হাসপাতালের মাঠে সন্তান প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু | daily-sun.com

হাসপাতালের মাঠে সন্তান প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ মে, ২০১৮ ১৭:০৪ টাprinter

হাসপাতালের মাঠে সন্তান প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু

চিকিৎসা না দিয়ে রাতেই হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয় এক প্রসূতি মাকে। এর পর পরই খোলা আকাশের নীচে সন্তান প্রসব করেন তিনি।

কিন্তু সদ্য ভূমিষ্ট পুত্র সন্তানটিকে বাঁচানো যায়নি। প্রসূতি মা মরিয়ম বেগমও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বুধবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

প্রসূতি মায়ের স্বজনদের অভিযোগ, সকালে প্রচণ্ড প্রসব বেদনা উঠলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় মরিয়ম বেগমকে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন তাকে দেখার পর সিনিয়র নার্স ছায়া চৌধুরীর কাছে পাঠান।

 

অভিযোগ উঠেছে, নার্স ছায়া চৌধুরী কোনো কথা না শুনেই মরিয়মের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এক পর্যায়ে জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন তাকে।

মরিয়মের চাচী শাশুড়ি আবিয়া খাতুন বলেন, বের করে দেয়ার মাত্র দুই তিন মিনিটের মাথায় হাসপাতালের মাঠে খোলা আকাশের নীচেই মরিয়ম সন্তান প্রসব করে। এ সময় শিশুটি নিস্তেজ পয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে লোহাগাড়া বেসরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।

 

 

রাতে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাসপাতালের সিনিয়র নার্স ছায়া চৌধুরীকে দিয়ে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে দেখলাম বাচ্চা উল্টো দিকে আছে। রোগীর প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে। এটা রিক্স, স্বাভাবিক প্রসবও অসম্ভব। তাই আমরা হাসপাতালে রাখতে চাইনি।

 

 

তিনি বলেন, আমরা প্রসূতিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি। কিন্তু তারা জানান, অত্যন্ত গরীব। চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেয়ার মত সাধ্য নেই। এরপর প্রসূতিকে নিয়ে তারা হাসপাতালের বাইরে গিয়ে অবস্থান নেন।

 

 

ডা. মামুন বলেন, এসময় প্রসূতির সাথে থাকা ধাত্রী নারী মরিয়মের গর্ভ থেকে বাচ্চা টেনে বের করে ফেলেন। এই খবর শুনেই আমি সাথে সাথে ঘটনাস্থলে যাই এবং পরীক্ষা করে দেখি বাচ্চা মৃত। মরিয়ম বেগম উপজলোর গৌড়স্থান এলাকার দিন মজুর মহরম মিয়ার স্ত্রী।

 

 

হাসপাতালের গাইনি কনসালটেন্ট ডা. কানিজ নাছিমা আক্তার বলেন, আমি আজ ছুটিতে আছি, গতকালও আমি দায়িত্ব পালন করেছি। স্বাভাবিক বা সিজার সব ধরনের প্রসবের ব্যবস্থা হাসপাতালে আছে। গতকাল আমাকে হাসপাতাল থেকে কেউ জানায়নি। তাই এই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। তবে হাসপাতালে প্রসূতি মায়েদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা আছে।

 

 

প্রসবের পরও কেন মুমূর্ষু  প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করাননি জানতে চাইলে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি রোগীর প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে, তাই তাকে রক্ত দেয়া লাগবে। এ রকম রোগীকে ১ থেকে ১০ ব্যাগ পর্যন্ত রক্ত দেয়া লাগে। এছাড়া তার রক্ত গ্রুপ জানা নেই। 

 

 

লোহাগাড়া জেলারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৌহিদুল ইসলাম জানান, রাত ১২টার দিকে উপজেলার পদুয়ার মরিয়ম নামে এক প্রসূতি নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। তাকে ভর্তি নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও রক্ত দেয়া হয়েছে। তার রক্ত গ্রুপ রক্ত ‘বি’ নেগেটিভ। বর্তমানে মোটামুটি সুস্থ আছেন তিনি। 

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হানিফ বলেন, রাতে আমি ছিলাম না। সকালে এসে শুনেছি। এই বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ভালো বলতে পারবেন। তবে চিকিৎসা না দিয়ে বাইরে বের করে দেযার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

 


Top