশতীর জামিন নামঞ্জুর | daily-sun.com

ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি: বাবুল চিশতীর জামিন নামঞ্জুর

ডেইলি সান অনলাইন     ২৯ মে, ২০১৮ ১৭:২৫ টাprinter

ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি: বাবুল চিশতীর জামিন নামঞ্জুর

 

ফারমার্স ব্যাংকের প্রায় ১৬০ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে ব্যাংকটির অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীর (বাবুল চিশতী) জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৯ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।


আদালতে চিশতীর পক্ষে জামিন শুনানি করেন কাজী নজিবুল্লাহ হিরু ও দুদকের পক্ষে জামিনের বিরোধীতা করেন মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।


এর আগে গত ১০ এপ্রিল দুপুরের দিকে দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল মাহবুবুল হক চিশতীসহ (বাবুল চিশতী) চারজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ব্যাংকটির অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), তার ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকের এসভিপি জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং ব্যাংকের জামালপুর বকশীগঞ্জ শাখার ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান।


এর আগে ওই দিনই (১০ এপ্রিল, মঙ্গলবার) গুলশান থানায় দুদক পরিচালক কাজী শফিকুল আলম বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বাকি দুজন আসামি হচ্ছেন- মাহবুবুল হক চিশতীর স্ত্রী মিসেস রুজী চিশতী ও গুলশান শাখার এসইভিপি ও সাবেক ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন।


গ্রেফতারের দিনই বাবুল চিশতির ৫ দিন ও তার ছেলেসহ বাকি তিনজনের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর বুধবার (১৮ এপ্রিল) চারদিনের রিমান্ড শেষে বাবুল চিশতীর ছেলেসহ তিনজনকে আদালতে হাজির করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এসময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক শামছুল আলম। অন্যদিকে তাদের আইনজীবী নজিবুল্লাহ হিরু জামিনের আবেদন করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাগারে পাঠানোর তিন আসামি হলেন- চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকের এসভিপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খান।


এরপর ১৯ এপ্রিল বাবুল চিশতির ফের দুইদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২৬ এপ্রিল বাবুল চিশতিকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।


মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ফারমার্স ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকিং নিয়মাচারের তোয়াক্কা না করে ব্যাংকটির অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী তার ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখার একটি সঞ্চয়ী হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ নগদে ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা ও উত্তোলন এবং বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী, ছেলে, মেয়েদের এবং তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন শাখায় মোট ২৫টি হিসাবে বেশিরভাগ অর্থ নগদ ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।


মামলার বিবরণীতে আরো বলা হয়, বর্ণিত হিসাবগুলোতে গ্রাহকদের হিসাব থেকে প্রেরিত অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করে এবং নিজেদের নামে ক্রয়কৃত ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।  


এর আগে ফারমার্স ব্যাংকের জালিয়াতির ঘটনায় দুদক মাহবুবুল হক চিশতী এবং তার পরিবারের পাঁচ সদস্য, ব্যাংকের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে গত সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই তালিকায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নাম নেই।


তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির গ্রাহকের ঋণের ভাগ নিয়েছেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও মাহবুবুল হক চিশতী। এর মাধ্যমে দুজনের নৈতিক স্খলন ঘটেছে এবং তারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।


প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেয়া ফারমার্স ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর পরই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। আস্থার সংকট তৈরি হলে আমানতকারীদের অর্থ তোলার চাপ বাড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী। পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তারা।

 


Top