নতুন দুইটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী | daily-sun.com

নতুন দুইটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ মে, ২০১৮ ১৭:৪০ টাprinter

 নতুন দুইটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী

প্রাণিজগতে যোগ হলো আরও দুইটি নতুন অমেরুদণ্ডী প্রাণীর। এগুলোর নাম যথাক্রমে নিউমেনিয়া নোবিপ্রবিয়া ও অ্যাররেনারুস স্মিটি।

প্রাণী দুইটি আবিষ্কার করেন একজন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও তার দল। তিনি হলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মৎস্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন।

 

তার সহ-গবেষক ছিলেন মন্টিনিগ্রোর একারলজিস্ট ড. ভদ্মাদিমির, ভারতের টাপাস, নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম এবং পোল্যান্ডের ড. আন্দ্রেজেজ।

নতুন প্রজাতি দুইটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভে গবেষণার ফল লন্ডন ও নিউজিল্যান্ড থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সিস্টেমেটিকস ও একারোলজিতে পাঠানো হয়, যা ১৫ মে প্রকাশিত হয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

 

নিউমেনিয়া নোবিপ্রবিয়া নামটি দেশের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নামে নামকরণ করা হয়েছে। আর অ্যাররেনারুস স্মিটি নামক অমেরুদণ্ডী প্রাণীটির নামকরণ করা হয় নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত একারোলজিস্ট হ্যারি স্মিথের নামে।

 

গবেষণার বিবরণে জানানো হয়, গত বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ড. বেলাল নোয়াখালীর বিভিন্ন পুকুর, খাল ও নদী থেকে মাইটসের নমুনা সংগ্রহ করেন। এতে সঙ্গী হন তার ছাত্র নোবিপ্রবির মৎস্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সাইফুল ইসলাম। সংগৃহীত নমুনা প্রথমে নোবিপ্রবির মৎস্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে শনাক্তের পর ফলাফলের জন্য মন্টিনিগ্রোতে গবেষক ড. ভদ্মাদিমিরের কাছে পাঠানো হয়।

তিনি নমুনাগুলো চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করেন ও সিদ্ধান্তে উপনীত হন।

 

মাইটস দেখতে কিছুটা মাকড়সার মতো। এরা প্রাণিজগতের আর্থোপোডা পর্বের একারিয়া বর্গের অন্তর্গত। ড. বেলাল ও তার গবেষক দলের আবিষ্কৃত প্রাণী দুইটি ওই বৈশিষ্টসম্পন্ন। তাই এরাও আর্থোপোডা পর্বের একারিয়া বর্গের অন্তর্গত প্রাণী। এদের আকার ২/৩ মিলিমিটার, দেখতে হালকা লাল ও হলুদ বর্ণের হয়।

 

দুইটি শুঁড় ছাড়াও এদের চার জোড়া সন্তরণ পা থাকে। এরা সাধারণত পুকুর, নদী বা খালের পানির উপরের স্তরে ভাসমান উদ্ভিদের সঙ্গে ঝুলে থাকে। খাবার হিসেবে উদ্ভিদকণা গ্রহণ করে। তবে লার্ভা অবস্থায় এরা অন্য জলজ প্রাণীর দেহে পরজীবী হিসেবে বাস করে এবং ওই প্রাণী থেকেই খাবার সংগ্রহ করে। এরা জীবজগতের খাদ্যচক্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

এ বিষয়ে ড. বেলাল বলেন, প্রাণিজগতের প্রতিটি প্রাণীই ইকো সিস্টেমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এদের একটির অনুপস্থিতিতে খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে। ফলে ইকো সিস্টেম তার স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে পারে না।

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের জলরাশি অত্যন্ত জীববৈচিত্র্যপূর্ণ। গবেষণার অপ্রতুলতা, মানবসৃষ্ট দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবিস্কারের আগেই অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

 


Top