মৃত ভেবে লাইফ সাপোর্ট খোলার মুহূর্তে বেঁচে উঠল কিশোর! | daily-sun.com

মৃত ভেবে লাইফ সাপোর্ট খোলার মুহূর্তে বেঁচে উঠল কিশোর!

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ মে, ২০১৮ ১৮:৩০ টাprinter

মৃত ভেবে লাইফ সাপোর্ট খোলার মুহূর্তে বেঁচে উঠল কিশোর!

মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার পর ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের বাঁচার কোনো আশাই ছিল না। তার বাবা-মা তার দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করে দেয়ার কাগজে স্বাক্ষরও করে ফেলেছিলেন।

এর পরপরই সবাইকে অবাক করে দিয়ে জ্ঞান ফিরে পায় কিশোর ট্রেন্টন ম্যাককিনলে।

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা রাজ্যের ট্রেন্টন দুইমাস আগে এক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পায়। গাড়ির পেছনে লাগানো একটি ট্রেলার থেকে সে পড়ে যাওয়ার পর ট্রেলারটিও উল্টে তাকে চাপা দিলে ট্রেন্টনের খুলি সাত জায়গায় ভেঙ্গে যায়।

ডাক্তাররা জানান, ট্রেন্টন আর কখনোই সুস্থ হবে না। কিন্তু তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে অন্য পাঁচটি শিশুকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

 

 

ট্রেন্টনের মা জেনিফার রেইনডল বলেন, তার ছেলের ওপর কয়েকটি জটিল সার্জারি করা হয়েছে, তার কিডনি কাজ করছিল না এবং হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

 

 

একসময় অপারেশনের টেবিলে ১৫ মিনিটের জন্য ট্রেন্টনের শরীরে প্রাণের কোনো সাড়া ছিল না বলে জানান তার মা। এর পর ডাক্তাররা বলেন, ট্রেন্টন আর কখনোই সুস্থ হয়ে উঠবে না।

 

 

মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজকে রেনডল বলেন, তিনি যখন জানতে পারেন তার ছেলের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে আরও পাঁচটি শিশুকে বাঁচানো সম্ভব, তখন তিনি সেগুলো দান করে দেয়ার কাগজে স্বাক্ষর করেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রেন্টনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে রাজি হওয়ার পর ডাক্তাররা তাকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিল তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো পরিষ্কার করার জন্য। ’

 

‘পরদিন শেষবারের মত ট্রেন্টনের ব্রেইন ওয়েভ টেস্ট বা মস্তিষ্কের তরঙ্গের পরীক্ষা করে তার মৃত্যুর সময় নির্ধারণ করার কথা ছিল। এসময় ট্রেন্টনের প্রাণস্পন্দন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ওই পরীক্ষা বাতিল করে দেয়’ যোগ করেন রেনডল।

 

 

ট্রেন্টনের জ্ঞান ফিরে পাওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ট্রেন্টনের লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার আগের দিন তার জ্ঞান ফিরে আসার বিভিন্ন লক্ষন হঠাৎ বেড়ে যায়। ট্রেন্টন এখন খুব ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।

 

 

সংবাদমাধ্যমকে ট্রেন্টন জানায়, ‘আমি কংক্রিটের উপর পড়ে গিয়েছিলাম, ট্রেলারটা পড়েছিল আমার মাথার উপর। এরপর আর আমার কিছু মনে নেই। ’

ট্রেন্টন এখনও স্নায়ুর ব্যাথা ও খিচুনিতে ভুগছে এবং তার খুলির অর্ধেকটা জোড়া দিতে সার্জারি করতে হবে।

 

লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার আগ মুহূর্তে জেগে উঠল কিশোর 

 

ঘটনাটিকে মিরাকল আখ্যা দিয়ে রেনডল বলেন, ট্রেন্টন এখন হাঁটতে ও অংক করতে পারে। স্থানীয় একটি পত্রিকাকে ট্রেন্টন বলে, অজ্ঞান থাকার সময় তার মনে হচ্ছিল সে স্বর্গে আছে।

 

‘আমি একটা খোলা মাঠ ধরে সোজা হাঁটছিলাম। ঈশ্বর ছাড়া এর আর কোনো ব্যাখ্যা নেই’ বলছিলেন ১৩ বছর বয়সী ট্রেন্টন। তার পরিবার এখন চিকিৎসার ব্যয় বহনের জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছে।

 


Top