বাসের চাপায় হাত হারানো রাজীবের ক্ষতিপূরণ স্থগিতে আপিলের আদেশ সোমবার | daily-sun.com

বাসের চাপায় হাত হারানো রাজীবের ক্ষতিপূরণ স্থগিতে আপিলের আদেশ সোমবার

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ মে, ২০১৮ ১০:৩৭ টাprinter

বাসের চাপায় হাত হারানো রাজীবের ক্ষতিপূরণ স্থগিতে আপিলের আদেশ সোমবার

 

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের চাপায় ডান হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হাসানের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বিটিআরসির আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছ। এ বিষয়ে আগামী সোমবার (২১ মে) আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।


আদালতে বিআরটিসির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ বি এম বায়েজীদ। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মুনীরুজ্জামান। রাজীবের পরিবারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। স্বজন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন পংকজ কুমার কুন্ডু।


এর আগে গত ১৩ মে রাজীব হাসানের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বারজজ আদালতে আবেদন করে বিটিআরসি। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত না করে শুনানির জন্য ১৭ মে দিন ঠিক করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।  


গত ৮ মে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাজীবের দুইভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের মালিককে নির্দেশ দেন। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ একমাসের মধ্যে দিতে বলা হয় দুই বাস কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু বিআরটিসি ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১০ মে আপিল আবেদন করে। 


সে অনুসারে বৃহস্পতিবার আবেদনটির শুনানিতে বিআরটিসির পাশাপাশি  স্বজন পরিবহনের পক্ষে আইনজীবী হাজির হন। ৮ মে হাইকোর্ট রাজীবের খালা জাহানারা পারভীন ও রাজীবের গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদের ছেলে কাস্টমস কর্মকর্তা ওমর ফারুকের নামে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় একটি যৌথ হিসাব খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই হিসাবে একমাসের মধ্যে দুই বাস কর্তৃপক্ষ ২৫ লাখ করে মোট ৫০ লাখ টাকা জমা দেবেন। টাকা জমা দেওয়ার পর আগামী ২৫ জুনের মধ্যে আদালতকে দুই কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে বিষয়টি জানাবেন। ২৫ জুন এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। ওইদিন বাকি ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ আসতে পারে বলেও জানান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।


উল্লেখ্য, ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ করে পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস ওভারটেক করে।
 
 
সেসময় বিআরটিসির দোতলা বাসটির পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের ডান হাতটি বাইরের দিকে সামান্য বেরিয়েছিল। স্বজন পরিবহনের বাসটি বিআরটিসি বাসের গা ঘেঁষে পেরিয়ে যাওয়ার সময় রাজীবের হাতটি কাটা পড়ে। এ ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এতে তার মাথায়ও প্রচণ্ড আঘাত লাগে। তাকে দ্রুত পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সে হাতটি রাজীবের শরীরে আর জোড়া লাগাতে পারেননি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) ভোর পৌনে ৪টায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে রাজীব। এরপর ওই দিন সকাল ৮টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। এরপর ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান তিনি।
 
 
ঢাকায় রাজীব হোসেন যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগের একটি মেসে থাকতেন। পড়াশোনা চালাচ্ছিলেন স্বজনদের সহযোগিতায়। রাজীবের মা-বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাজীব সবার বড়। বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের দাসপাড়ায়। রাজীব টিউশনি করতেন এবং চাচা, খালাসহ সবার সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছিলেন।
 
 
রাজীব হোসেনের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সুস্থ হলে তাকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি।

 


Top