আসামকে টুকরো করতে পারে নাগরিকত্ব বিল | daily-sun.com

আসামকে টুকরো করতে পারে নাগরিকত্ব বিল

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ মে, ২০১৮ ১২:৫১ টাprinter

আসামকে টুকরো করতে পারে নাগরিকত্ব বিল

প্রায় ৩০ বছর ধরে আসাম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।

অর্ধ শত বছর ধরে রাজ্যটির জনসাধারণ প্রতিবছর বন্যার তাণ্ডবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। অর্থব সরকার ও ঠিকাদার, রাজনীতিবিদ ও জঙ্গিদের আঁতাতের ফলে সরকারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিভাগটি কিছুই করতে পারেনি।


রাজ্যটি দশকের পর দশক ধরে সহিংসতা, উচ্ছেদ, ভূমি হারানো, জীবিকা খোয়ানো, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ভয়ঙ্কর ধরনের ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছে। এত কিছুর মধ্যেও রাজ্যটির রাজনীতিতে সবসময় নাগরিকত্ব ও ‘দেশি-বিদেশি’ জটিলতাটিই প্রাধান্য পেয়েছে।


সম্প্রতি যৌথ পার্লামেন্টারি কমিটি নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৬ নিয়ে মতামত জানতে আসাম ও মেঘালয় সফর করলে আবারো আন্দোলনের সূচনা ঘটে।


মুখ্যমন্ত্রী সনোওয়ালের জন্য প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা ছিল স্বাভাবিক বিষয়। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কথিত অবৈধ অভিবাসীদের বহিস্কার আন্দোলনের মাধ্যমেই তিনি সামনের কাতারে এসেছেন।

 


অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ছাত্রনেতা ছিলেন তিনি। ওই ইউনিয়নই আসাম চুক্তি করেছিল।

ওই চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর আসামে প্রবেশ করা হিন্দু-মুসলিম সব বাংলাদেশীকেই অবৈধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু খসড়া নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৬-এ হিন্দু বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব মঞ্জুর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


আরেকটি ‘বিদেশিবিরোধী আন্দোলন’ অপেক্ষমাণ: আসামের অসন্তুষ্টির অন্যতম কারণ বাংলাদেশ থেকে কথিত অবৈধ অভিবাসন। কেবল মুসলিম বাঙালিদের বিরুদ্ধে নয়, হিন্দু বাঙালিদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ রয়েছে।  


নতুন বিলে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানরা ১১ বছরের ছয় বছর অবস্থান করলেই তারা নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে।


এ বিষয়টি আসামের ‘আদিবাসী’ গ্রুপগুলো মেনে নিতে চাচ্ছে না। বর্তমান বিলে বসবাসের মেয়াদ পাঁচ বছর কমানোর কথা বলা হলেও এর নেপথ্যের হিসাবটিই তাদেরকে ক্ষুব্ধ করেছে। ফলে তারা আবার বিদেশিদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে। বিশেষ করে তাদের ক্ষোভ বাঙালিদের বিরুদ্ধেই। আবার সে সানোওয়াল বিদেশীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, তিনি এখন পর্যন্ত একজন বিদেশিকেও বহিষ্কার করতে সক্ষম হননি।


প্রথমে এনআরসি, এখন নাগরিকত্ব বিল: নাগরিক নিবন্ধন খসড়াটি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে, ঠিক তখনই নাগরিকত্ব বিলটি সামনে নিয়ে আসা হলো। উল্লেখ্য, অনেকেই আশঙ্কা করছে, নাগরিকত্ব নিবন্ধন বিলের ফলে লাখ লাখ লোক নাগরিকত্ব হারাবে। এর মধ্যে নতুন বিলের আগমনে রাজ্যটিতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 


এনআরসি ইতোমধ্যেই ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ও বরাক উপত্যকার (এখানে বাঙালিদের প্রাধান্য রয়েছে) মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি করেছে।


তবে একটি বিষয় নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করছে না। তা হলো হিন্দু, পারসি, শিখ, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও কেন একই সুবিধা মুসলিমদের দেওয়া হবে না। তারাও তো নির্যাতিত হতে পারে। অন্যরা নির্যাতিত হলে ভারতে গিয়ে নাগরিকত্ব পেতে পারলে মুসলিমরা কেন পারবে না?


এখানে আরেকটি বিষয়ও রয়েছে। নাগরিকত্ব মঞ্জুর করার মানে এই নয়, তাদেরকে পূর্ণ নাগরিক অধিকার দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে চাকমাদের বিষয়টি উত্থাপন করা যেতে পারে। চাকমাদের বেশির ভাগই বৌদ্ধ। ৫০ বছর আগে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর তারা অরুনাচল প্রদেশে পাড়ি দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট তাদের নাগরিকত্ব প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় নাগরিকেরা এর তীব্র বিরোধিতা করছে। বিশেষ করে ভূমির অধিকার নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব চলছে।


আদিবাসীদের সংস্কৃতি রক্ষার নামে সত্যিকারের নাগরিকদের পর্যন্ত এসব অঞ্চলে মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা যায়নি। তবে বর্তমানে একটি পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু আদিবাসী রাজনৈতিক দল এজিপির সদস্য নন, তিনি বিজেপির। তিনি রাজ্যের হিন্দু ভোটের জোরে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।


বিজেপির ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়া দরকার। এমন পরিস্থিতি তিনি ও তার দল কিভাবে বর্তমান অসন্তোস সামাল দেন, তাই দেখার বিষয়।


- সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top