করপোরেট কর কমানো হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী | daily-sun.com

করপোরেট কর কমানো হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ মে, ২০১৮ ২২:১৮ টাprinter

করপোরেট কর কমানো হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

 

আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় করপোরেট কর হার কমানো হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, তরুণদের ওপর বিশ্বাস রেখে এবার করপোরেট কর হার কমাচ্ছি।

কারণ খেয়াল করেছি, প্রচুর তরুণ এখন কর দিতে আগ্রহী।   শনিবার (১২ মে) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাক-বাজেট আলোচনায় একথা বলেন অর্থমন্ত্রী।


একই সঙ্গে আগামী ২০১৯-২০২০ অর্থবছর থেকে দুই স্তরের ভ্যাট ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এছাড়া তিনি জানান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথিউরিটি (বিডা) ‘ওয়ান স্টপ’ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রস্তাব জামা দেয়ার সাত মাসের মধ্যে বিনিয়োগ সহায়তা প্রদান করা যাবে।


তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বিষয়টি আগামী বাজেটে ঘোষণার পর পর্যালোচনা করা হবে।


সভায় অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি আলোচনায় অংশ নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খানসহ অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।


ড. এ বি মির্জা মো. আজিজুল ইসলাম বাংলাদেশের অবকাঠমোখাতের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং উন্নয়ন কাজের গুণগতমান নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার ফলে সরকারের টাকার অপচয়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নতি ব্যাহত হচ্ছে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আগামী বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী, অবকাঠামোখাতের উন্নয়নে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।

তিনি জানান, আমদানিকৃত এলএনজির সঙ্গে দেশীয় গ্যাসের সংমিশ্রন করার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে প্রদান করা এবং এলএনজির দাম যেন সহনীয় মাত্রায় থাকে সে বিষয়ে সরকার সচেতন রয়েছে।


বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন, ১৯৯১ সালে আমরা যখন ভ্যাট আইন করি তখন এটি বেশ প্রশংসিত হয়। এরপর ভ্যাট আইন সংস্কার পিছিয়ে গেছে। এ বাস্তবতায় ভ্যাট আইন সংস্কারে গতি সঞ্চার করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।


অনুষ্ঠানে চারটি বিষয়ের ওপর প্যানেল আলোচনা হয়। সেগুলো হলো- কর ও ভ্যাট, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ, আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজার সেশন।


কর ও ভ্যাট নিয়ে আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে ধাপে ধাপে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়।


বর্তমানে কোম্পানির লভ্যাংশের ওপর একাধিক পর্যায়ে কর দিতে হয়। এ নিয়ে বক্তারা বলেন, এ ব্যবস্থার ফলে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হন। প্রদেয় কর অনেক সময় ফেরত পাওয়া যায় না- অভিযোগ করে তারা কোম্পানির লভ্যাংশের ওপর কর যাতে একবারই দেওয়া যায় সেই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেন।

 


Top