মহাকাশে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা | daily-sun.com

মহাকাশে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা

ডেইলি সান অনলাইন     ১৪ মে, ২০১৮ ১১:২৮ টাprinter

মহাকাশে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা

 

দক্ষিণ এশিয়ায় বেসরকারি খাতে তৈরি নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক প্রথম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণ করা এই ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট’ শুক্রবার (১১ মে) রাতে ‘স্পেসএক্স’-এর আপগ্রেড ভার্সন রকেট ‘ফ্যালকন ৯’-এর মাধ্যমে কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে।


ইউরোপের সর্ববৃহৎ স্যাটেলাইট প্রস্তুতকারক ফরাসী-ইটালীয় কোম্পানি থালেস এলেনিয়া স্পেস বাংলাদেশের জন্য স্যাটেলাইটটি তৈরি করেছে। এতে আছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার, যেগুলোর অর্ধেক প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ভাড়া দেয়া হবে যোগাযোগ সেবার কাজে ব্যবহারের জন্য। কাজটি এই অঞ্চলে এতদিন শুধু ভারতই করে আসছিলো।


কাছেই বাংলাদেশের এই স্যাটেলাইট দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোকে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে তীব্র আর্থিক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারে।


স্যাটেলাইটের ক্ষমতা: যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় রেডিও, টিভি ও ইন্টারনেট কানেকটিভিটি প্রদানের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এটি কক্ষপথের জিওস্টেশানারি অবস্থানে থাকবে। যার মানে হলো এটি পৃথিবীর ওপর একটি অবস্থানে স্থির থাকবে কারণ এর কক্ষপথ পরিভ্রমনের সময় ঠিক ২৪ ঘন্টা। এই অবস্থানে থাকার ফলে স্যাটেলাইটটি গ্রাউন্ড স্টেশনগুলোর সঙ্গে কৌশলগত, নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে পারবে।


ভারতেরও জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট রয়েছে।

তার ১১টি যোগাযোগ স্যাটেলাইট এখন কক্ষপথে।


ভূমিতে সমস্যা: তবে বাংলাদেশের জন্য সবকিছু ফুলশয্যার মতো হবে না। মসৃণ স্যাটেলাইট সার্ভিসের জন্য যে দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে সেগুলো এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি। গাজীপুর ও রাঙ্গামাটিতে স্থাপিত দুই গ্রাউন্ড স্টেশনের মধ্যে ফাইবার অপটিকের মাধ্যমে কানেকটিভিটি তৈরির কাজ বাংলাদেশের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ‘বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-কে দেয়া হয়েছিলো। সংবাদ মাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, এ কাজে বিটিসিএল তেমন অগ্রগতি করতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশে টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিসিএল) কাজটি কোন বেসরকারি কোম্পানি, বিশেষ করে সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেডকে দেয়ার কথা বিবেচনা করছে।


কক্ষপথে সুস্থির হয়ে বসতে স্যাটেলাইটটির অন্তত এক মাস লাগবে।


কেন স্পেসএক্স রকেট?: কাছেই ভারতের মহাকাশ সংস্থা-আইএসআরও-কে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উৎক্ষেপনের জন্য স্পেসএক্স-এর সবচেয়ে বড় মানিমেকার ফ্যালকন ৯ রকেট বেছে নেয়। ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালের উৎক্ষেপন কমপ্লেক্স ৩৯এ থেকে এই রকেট উৎক্ষেপন করা হয়। চন্দ্র বিজয়ী এপোলো-১১-এর ঐতিহাসিক যাত্রা হয়েছিলো এখান থেকেই।


তবে বাংলাদেশ তার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের কাজে ব্যয় সাশ্রয় নাকি প্রতিযোগিতার জন্য স্পেসএক্স বেছে নিলো তা পরিষ্কার নয়।


অবশ্য বঙ্গবন্ধু-১ এর মতো ৩,৫০০ কেজি ওজনের কোন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের সামর্থ্য ভারতীয় রকেটের নেই। এ ধরনের স্যাটেলাইটের জন্য কক্ষপথের যে উচ্চতায় পৌছাতে হয় সে কাজে অনেক শক্তিশালী রকেট প্রয়োজন। ভারতের জিএসএলভি এমকে-২ মাত্র ২,৫০০ কেজি ভার বহন করতে পারে।


তবে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে ভারতের প্রতিবেশি দেশগুলো একে একে স্যাটেলাইটের আঙ্গিনায় প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ফলে এই অঞ্চলের আকাশে এতদিন দেশটির যে একচেটিয়া আধিপত্য ছিলো তার অবসান হতে চলেছে।

 

- সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top