রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দিনে ৬০ শিশুর জন্ম: ইউনিসেফ | daily-sun.com

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দিনে ৬০ শিশুর জন্ম: ইউনিসেফ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ মে, ২০১৮ ১৫:১৬ টাprinter

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দিনে ৬০ শিশুর জন্ম: ইউনিসেফ

 

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতার শিকার হয়ে যেসব রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৬০টি শিশু জন্ম নিচ্ছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এ তথ্য জানিয়েছে।


বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বুধবার (১৬ মে) ইউনিসেফের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র তিন হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।


প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি চেকপোস্টে হামলাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাখাইন রাজ্যে যুগ যুগ ধরে বসবাসরত সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে বার্মিজ আর্মি। ভয়াবহ ওই সহিংসতার শিকার হয়ে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তারা এখন কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করছে।


জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ওই অভিযানকে জাতিগত নিধন বলে অভিহিত করেছে। কিন্তু মিয়ানমার বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে।


ইউনিসেফের বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডুওয়ার্ড বেইগবেদার বলেছেন, ‘ভয়ংকর পরিবেশের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৬০টি শিশু পৃথিবীর মুখ দেখছে, আর যে মা এদের জন্ম দিচ্ছে তারাও নানা সমস্যায় জর্জরিত।’


তিনি বলেন, ‘যৌন সহিংসতার কারণে কত শিশু জন্ম নিয়েছে বা ভবিষ্যতে নেবে তার সঠিক সংখ্যা বলা কষ্টকর। তবে যারা দুনিয়াতে আসছে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে সেটাই বড় কথা।’


রয়টার্স বলছে, গত সপ্তাহে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ১৮ হাজার ৩০০ জন গর্ভবতী নারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে ২৫ হাজার এ রকম নারী রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।


এদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের দ্বিতীয় বৈঠক ঢাকায় শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় এ বৈঠক চলছে। এর আগে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। এরপর চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মিয়ানমারে ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠকের পর আজ ঢাকায় দ্বিতীয় বৈঠকে বসেছে দু'দেশের প্রতিনিধি দল।

 


Top