সন্তান জন্মের ১৭ বছর পর পিতার স্বীকৃতি | daily-sun.com

সন্তান জন্মের ১৭ বছর পর পিতার স্বীকৃতি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৫ মে, ২০১৮ ২০:১৭ টাprinter

সন্তান জন্মের ১৭ বছর পর পিতার স্বীকৃতি

জন্মের ১৭ বছর পর কন্যাকে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন এক পিতা। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সাটিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম তার কন্যা সুমি আক্তারকে এ স্বীকৃতি দেন।

 

জানা যায়, শরিফুল ইসলাম একই উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত আমিরুল ইসলামের মেয়ে শেফালী বকুলের সাথে বিবাহ হয়। বনিবনা না হওয়ায় সুমি জন্মের ৬ মাস পর ২০০১ সালে স্ত্রী শেফালীকে তালাক দেন শরিফুল। কিন্তু ২০০১ সালে শেফালীর গর্ভে জন্ম নেয়া সুমিকে মেনে নেননি তিনি। সুমি তার সন্তান নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন শেফালীকে।

 

 

কিন্তু মা শেফালী তো মেয়েকে ফেলে দিতে পারে না। দীর্ঘ ১৭ বছর নানা অপবাদ ও অপমান সহ্য করে মানুষের বাসায় কাজ করে মেয়ের ভরণ-পোষণ করেছেন তিনি। এর মধ্যে শেফালী তার মেয়ের পিতার স্বীকৃতি চেয়ে অনেকের কাছে বিচার দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন লাভ হয় নি। বর্তমানে সুমি পীরগঞ্জ পাইলট স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী।

অবশেষে স্থানীয় এক মানবাধিকারকর্মীর সহায়তায় ইউএনও বরাবরে পিতৃত্বের পরিচয় চেয়ে আবেদন করে সুমি। ইউএনও বিষয়টির উপযুক্ত তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। অবস্থা বেগতিক দেখে শরিফুল মিমাংসায় বসেন।

 

 

শনিবার রাতে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে উভয় পক্ষের আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গে উপস্থিতিতে শরিফুল সুমিকে সন্তান হিসেবে মেনে নেন এবং তার যাবতীয় ব্যয় বহনে সম্মতি দেন।  

 

এ বিষয়ে সুমি আক্তার বলেন, আগে আমি আমার বাবার পরিচয় দিতে পারতাম না কিন্তুু এখন থেকে পারবো। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে। পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুল হক জানান, সুমিকে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় বিষয়টি আপোষ-রফা হয়েছে। সুমি এখন আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে পারবে।   

 


Top