নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানি ২৫ জুন | daily-sun.com

নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানি ২৫ জুন

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ মে, ২০১৮ ১৭:৩৩ টাprinter

নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানি ২৫ জুন

 

নাইকো দুর্নীতি মামলায় চার্জ (অভিযোগ) গঠন সংক্রান্ত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ জুন ধার্য করেছেন আদালত। রবিবার (১৩ মে) পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মাহমুদুল কবীর আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী শুনানির জন্য নতুন এ দিন নির্ধারন করেন।

ওই তারিখে আসামিদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন আদালত।


আদালতে মওদুদ আহমদের পক্ষে মামলাটি চার্জ শুনানির জন্য ধার্য ছিল। তবে এদিন মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া অন্য মামলায় কারাগারে থাকার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। মামলার দুই আসামি শহীদুল ইসলাম ও একে মোশাররফ হোসেনের পক্ষের সময়ের আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা।


গত ৫ মে আসামি বাপেক্সের সাবেক কোম্পানি সচিব মো. শফিউর রহমান মারা যাওয়ার বিষয়টিও অবহিত করে শুনানি পেছানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী।


আদালত সূত্র জানায়, মামলাটিতে ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম), জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, বাপেক্সের সাবেক কোম্পানি সচিব মো. শফিউর রহমান এবং প্রাক্তন সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইনের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অভিযোগ শুনানি করে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছেন। অপরদিকে খালেদা জিয়াসহ ৬ আসামির পক্ষে অদ্যাবধি চার্জ শুনানি হয়নি।


মামলার বিবরণে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুটি আবিষ্কৃত গ্যাসফিল্ড পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। নাইকো রিসোর্সেস বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বিনা টেন্ডারে এবং সরকারি নিয়মনীতিবহির্ভূতভাবে ছাতক ও ফেনী গ্যাস ক্ষেত্রের গ্যাস উত্তোলনের সুযোগ দেয়।

এর মাধ্যমে সেখানে মজুদ ২৭৬২ বিসিএফ গ্যাসের মধ্য থেকে উত্তোলনযোগ্য ১৭৪৪ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলনের অবৈধ সুযোগ দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করে তৎকালীন বিএনপি সরকার।


এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তৎকালীন দুদকের সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।  


মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলাম ও নাইকো রিসোর্সেস বাংলাদেশের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।


২০০৮ সালের ৫ মে তৎকালীন দুদকের সহকারী পরিচালক সাহিদুর রহমান খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং দুদকের ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।


চার্জশিটের অন্য আসামিরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সাবেক সচিব খন্দকার শাহিদুল ইসলাম, নাইকো রিসোর্সেস লিমিটেড দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসেন, বাপেক্সের সাবেক ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক কোম্পানি সচিব মো. শফিউর রহমান, ওয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সেলিম ভূঁইয়া।

 


Top