রাবি শিক্ষক রেজাউল হত্যায় ছাত্র শরিফুলসহ ২ জনের মৃত্যুদণ্ড | daily-sun.com

রাবি শিক্ষক রেজাউল হত্যায় ছাত্র শরিফুলসহ ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ মে, ২০১৮ ১৪:৩০ টাprinter

রাবি শিক্ষক রেজাউল হত্যায় ছাত্র শরিফুলসহ ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় ২ জনের ফাঁসি ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 


মঙ্গলবার (৮ মে) দুপুরে রাজশাহীর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মাত্র দুই বছরের মাথায় চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।


ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- প্রধান আসামি  একই বিভাগের ছাত্র শরিফুল ইসলাম (পলাতক) ও মাসকাওয়াত হাসান ওরফে আব্দুল্লাহ ওরফে সাকিব।


যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নীলফামারীর মিয়াপাড়ার রহমত উল্লাহ, রাজশাহীর নারিকেলবাড়িয়া এলাকার আবদুস সাত্তার ও তার ছেলে রিপন আলী। 

 


তবে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শরিফুল ইসলাম এখনো পলাতক। আবদুস সাত্তার রয়েছেন জামিনে। বাকি তিন আসামি কারাগারে। রায় ঘোষণার সময় ওই তিন জনের সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।


আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক বাবু। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম।


গত ২০ আগস্ট মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ৪২ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয় বেলা ১২টা ২০ মিনিটে।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক গত ১১ এপ্রিল শেষ হয়। পরে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ৮ মে দিন ধার্য করা হয়। রাজশাহীর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

 


রাজশাহীর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু গণমাধ্যমকে জানান, মামলায় মোট ৩২ জন সাক্ষী ছিলেন। তবে ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণার জন্য এদিন ধার্য করা হয়। তবে পুলিশ এখনও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মামলার প্রধান আসামি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের ছাত্র শরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

 

এর আগে ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল সকালে রাজশাহীর শালবাগান এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয় রাবির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে। এ ঘটনায় তার ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রায় সাত মাস তদন্তের পর ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আটজনকে আসামি করে তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজশাহীর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক রেজাউস সাদিক আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


ড. রেজাউল করিম হত্যা মামলার অভিযুক্ত ৮ আসামির মধ্যে খায়রুল ইসলাম বাঁধন, নজরুল ইসলাম ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান ও তারেক হাসান ওরফে নিলু ওরফে ওসমান এরইমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।


অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- বগুড়ার শিবগঞ্জের মাসকাওয়াত হাসান ওরফে আব্দুল্লাহ ওরফে সাকিব, নীলফামারীর মিয়াপাড়ার রহমত উল্লাহ, রাজশাহীর নারিকেলবাড়িয়া এলাকার আবদুস সাত্তার ও তার ছেলে রিপন আলী, রাবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শরিফুল ইসলাম। এর মধ্যে শরিফুল ইসলাম এখনও পলাতক। আবদুস সাত্তার জামিনে রয়েছেন। বাকি আসামিরা কারাগারে।

 

 

 


Top