সেই মুক্তামনির ইন্তেকাল | daily-sun.com

সেই মুক্তামনির ইন্তেকাল

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ মে, ২০১৮ ১০:৪৮ টাprinter

সেই মুক্তামনির ইন্তেকাল

 

সাতক্ষীরার বিরল রোগ হেমানজিওমায় আক্রান্ত দশ বছরের শিশু মুক্তা মনি অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। বুধবার (২৩ মে) সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার কামারবাসা গ্রামের নিজ বাড়িতে সে মারা যায় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মুক্তামনির বাবা ইব্রাহীম হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।


এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার এক মাস পরেই আবারো চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসার কথা থাকলেও তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।


শিশুটির এমন দুর্দশা দেখে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন পার করছিলেন স্বজনরা। তাই সব মিলিয়ে ভালো ছিলেন না সাতক্ষীরার কামার বায়সা গ্রামের বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি। কতটা ব্যথা আর যন্ত্রণা সহ্য করে বেঁচে ছিলো শিশুটি।


শিশুটির বাবা জানিয়েছিলেন, ৬ মাস ধরে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার পর গত ২২ ডিসেম্বর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরে। এরপর কিছুদিন মুক্তামনি ভালো থাকলেও তার অবস্থা আবারো খারাপের দিকে যায়। তার ডান হাতটি এখন আরো ফুলে গিয়েছিলো। অস্ত্রোপচারের স্থান থেকে রক্ত ঝরার পাশাপাশি বাসা বেঁধেছিল পোকা।

। মেয়ের এমন দুর্দশা দেখে অসহায় ছিলেন বাবা-মা।


মুক্তামনির বাবা বলেন, 'ডাক্তারেরা বলেছিলেন, আমরা একমাস পরে ডেকে নেব। শীতের সময় ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। বলেছিল তখন বার্ন ইউনিটে রোগীর চাপ। গরমে ডাকবে। এরকম করে ৪ মাস চলে গেল। '


সারাদিন বিছানায় শুয়ে বসে থাকা শিশুটি আবারো সুস্থ হয়ে ছুটোছুটি করবে, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের সেই আশা আর বাস্তববে সম্ভব হলো না। না ফেরার দেশে চলে গেলেন মুক্তামনি।


২০১৭ সালের জুলাই মাসে মুক্তামনিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামনির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন।


ওই বছরের ১২ জুলাই ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হয় মুক্তামনি। প্রথমে তার রোগটিকে বিরল রোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে বায়োপসি করে জানা যায়, তার রক্তনালীতে টিউমার হয়েছে। তখন তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা। মুক্তামনির সব রিপোর্ট দেখে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানান।


এরপর ঢামেকের চিকিৎসকরাই তার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। ৫ আগস্ট মুক্তামনির হাতে প্রথম অস্ত্রোপচার হয়। তার হাতের ফোলা অংশ অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেন চিকিৎসকরা। পরে দুই পায়ের চামড়া নিয়ে দু’দফায় তার হাতে লাগানো হয়। ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালামের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ একদল চিকিৎসক মুক্তামনির স্কিন গ্রাফটিং (চামড়া লাগানো) অপারেশনে অংশ নেন। পরে মুক্তামনির হাত আবার ফুলে যাওয়ায়, ফোলা কমানোর উদ্দেশ্যে হাতে প্রেসার ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া হয়।


মুক্তামনি ঢামেক হাসপাতালে ছয় মাস চিকিৎসা নিয়ে গতবছরের ২২ ডিসেম্বর সাতক্ষীরায় নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। বাড়িতেই তার চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শে ওষুধ সেবন করানো হচ্ছিল। গত সপ্তাতে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এরই মধ্যে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে এবং দেশের মানুষের ভালোবাসার মায়া কাটিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল মুক্তামনি।  

 


Top