খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে বিএনপির চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | daily-sun.com

খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে বিএনপির চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ মে, ২০১৮ ২০:২২ টাprinter

খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে বিএনপির চিঠি  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

- ফাইল ফটো

 

খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে বিএনপির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর দেয়া চিঠি এখনও তার হাতে পৌঁছায়নি বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তবে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসদের দেয়া একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদন দেখে কারাবিধি অনুযায়ী এখন তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হবে।


শনিবার (১২ মে) সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে প্রকৌশলীদের প্রতিনিধি সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসায় কারা অধিদফতর কর্তৃক গঠিত চিকিৎসক কমিটির প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে, কিন্তু এটি এখনো আমার হাতে পৌঁছায়নি। প্রতিবেদন দেখে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে আমাদের সরকারের চিকিৎসকরা দেখছেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার (খালেদা জিয়ার) স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ চিকিৎসকরা যদি মনে করেন তার আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, তাহলে আমরা তাদের পরামর্শ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।


খুলনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খুলনায় পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। সেখানে পরোয়ানাভুক্ত যেসব আসামি আছে পুলিশ তাদের ধরছে। এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই করছে পুলিশ। কোনো সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে না।


অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আইডিইবির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এ কে এম এ হামিদ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান।


অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর কাছে প্রকৌশলীদের নানা সমস্যা ও কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে প্রকৌশলীদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার মেনে নেবে বলে আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।  গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৯৪ দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


গত ৮ মে (মঙ্গলবার) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে আপিল বিভাগের শুনানি শুরু হয় এবং বুধবার (৯ মে)  শেষ হয়। আগামী ১৫ মে আদেশের দিন ধার্য করেছেন আদালত।


দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এর আগে একবার কারাগারে যেতে হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাবজেল ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছিল তাকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর তিনি দুর্নীতি মামলায় দ্বিতীয় বার জেলে যান।

 


Top