ভারতের সঙ্গে সীমান্ত প্রতিরক্ষা চুক্তি সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: রিজভী | daily-sun.com

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত প্রতিরক্ষা চুক্তি সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: রিজভী

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ মে, ২০১৮ ১৪:২২ টাprinter

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত প্রতিরক্ষা চুক্তি সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: রিজভী

 

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে না জানিয়ে এধরনের দেশবিরোধী চুক্তির খবরে গোটা জাতি হতভম্ব ও চিন্তিত হয়ে পড়েছে।

রবিবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।


তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ঋণ বাস্তবায়ন এবং সার্বিক সহযোগিতার বিস্তার ঘটাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে কি না, সেই সংশয় এখন বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।


বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, সকল জনমতকে উপেক্ষা করে আকস্মিকভাবে বাংলাদেশ-ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। অবিলম্বে এ গোপন চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশের জোর দাবি জানাচ্ছি।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আসলেই নাচের পুতুলের ভূমিকাই পালন করছেন। এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে বলে বিশিষ্টজনরা মনে করেন। ভারত আমাদের সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তিন দিক দিয়েই সীমান্ত রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে সীমান্ত প্রতিযোগিতা। তাদের সঙ্গে সীমান্ত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। দেশের মানুষকে না জানিয়ে এধরনের দেশবিরোধী চুক্তির খবরে গোটা জাতি হতভম্ব ও চিন্তিত হয়ে পড়েছে।


রিজভী বলেন, দেশবাসী মনে করে আবারও ক্ষমতা দখল করতে দেশবিরোধী এই গোপন চুক্তি করেছে সরকার। বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভিন দেশের এক্সটেনশন হতে দেওয়া যাবে না। অবিলম্বে গোপন চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।


এ সময় বিএনপির এ নেতা অভিযোগ করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের প্রধান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভিত্তিহীন মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারবন্দি রেখে এখন তার স্বজনদেরও দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। গত ১০ দিন ধরে পরিবারের কোনো সদস্য তার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। পরিবারের স্বজনসহ আমরা দেশনেত্রীর শারীরিক অবস্থার কোনো খবর পাচ্ছি না। বিএনপির নেতাকর্মীরাসহ দেশবাসী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন।


তিনি বলেন, অবিলম্বে তার (খালেদা জিয়া) পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ করে দিতে এবং সুচিকিৎসাসহ নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। তাকে মুক্তি না দিলে অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্তের জন্য সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে কঠিন খেসারত দিতে হবে। বেগম জিয়ার মুক্তির ওপর নির্ভর করবে আগামী জাতীয় নির্বাচন। তাকে বন্দি রেখে আগামী একদলীয় ফ্যাসিবাদী নির্বাচন করার উদ্যোগ নিলে কঠিন প্রতিরোধে তা নস্যাৎ করা হবে।


খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি। সেখানে এখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সন্ত্রাসী তাণ্ডব চলছে। নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীনদের দাপটে খুলনা মহানগর জুড়ে এখন শুধুই আতঙ্ক।


তিনি বলেন, ধানের শীষের প্রার্থী ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ১৯টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলেও নির্বাচন কমিশন অভিযোগগুলো আমলে নেয়নি। ইসি নির্বিকার ও নীরব দর্শক। নির্বাচন কমিশন জেগে থেকে ঘুমিয়ে থাকার ভান করছে।


সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চোয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, আবদুস সালাম, সহপ্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

 


Top