খুলনা সিটি মেয়র হচ্ছেন তালুকদার আবদুল খালেক | daily-sun.com

খুলনা সিটি মেয়র হচ্ছেন তালুকদার আবদুল খালেক

ডেইলি সান অনলাইন     ১৫ মে, ২০১৮ ২২:২৪ টাprinter

খুলনা সিটি মেয়র হচ্ছেন তালুকদার আবদুল খালেক

সরকারি দল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

 

স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে খুলনার মোট ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত ফলাফলে তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯০২ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫৬ ভোট।

 

বিশৃঙ্খলা এবং ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন তিনটি ভোটকেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছেন।

 

ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, লবণছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজি মালেক দারুলসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা, এই তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত করা হয়েছে।

 

খুলনা সিটি কর্পেোরেশন নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, সফল নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, এই নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

 

নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে দুই প্রধান দলের প্রার্থীদের মধ্যে বাগযুদ্ধ, অভিযোগ, পাল্টা-অভিযোগের খেলা আজ নির্বাচনের দিনেও চলেছে।

 

বিএনপি প্রার্থী মঞ্জু ১৫০ ভোটকেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ওই সকল কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

 

বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা আর উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।

 

খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী এই তিনটি এলাকা খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মিল-কারখানা ও শ্রমিক অধ্যুষিত হওয়ায় এখানে ভোটাররা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। নগরীর অন্যান্য এলাকার চেয়ে এখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

এদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দিনভর নির্বাচনে জালভোট দেয়া, এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অভিযোগ করে আসছেন।

 

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। সেখানকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির করা অভিযোগ সুনির্দিষ্ট নয় এবং দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে।

কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির অভিযোগ সুনির্দিষ্ট নয়। যাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে। তারা এজেন্ট কি না সেটাও দেখার বিষয়। পরিচয়পত্র না থাকলে তাদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়।

 

এই নির্বাচনে মেয়র এবং কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিলিয়ে মোট ১৯১ জন প্রার্থী নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

 

মেয়র প্রার্থী ৫ জন, ১৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন কাউন্সিলর এবং ১০টি সংরক্ষিত আসনে ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

খুলনা সিটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে ভোট কক্ষ ১ হাজার ১৭৮টি। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার রয়েছে ৪ হাজার ৫৭২ জন।

 

এর আগে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৮জন। এর মধ্যে ২ লাখ ১৬ হাজার ৯৭ জন ছিল নারী ও ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৭১ জন ছিল পুরুষ ভোটার। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটার ছিল ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৩৯৮ জন।


Top