রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীদের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে অরবিস | daily-sun.com

রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীদের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে অরবিস

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ মে, ২০১৮ ১৪:৩০ টাprinter

রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীদের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে অরবিস

অরবিস ইন্টারন্যাশনাল কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থী ও স্থানীয় জনগণকে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা প্রদান করছে।

 

অরবিস ইন্টারন্যাশনালের চীফ অব প্রোগ্রামস্ ডা: ড্যানী হাদ্দাদ শরণার্থী ক্যাম্পে দু’দিনের সফর শেষে বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থী সহ কক্সাবাজারের স্থানীয় জনগণের চক্ষু চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অরবিস।

কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থী ও স্থানীয় জনগণের চোখের চিকিৎসায় বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, ঔষধ ও চশমা সরবরাহসহ চোখের (জটিল ছানি ও অন্যান্য) অপারেশনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।’

 

কক্সবাজারে দু’দিনের (মে ৭ - ৮) সফরে ডা: ড্যানী হাদ্দাদ-এর সাথে ছিলেন অরবিস ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া রিজিওনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ক্লেয়ার সেজলী টিম্বো, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা: মুনীর আহমেদ ও ডিরেক্টর অব প্রোগ্রামস মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, কক্সবাজার বায়তুশ শরফ হাসপাতালের জেনারেল সেক্রেটারি এম এম সিরাজুল ইসলাম এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সী ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস (আইএপিবি) -এর রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর ইয়োদ্দা ধ্বজ সাপকোটা এবং সেবা ফাউন্ডেশনের কন্সালটেন্ট জেরী ভিনসেন্ট।

 

সফরে ড্যানী হাদ্দাদ উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে চক্ষু পরীক্ষা কার্যক্রম, শিশু বান্ধব কেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কো-অর্ডিনেটর ‘মাঝি’ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে আলোচনায় যোগ দেন।

 

এছাড়া সফররত দলটি বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম এনডিসি’র সাথে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম বিষয়ে মত বিনিময় করেন।

 

রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে চক্ষু পরীক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় ড্যানী হাদ্দাদ ক্যাম্পে আগত রোগীদের সাথে কথা বলে তাদের চোখের সমস্যা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি কক্সবাজার বায়তুশ শরফ হাসপাতালে একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী রোগীর চোখের চিকিৎসা ও অপারেশননের পরে রোগীর চোখ থেকে ব্যান্ডেজও খুলে দেন।

 

কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মাধ্যমে ‘কাতার ক্রিয়েটিং ভিশন (কিউসিভি) এক্সপান্ডিং আই কেয়ার ইন সাউথ ইস্ট বাংলাদেশ’ প্রকল্পটি এ পর্যন্ত প্রায় ১২,০০০ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কের চক্ষু পরীক্ষার পাশাপাশি, ঔষধ ও চশমা বিতরণসহ চোখের অপারেশনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কর্মীদের চোখের স্বাস্থ্য পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম চলমান আছে।

 

এ প্রকল্পের আওতায়, অদূর ভবিষ্যতে কক্সবাজার বায়তুস্ শরফ হাসপাতালে একটি বিশেষায়িত শিশু বান্ধব চক্ষু বিভাগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। শরণার্থী ক্যাম্প ছাড়া স্থানীয় জনগণের চক্ষু সেবায় ভিশন সেন্টার (প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র) স্থাপন ও মোবাইল ইউনিটের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পের শিশু ও নারীদের চক্ষু পরীক্ষা করা হবে।

 

অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

অরবিস ইন্টারন্যাশনাল ১৯৮৫ সালে প্রথম বাংলাদেশে এসে চিকিৎসা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে। আর দীর্ঘ মেয়াদী কর্মসূচি শুরু করে ২০০০ সাল থেকে। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ১৪টি সহযোগী চক্ষু হাসপাতালের মাধ্যমে অরবিস এ পর্যন্ত ২৩,২৯৯ জন চক্ষু চিকিৎসকসহ নার্স, প্যারামেডিকস্, মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থকর্মীদের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকারবার প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। এছাড়া প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের চোখ পরীক্ষা ও ৩৬ লক্ষ রোগীর চিকিৎসা সম্পন্ন করেছে। বিনামূল্যে চোখে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ২ লক্ষের বেশি রোগীর দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছে।

 

বর্তমানে অরবিস বাংলাদেশে শিশু ও ডায়াবেটিকজনিত অন্ধত্বের উপর গুরুত্ব প্রদান করছে। একই সঙ্গে সব ধরনের পরিহারযোগ্য অন্ধত্ব নিবারণে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের ন্যাশনাল আই কেয়ারের সাথে। ঙৎনরং প্রথম শিশু অন্ধত্ব নিবারণের জন্য ১২টি বিশেষায়িত শিশু বান্ধব চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। যার মাধ্যমে দেশের শিশুরা চোখের চিকিৎসা সেবা নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি, ১৯টি ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে চোখের চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া সহ ঙৎনরং-ই এদেশে প্রথম সক্রিয় ও সফল চক্ষু ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি হাসপাতালে।

 

কক্সবাজার বায়তুশ শরফ হাসপাতাল

কক্সবাজার বায়তুশ শরফ হাসপাতাল একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত চক্ষু হাসপাতাল। স¤পূর্ণ অলাভজনক ভাবে পরিচালিত এ হাসপাতালটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর, সকল পেশার, সকল মানুষের চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র। এ অঞ্চলের দরিদ্র জনগণকে অন্ধত্বের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য বায়তুশ শরফ দরবার শরীফের মরহুম পীর কেবলা হাদিয়ে যামান শাহ সুফী আলহাজ হযরত মাওলানা আব্দুল জাব্বার (রহঃ) ১৯৯২ সালে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন।

 

বর্তমানে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ হাসপাতাল চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রমের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের (১৫ বছরের উর্ধ্বে) জন্য ‘হাসপাতাল সেবা’ এবং গ্রামের ও দুরবর্তী এলাকার মানুষের জন্য মাঠ পর্যায়ে ‘চক্ষু চিকিৎসা শিবির’ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে অন্ধত্ব দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছে। পাশপাশি ‘সমাজ ভিত্তিক পুনুর্বাসন কার্যক্রম’ এর মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের ক্ষমতায়ন ও সার্বিক উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।


Top