কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শাহবাগ মোড় অবরোধ | daily-sun.com

কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শাহবাগ মোড় অবরোধ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৪ মে, ২০১৮ ১৪:১৮ টাprinter

কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শাহবাগ মোড় অবরোধ

 

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে এবার রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৪ মে) দুপুর একটার দিকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃত্বে হাজারো শিক্ষার্থী এই অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এ সময় মোড়ের চারপাশের রাস্তায় গাড়ি আটকে গিয়ে যানজট দেখা দেয়।

 
অবরোধ সম্পর্কে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই অবস্থান করবো।


এর আগে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রাস্তায় বিক্ষোভ করেন আন্দোলকারী শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টা থেকে ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন হাজারো শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে তাদের একটি অংশ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরেন। মিছিল থেকে ‘আর নয় কালক্ষেপন দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’, ‘হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নেই’, ‘কোটা দিয়ে কামলা নয় মেধা দিয়ে আমলা চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।


এরপর আন্দোলনকারীরা একজোট হয়ে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন।


এর আগে কয়েক দফায় আল্টিমেটাম শেষে আজ (সোমবার) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। রবিবার (১৩ মে) এই একই দাবিতে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বিক্ষোভ মিছিল শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদেরর আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। ওই দিন তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ৩২ দিনেও কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন হয়নি। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমরা আজ বিক্ষোভ করেছি। আমরা কোটা বাতিল চাই না। আমরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছি। আপনারা চাইলে বিশেষ কারো জন্য কোটা রাখতে পারেন। তবে সেটি হতে হবে আমাদের পাঁচ দফা দাবির ভিত্তিতে। যদি আজ (রবিবার) বিকেল ৫ টার মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না করা হয় তবে সোমবার সকাল ১০টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন করবে শিক্ষার্থীরা।


এদিকে এরইমধ্যে সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেন অবরোধ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সেখানে আন্দোলনের বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ চবি শাখার প্রধান সমন্বয়ক আরজু চৌধুরী বলেন, প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাস বর্জন অব্যাহত রাখব।


এ ছাড়া নোয়াখালী, কুমিল্লা থেকেও আন্দোলনের খবর পাওয়া গেছে।


এর আগে গত বুধবার (৯ মে) দুপুরে একই দাবিতে টিএসসিতে পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারও আগে মঙ্গলবার (৮ মে) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। ওই দিন তারা সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত রাজপথে আবারও আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দেন।


উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ৮ এপ্রিল থেকে চারদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বড় আকারে আন্দোলন করেন। পর দিন সচিবালয়ে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীরা। বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাদের অত্যন্ত সুন্দর আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের বলেছি- আগামী ৭ মের মধ্যে সরকার বিদ্যমান কোটার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। সেই পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। এ সময় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনও ৭ মে পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর ৯ এপ্রিল রাতে আন্দোলন স্থগিত হয়ে যায়। তবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক বক্তব্য কেন্দ্র করে ১০ এপ্রিল থেকে ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসার দাবি জানান। ১১ এপ্রিল শাহবাগ এবং ঢাকার অন্যত্র সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে সরব হন। দেশের নানা জায়গায় সড়ক অবরোধ হয় এ দাবিতে। ১১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দেখা করেছেন। তিনি সব ধরনের কোটা বাতিলের কথা বলেছেন। এদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। পর দিন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করেন। তবে ওই দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে আসছে আন্দোলনকারীরা। এর দুই সপ্তাহ পর গত ২৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে এপ্রিল মাসের মধ্যেই কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি ও মামলা প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পর দিন ২৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। রাত ৯টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন সংসদ সদস্য ভবনে (ন্যাম ভবন) জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠক শেষে কোটা সংস্কার আন্দোলন ৭ মে পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। 


সর্বশেষ গত ২ মে সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের ক্ষোভ থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ছাত্ররা কোটাব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেয়া হয়েছে।

 
প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ। সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান এ কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে গত দুই মাস ধরে।

 


Top