খুলনা সিটির ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা | daily-sun.com

খুলনা সিটির ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা

ডেইলি সান অনলাইন     ১৫ মে, ২০১৮ ১৬:২৮ টাprinter

খুলনা সিটির ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা

 

কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট, ব্যালটে জোর করে সিল মারা, এজেন্টদের মারধর ও বের করে দেয়াসহ বিক্ষিপ্ত ঘটনায় শেষ হয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল ৮টা থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে এ সিটি করপোরেশনের ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে একযোগে ভোট শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে।


সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটাররা জড়ো হয়েছেন তাদের নবম নগরপিতাকে ভোট দিয়ে নির্বাচনের জন্য। নারী-পুরুষ সবার মধ্যেই এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। তবে বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনায় অবশ্য ভোটারদের উপস্থিতিতে ভাটা পড়ে।


নির্বাচন কেন্দ্র করে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।


এবারের নির্বাচনে ৫ জন মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডে ৩৯ জন এবং ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


মেয়রপদে প্রার্থী পাঁচজন হলেন- আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক, বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জাতীয় পার্টির এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক ও সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু। তবে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি প্রার্থীর মধ্যেই হচ্ছে মূল লড়াই।


প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে কেসিসির মেয়র পদে নির্বাচন হওয়ায় প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে।


এদিকে সকাল ৮টার দিকে শহরের পাইওনিয়ার গার্লস স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। এরপর সকাল পৌনে ৯টার দিকে রহিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।


নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তালুকদার আব্দুল খালেক সাংবাদিকদের জানান, দিন শেষে যে ফলাফল হবে, তা তিনি মেনে নিবেন।


আর নজরুল ইসলাম মঞ্জু সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের মারধর ও বের করে দেয়ার অভিযোগ আনেন। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।


এরই মধ্যে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ২২নং ওয়ার্ডের ফাতেমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং লবনচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে ফাতেমা উচ্চ বিদ্যালয় ৮৫টি জালভোট বাতিল করে আধাঘণ্টা পরে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।


ফাতেমা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার রিতেশ বিশ্বাস বলেন, আইন-শৃঙ্খলা-বাহিনীর সহায়তায় ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং সকাল পৌনে ১০টা থেকে সোয়া দশটা পর্যন্ত জালভোট দেওয়ার কারণে ৮৫টি জালভোট বাতিল করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ১৯০৬। বর্তমানে ৬টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে।


ইকবাল নগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, সকালে সব ভালোভাবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু ১০টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত এসে অস্ত্রের মুখে জাল ভোট দিতে থাকে। এ সময় পুলিশকে ডেকেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রের মোট ভোটার ২১২৪ জন।  


লবনচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রোকনুজ্জামান জানান, বেলা ১২টা থেকে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে। প্রচুর সিল মারা ব্যালট জব্দ করা হয়েছে। তবে ওই সময় র‌্যাব এসে পড়ায় এগুলো বাক্সে ঢুকাতে পারেনি।


এরও আগে নির্বাচনে নগরীর ৪০টি কেন্দ্র থেকে পুলিশের সহযোগিতায় বিএনপির এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (১৫ মে) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।


রিজভী বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪০টি কেন্দ্র থেকে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়েছে সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা। এসব কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা জাল ভোট দিচ্ছে।


তবে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির করা অভিযোগ সুনির্দিষ্ট নয় এবং দু'একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নির্বাচন মনিটরিং সেল পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার (১৫ মে) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, এভাবে শান্তপূর্ণ ভোট বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে বলে আশা করি।


সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি কেন্দ্র বন্ধ হয়েছে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।


ইসির মনিটরিং সেল থেকে জানা যায়, ২২২ নম্বর কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।


কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপির অভিযোগ সুনির্দিষ্ট নয়। যাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে। তারা এজেন্ট কি না সেটাও দেখার বিষয়। পরিচয়পত্র না থাকলে তাদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়।

 


Top