গাজীপুর সিটি নির্বাচনের স্থগিতাদেশ স্থগিত, ২৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন করার নির্দেশ | daily-sun.com

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের স্থগিতাদেশ স্থগিত, ২৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন করার নির্দেশ

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ মে, ২০১৮ ১৩:১৯ টাprinter

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের স্থগিতাদেশ স্থগিত, ২৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন করার নির্দেশ

 

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ওপর দেয়া হাইকোর্টের তিন মাসের স্থাগিতাদেশ বাতিল করে আগামী ২৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন করা নির্দেশে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার (১০ মে) দুপুর ১টার দিকে এই আদেশ দেন।

 

এর আগে সকালে শুনানি শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে। এরপর আদালত শুনানি সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মুলতবি রাখে। মুলতবির পর শুনানি আবার শুরু হয়।


শুনানিতে আদালতে ইসির পক্ষে শুনানি করেন মো. ওবায়দুর রহমান (মোস্তফা)। হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে জয়নুল আবেদীন, জাহাঙ্গীরের পক্ষে এ এম আমিন উদ্দিন এবং রিটকারী সুরুজের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ।


এর আগে (৭ মে) হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। এর পরের দিন ৮ মে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। দু’জনের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৮ মে) চেম্বার জজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী শুনানির জন্য বুধবার (৯ মে) দিন ধার্য করেন। পরে বুধবার (৯ মে) ইসির আবেদনের কারণে শুনানি একদিন পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়।


এর আগে রবিবার (৬ মে) গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।


আদেশে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ছয়টি মৌজাকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা গেজেট এবং গাজীপুর সিটি নির্বাচনসংক্রান্ত তফসিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সচিব, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সিটি কর্পোরেশন-২), ঢাকা জেলা প্রশাসক, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ৯ জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।


আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী বিএম ইলিয়াস কচি। নির্বাচন স্থগিতে চারটি যুক্তি আদালতে তুলে ধরেন ইলিয়াস। তিনি জানান, ২০১৩ সালে এ ছয়টি মৌজাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তখন বিষয়টি নিয়ে এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজ আবেদন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রাহ্য না করায় হাইকোর্টে রিট করার পর আদালত আবেদনটি পুনর্বিবেচনা করতে নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে ২০১৬ সালে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে এ ছয়টি মৌজা শিমুলিয়ার মধ্যেই ছিল। নির্বাচনে আজহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এখন আবার এ ছয় মৌজাকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেহেতু তিনি ছয়টি মৌজার ভোটেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই এ ছয়টি মৌজাকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন।


প্রসঙ্গত, ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত। এখানে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। ৪ মার্চ সিটি করপোরেশনের সীমানা নিয়ে গেজেট জারি হয়। যেখানে শিমুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়বাড়ী, ডোমনা, শিবরামপুর, পশ্চিম পানিশাইল, পানিশাইল ও ডোমনাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


আগামী ১৫ মে ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করে ৩১ মার্চ গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে ৭ মেয়র, ২৫৬ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৮৪ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী লড়ছেন । ইতিমধ্যে এই নির্বাচনের প্রচার জমেও উঠেছিল। এর মধ্যেই নির্বাচনে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 


Top