‘২০ লাখ বিড়ি শ্রমিক ও ১০ লাখ তামাক চাষিকে বেকার করা যাবে না’ | daily-sun.com

‘২০ লাখ বিড়ি শ্রমিক ও ১০ লাখ তামাক চাষিকে বেকার করা যাবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক     ১৯ মে, ২০১৮ ১৮:৫৫ টাprinter

‘২০ লাখ বিড়ি শ্রমিক ও ১০ লাখ তামাক চাষিকে বেকার করা যাবে না’

বাংলাদেশ বিড়ি-শ্রমিক প্রতিনিধি সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রাক্তন সভাপতি মনজুরুল আহসান

 

বিশ লাখ বিড়ি শ্রমিক ও ১০ লাখ তামাক চাষিকে বেকার করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি করেছেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা। শনিবার সকালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চ মিলনায়তনে আয়োজিত বাংলাদেশ বিড়ি-শ্রমিক প্রতিনিধি সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।

জাতীয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ (আরডিসি) এবং বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের আয়োজনে এই প্রতিনিধি সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিড়ি কারখানা থেকে আগত প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক এমপির। । তবে শেষ পর‌্যন্ত তিনি উপস্থিত হতে না পারলেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিড়ি শ্রমিক ও চাষিদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, “বিড়ি শ্রমিক প্রতিনিধি সম্মলনে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমি একাত্মতা ঘোষণা করছি। জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করবো। ”

প্রতিনিধি সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রাক্তন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান। তিনি বলেন, “সেই পাকিস্তান আমল থেকে আমরা বিড়ি শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমরা শ্রমিকদের এই ন্যায্য আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করছি।

বিড়ি শ্রমিকদের আন্দোলনের সংগ্রাম জাতীয় সংসদের মধ্যে হবে আর আমরা বাইরে সংগ্রাম করবো”

বিড়ি-শ্রমিক প্রতিনিধি সম্মেলনে সংহতি বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এমপি এবং বাংলাদশে আওয়ামী লীগের সংসদ সদ্স্য ফজলুল হক এমপি ও কবি কাজী রোজী এমপি।

কাজী রোজী বলেন, কোনও বৈষম্য নয়, “বিডি সিগারেটের জন্য একই নিয়ম দেখতে চাই। ”

সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আরডিসির চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. মেসবাহ কামাল।

তিনি বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে বিড়ি শিল্প ধ্বংস করা যাবে না। বিড়ি সিগারেট দুটোই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বন্ধ করতে হলে দুটোকেই একসঙ্গে বন্ধ করতে হবে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিড়ি-শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি। বাজেটের আগে সরকারের পক্ষ থেকে ট্যাক্স কমানোর ঘোষণা দাবি করেন তিনি।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম কে বাঙালি, যুগ্ন আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হারিক হোসেনসহ বিডি শ্রমিক প্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় নেতারা।

রংপুরে আগামী ২৪ মে বৃহৎ কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ ও ধর্মঘট আহ্বানের পরিকল্পনার কথা জানান তারা।

প্রতিনিধি সম্মেলনে সিরাজগজ্ঞের কিসমত বিড়ি, রংপুরের হরিণ বিড়ি, মায়া বিড়ি, ময়মনসিংয়ের মোহিনী বিড়ি, নবাব বিড়ি, টাঙ্গাইলের হক বিড়ি ও মন্টু বিড়ি, ভৈরবের পঁচা বিড়ি, কনিকা বিড়ি, বরিশালের কারিগর বিড়ি, পাজ্ঞা বিড়ি, খুলনার গোপাল বিড়ি, সোনালি বিড়ি, যশোরের মাসুদ বিড়ি, আকিজ বিড়ি, আজিজ বিড়ি, গাইবান্ধার লাটিম বিড়ি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহিন বিড়ি, মাদারিপুরের শ্রমিক বিড়ি, বগুড়ার শরীফ বিড়িসহ সারাদেশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রতিনিধি সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো দুই বছরে বিড়ি বন্ধ করা ও ২২ বছরে সিগারেট বন্ধ করা সম্পর্কিত অর্থমন্ত্রীর অযৌক্তিক, ষড়যন্ত্রমূলক ও বৈষম্যমূলক ঘোষণা  অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে; প্রতি হাজার বিড়ি শলাকার ওপর ২৫২ টাকা ট্যাক্স প্রত্যাহার করে ভারতের মতো প্রতি হাজার বিড়ি শলাকায় ১৪ টাকা ট্যাক্স নিধারণ করতে হবে; ভারতের মতো বিশ লাখ শলাকার নিচে বিড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স সম্পূর্ন মওকুফ করতে হবে; প্রতি হাজার বিড়ি তৈরির মজুরি ১০০ টাকা নিধারণ করতে হবে এবং ভারতের মতো বিড়ি শ্রমিকদের জন্য সরকার কর্তৃক বার্ষিক ২টি অনুদান ও বাড়ি নির্মাণে এককালীন সাহায্য দিতে হবে; সব বিড়ি ও তামাক চাষিদের জীবন জীবিকা, কর্মসংস্থান ও শিল্পের স্বার্থে একপেশে নীতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় স্ব-স্ব শ্রেণির প্রতিনিধিত্বে পরিকল্পিত নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে; প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০৪১ সালের পূর্ব বিকল্প কর্মসংস্থান না করে বিড়ি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বন্ধ করা যাবে না; এবং ২০ লাখ শ্রমিক ১০ লাখ তামাক চাষিকে বেকার করা চলবে না।


Top