লবনচোরায় ভোটগ্রহণ বন্ধ, সিল মারা ব্যালট জব্দ | daily-sun.com

লবনচোরায় ভোটগ্রহণ বন্ধ, সিল মারা ব্যালট জব্দ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৫ মে, ২০১৮ ১৪:২১ টাprinter

লবনচোরায় ভোটগ্রহণ বন্ধ, সিল মারা ব্যালট জব্দ

 

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লবনচোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে। এ সময় প্রচুর সিল মারা ব্যালট জব্দ করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রোকনুজ্জামান।


তিনি বলেন, বেলা ১২টা থেকে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে। প্রচুর সিল মারা ব্যালট জব্দ করা হয়েছে। তবে ওই সময় র‌্যাব এসে পড়ায় এগুলো বাক্সে ঢুকাতে পারেনি। 


রোকনুজ্জামান আরও জানান, ওই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২০১৬ জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০০০ এর মতো ভোট পড়েছে বলে জানান তিনি।


এর আগে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার রিতেশ বিশ্বাস। যদিও পরে আইন-শৃঙ্খলা-বাহিনীর সহায়তায় ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং সকাল পৌনে ১০টা থেকে সোয়া দশটা পর্যন্ত জালভোট দেওয়ার কারণে ৮৫টি জালভোট বাতিল করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ১৯০৬। বর্তমানে ৬টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে।


এছাড়া জোরপূর্বক ব্যালটে সিল মারার অভিযোগে ইকবাল নগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রের মোট ভোটার ২১২৪ জন। মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল আটটায় সাতটি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। হঠাৎ করেই সকাল ১০টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত কেন্দ্রে এসে জোর করে জাল ভোট দিয়ে চলে যান। 


ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, সকালে সব ভালোভাবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু ১০টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত এসে অস্ত্রের মুখে জাল ভোট দিতে থাকে। এ সময় পুলিশকে ডেকেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


এর আগে সকাল ৮টায় উৎসবমুখর পরিবেশে নগরীর সব ভোট কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং তা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। 


ইতোমধ্যে, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক, বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও জাতীয় পার্টির মেয়রপ্রার্থী শফিকুর রহমান মুশফিক ভোট প্রদান করেছেন।


এর মধ্যে সকাল ৮টার দিকে শহরের পাইওনিয়ার গার্লস স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। এরপর সকাল পৌনে ৯টার দিকে রহিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

 
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ভোটকক্ষ ১ হাজার ১৭৮টি। ভোট কেন্দ্র ও ভোট কক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন ৪ হাজার ৯৭২ জন কর্মকর্তা।


এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার রয়েছেন ২৮৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ১ হাজার ৫৬১ জন এবং পোলিং এজেন্ট রয়েছেন ৩ হাজার ১২২ জন।


এ নির্বাচনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে স্থায়ী ভোট কক্ষ রয়েছে ১ হাজার ৫৬১টি। আর অস্থায়ী ভোট কক্ষ রয়েছে ৫৫টি। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্যমতে, ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৩৪টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ)।


এই সিটির দুই কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হবে। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে ১০টি ইভিএম থাকবে।


এ ছাড়া দৌলতপুর সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সেন্ট্রাল রোডের পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পিটিআই মোড়ের প্রশিক্ষণ ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় নির্বাচনের দিন সিসি ক্যামেরা থাকবে।


র‌্যাব-৬ এর পরিচালক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম ও কেএমপির মুখপাত্র সোনালী সেন জানান, নির্বাচনে তিন হাজার ৪৩৭ জন পুলিশ, ১৬ প্লাটুন বিজিবি ও ৩০০ এপিবিএন সদস্য এবং আনসারের চার হাজার ৮৪৫ জন দায়িত্ব পালন করছেন।


এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে ৩১টি মোবাইল ফোর্স, ১১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র্যাবের ৩২টি সেক্টর পার্টি, ৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করেছে।

 


Top