কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আমাদের বিশ্বাস রাখা উচিত: কাদের | daily-sun.com

কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আমাদের বিশ্বাস রাখা উচিত: কাদের

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ মে, ২০১৮ ১৫:৪০ টাprinter

কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আমাদের বিশ্বাস রাখা উচিত: কাদের

 

কোটার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে যা বলেছেন, তাতে সবার বিশ্বাস রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়ে কখন কথা ব্রেক করেন না।

রবিবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।


একই সঙ্গে গেজেট জারি না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কোটার বিষয়টি ফায়সালা করে দিয়েছেন। কোটা থাকবে না। এরপর কখন গেজেট হবে, হলো কী হলো না...এটা নিয়ে তো একটা চিন্তা-ভাবনাও আছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আছে, প্রতিবন্ধী আছে, অনুন্নত জেলা আছে, মুক্তিযোদ্ধা আছে, নারী আছে। এখানে সুসমন্বিত কিছু করার একটি চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে।


তিনি বলেন, এর মধ্যে তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক দিন বিদেশেও ছিলেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি থেমে নেই। যার জন্য কোটার আন্দোলন, সেখানে তো কোটাটাই বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে বসে যা বলেছেন, তাকে আমাদের বিশ্বাস করা উচিত। কারণ, তিনি কথা দিয়ে কখন কথা ব্রেক করেন না।


ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, (প্রধানমন্ত্রী) পার্লামেন্টে যা বললেন সেটার আবার গেজেট প্রকাশের জন্য আন্দোলনের হুমকি, এটা বোধহয় সমীচীন হচ্ছে না। আমি ছাত্র সমাজকে বলব, তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির ব্যাপারে সরকার খুবই সহানুভূতিশীল এবং সরকার সক্রিয়। যৌক্তিক সমাধানের সব রকম প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। কাজেই আমি তাদের বলব একটু ধৈর্য্য ধরতে। অনতিবিলম্বে তারা সমাধান পেয়ে যাবেন। এই নিয়ে আন্দোলন পরীক্ষা, ক্লাস বর্জন করা...এমনিতে অনেক ক্ষতি আমাদের হচ্ছে।


আওয়মী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘আমি আশা কার তারা (আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী) ক্যাম্পাসে ফিরে যাবেন। পড়াশোনায় ফিরে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর কথা এদিক-সেদিক হওয়া...প্রধানমন্ত্রী এমন মানুষ তিনি একটি কথা বলে সেখান থেকে তা নড়ন-চড়ন হবে সেটা মনে করার কোনো কারণ নেই।’


ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘এখানে যদি কেউ রাজনীতি করতে চান, তাহলে ভিন্ন কথা। যৌক্তিক সমাধান যারা চান...একটা গেজেট কখন হলো কি না হলো; প্রধানমন্ত্রীর মুখের কথা, সেটাতে তো আস্থা স্থাপন করা উচিত। বিশ্বাস করা উচিত। আমি এই কথাটা বলতে চাই।’


এদিকে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আগামীকাল সোমবার (১৪ মে) সকাল ১০টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১৩ মে) প্রজ্ঞাপনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদেরর আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ৩২ দিনেও কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন হয়নি। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমরা আজ বিক্ষোভ করেছি। আমরা কোটা বাতিল চাই না। আমরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছি। আপনারা চাইলে বিশেষ কারো জন্য কোটা রাখতে পারেন। তবে সেটি হতে হবে আমাদের পাঁচ দফা দাবির ভিত্তিতে। যদি আজ (রবিবার) বিকেল ৫ টার মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না করা হয় তবে সোমবার সকাল ১০টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন করবে শিক্ষার্থীরা।


উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ৮ এপ্রিল থেকে চারদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বড় আকারে আন্দোলন করেন। পর দিন সচিবালয়ে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীরা। বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাদের অত্যন্ত সুন্দর আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের বলেছি- আগামী ৭ মের মধ্যে সরকার বিদ্যমান কোটার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। সেই পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। এ সময় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনও ৭ মে পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর ৯ এপ্রিল রাতে আন্দোলন স্থগিত হয়ে যায়। তবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক বক্তব্য কেন্দ্র করে ১০ এপ্রিল থেকে ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসার দাবি জানান। ১১ এপ্রিল শাহবাগ এবং ঢাকার অন্যত্র সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে সরব হন। দেশের নানা জায়গায় সড়ক অবরোধ হয় এ দাবিতে। ১১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দেখা করেছেন। তিনি সব ধরনের কোটা বাতিলের কথা বলেছেন। এদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। পর দিন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করেন। তবে ওই দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে আসছে আন্দোলনকারীরা। এর দুই সপ্তাহ পর গত ২৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে এপ্রিল মাসের মধ্যেই কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি ও মামলা প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পর দিন ২৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। রাত ৯টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন সংসদ সদস্য ভবনে (ন্যাম ভবন) জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠক শেষে কোটা সংস্কার আন্দোলন ৭ মে পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। 


সর্বশেষ গত ২ মে সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের ক্ষোভ থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ছাত্ররা কোটাব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেয়া হয়েছে।

 
প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ। সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান এ কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে গত দুই মাস ধরে।


আরও পড়ুন:

 

বিকেলের মধ্যে প্রজ্ঞাপন না হলে সোমবার থেকে ক্লাস বর্জন

 

 


Top