জোর করে জাল ভোট, ইকবাল নগর বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ বন্ধ | daily-sun.com

জোর করে জাল ভোট, ইকবাল নগর বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ বন্ধ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৫ মে, ২০১৮ ১৩:১৪ টাprinter

জোর করে জাল ভোট, ইকবাল নগর বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ বন্ধ

 

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোরপূর্বক ব্যালটে সিল মারার অভিযোগে ইকবাল নগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার আনিসুর রহমান জানান, ওই কেন্দ্রে কিছু লোক জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মেরেছে।


ইকবাল নগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ২১২৪ জন। মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল আটটায় সাতটি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। হঠাৎ করেই সকাল ১০টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত কেন্দ্রে এসে জোর করে জাল ভোট দিয়ে চলে যান। 


ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, সকালে সব ভালোভাবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু ১০টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত এসে অস্ত্রের মুখে জাল ভোট দিতে থাকে। এ সময় পুলিশকে ডেকেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


খবর পেয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনূস আলী দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি কেন্দ্র পরিদর্শন ছাড়াও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করছেন।

 

এদিকে, এখনো হাজারো ভোটার কেন্দ্রের বাইরে রয়েছেন। তারা ভোট দিতে না পেরে বিক্ষোভ করছেন।

 

এর আগে সকাল ৮টায় উৎসবমুখর পরিবেশে নগরীর সব ভোট কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং তা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। 


ইতোমধ্যে, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক, বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও জাতীয় পার্টির মেয়রপ্রার্থী শফিকুর রহমান মুশফিক ভোট প্রদান করেছেন।


এর মধ্যে সকাল ৮টার দিকে শহরের পাইওনিয়ার গার্লস স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। এরপর সকাল পৌনে ৯টার দিকে রহিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

 
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ভোটকক্ষ ১ হাজার ১৭৮টি। ভোট কেন্দ্র ও ভোট কক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন ৪ হাজার ৯৭২ জন কর্মকর্তা।


এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার রয়েছেন ২৮৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ১ হাজার ৫৬১ জন এবং পোলিং এজেন্ট রয়েছেন ৩ হাজার ১২২ জন।


এ নির্বাচনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে স্থায়ী ভোট কক্ষ রয়েছে ১ হাজার ৫৬১টি। আর অস্থায়ী ভোট কক্ষ রয়েছে ৫৫টি। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্যমতে, ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৩৪টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ)।


এই সিটির দুই কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হবে। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে ১০টি ইভিএম থাকবে।


এ ছাড়া দৌলতপুর সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সেন্ট্রাল রোডের পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পিটিআই মোড়ের প্রশিক্ষণ ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় নির্বাচনের দিন সিসি ক্যামেরা থাকবে।


র‌্যাব-৬ এর পরিচালক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম ও কেএমপির মুখপাত্র সোনালী সেন জানান, নির্বাচনে তিন হাজার ৪৩৭ জন পুলিশ, ১৬ প্লাটুন বিজিবি ও ৩০০ এপিবিএন সদস্য এবং আনসারের চার হাজার ৮৪৫ জন দায়িত্ব পালন করছেন।


এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে ৩১টি মোবাইল ফোর্স, ১১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র্যাবের ৩২টি সেক্টর পার্টি, ৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করেছে।

 

 


Top