সেশনজট বিবেচনায় পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত | daily-sun.com

সেশনজট বিবেচনায় পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ মে, ২০১৮ ১৩:৪৮ টাprinter

সেশনজট বিবেচনায় পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত

 

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে চলমান পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলকারী শিক্ষার্থীরা। রমজান ও সেশনজট বিবেচনায় রেখে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।


হাসান আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন চেয়ে চলমান ছাত্র ধর্মঘটে পরীক্ষা বর্জন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।  


এর আগে গত সোমবার (১৪ মে) শাহবাগের অবরোধ স্থগিত করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর।


উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ৮ এপ্রিল থেকে চারদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বড় আকারে আন্দোলন করেন। পর দিন সচিবালয়ে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীরা। বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাদের অত্যন্ত সুন্দর আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের বলেছি- আগামী ৭ মের মধ্যে সরকার বিদ্যমান কোটার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। সেই পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। এ সময় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনও ৭ মে পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এ ঘোষণার পর ৯ এপ্রিল রাতে আন্দোলন স্থগিত হয়ে যায়। তবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক বক্তব্য কেন্দ্র করে ১০ এপ্রিল থেকে ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসার দাবি জানান। ১১ এপ্রিল শাহবাগ এবং ঢাকার অন্যত্র সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে সরব হন। দেশের নানা জায়গায় সড়ক অবরোধ হয় এ দাবিতে। ১১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দেখা করেছেন। তিনি সব ধরনের কোটা বাতিলের কথা বলেছেন। এদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। পর দিন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করেন। তবে ওই দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে আসছে আন্দোলনকারীরা। এর দুই সপ্তাহ পর গত ২৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে এপ্রিল মাসের মধ্যেই কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি ও মামলা প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পর দিন ২৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। রাত ৯টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন সংসদ সদস্য ভবনে (ন্যাম ভবন) জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠক শেষে কোটা সংস্কার আন্দোলন ৭ মে পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।  


সর্বশেষ গত ২ মে সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের ক্ষোভ থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ছাত্ররা কোটাব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেয়া হয়েছে।

 
প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ। সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান এ কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে গত দুই মাস ধরে।

 


Top